বাতায়ন/সাপ্তাহিক/রম্যরচনা/২য় বর্ষ/৩৩তম সংখ্যা/৮ই চৈত্র, ১৪৩১
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
উপোসির সোমবার
ঝিঙাফুল
সিরিজ— ১০
"ঝিঙাফুল কী সুন্দর সেজেছে! সিফনের ফুল ছড়ানো শাড়িতে নিজেকে টাইট করে বেঁধেছে? মাথা ভর্তি চুল তুলে বেঁধে আবার ছেড়ে দিয়েছে। ভরাট শরীরের আবেদন ছড়িয়ে ও আমার কপালে বুকে হাত দিয়ে জরিপ করতে চাইল আমি কেন অসুস্থ।"
আজ দিনটা যা
খারাপ তা আর বলার নয়। গতরাতেই বউ আমাকে ভালোবেসেছে কিন্তু সতর্কতার বাণী শুনিয়ে
দিয়েছে এই শ্রাবণ মাসে আমি যেন ওর ধারে কাছেও না থাকি। ও অনেক উপোস করবে। মনটা
খারাপ। অফিসের কাজ ভালো লাগে না। বেতনের দিকেই লোভ, তাই মাসের দিনগুলো কোনক্রমে কাটাই আর
মন পড়ে থাকে বাড়িতে,
নতুন বিয়ে করা বউ আছে না? বাড়ি ফিরেই ওকে খুশি করে, ছুঁকছুঁক করি যদি একটিবার সুযোগ হয়, তাহলে সেটা
এক্সট্রা মানে বাড়তি পাওনা! কিন্তু এখন সেখানেও বিধিনিষেধের ব্যবস্থা করে দিয়েছে ঝিঙা। মনে খুব আনন্দ হয়েছিল ওর বাড়ি থেকেই আদেশ ছিল যেন তাড়াতাড়ি সুখবর
শোনানোর কাজটি বেশি বেশি করেই সেরে ফেলি। কপাল খারাপ হলে যা হয়, পেয়েও হাত
ছাড়া হল সেই সুযোগ। এটা একটা ফাঁড়া যাকে বলে আর কী?
মন খারাপ
নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকলাম। ঝিঙাফুল দরজা খুলে দিয়েই আমায় দেখে অবাক,
-চোখমুখ
এরকম কেন? কী
হয়েছে? শরীর
খারাপ নাকি?
আমি কিছু
বলার জন্য যাচ্ছিলাম ভালো করে চেয়ে দেখি ঝিঙাফুল কী সুন্দর
সেজেছে! সিফনের ফুল ছড়ানো শাড়িতে নিজেকে টাইট করে বেঁধেছে? মাথা ভর্তি
চুল তুলে বেঁধে আবার ছেড়ে দিয়েছে। ভরাট শরীরের আবেদন ছড়িয়ে ও আমার কপালে বুকে হাত
দিয়ে জরিপ করতে চাইল আমি কেন অসুস্থ।
আমি চমকে
উঠলাম,
-জল ঢালতে
চললে বুঝি?
ঝিঙাফুল
হেসে ফেললে,
-না গো আজ
ইচ্ছে হল সাজি। তোমায় দেখাব। কিন্তু তুমিই তো অসুস্থ হয়ে ফিরলে। মোগলাই আর কষা
করেছিলাম তুমি খাবে বলে...
-কেন উপোস
করোনি? তুমি
যে কাল বললে,
-না গো
করিনি। ভাবলাম তোমার আবার উপোস হয়ে যাবে। তবে পরের সোমবারই শুধু করব।
আমার মুখ
হাসিতে ভরে গেল। কোথায় অসুস্থতা, কোথায় মন খারাপ? আমি বউকে জাপটে ধরলাম,
-এইতো তোমার
বুদ্ধি খুলেছে। এই যুগে কেউ উপোসটুপোস করে নাকি?
-আচ্ছা, আচ্ছা সব
বুঝে গেছি, এখন
ছাড়ো পরে আদর কোরো, আগে ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে নাও তারপর ওইসব
হবেখন...
জমিয়ে খেলাম
দুজনে। কী বানিয়েছে? মোগলাই আবার মটন কষা! ঝিঙা কী করে শিখল?
-আহা! কী সুন্দর রেঁধেছ?
-সত্যি বলছ?
-সত্যি
সত্যি সত্যি, তিন
সত্যি হলো তো? আর
তোমাকে যা দেখতে লাগছে না?
-কেন
গ্রামের মেয়ে না?
-আহা! অপরূপা! আবার খুব সেক্সিও লাগছে!
-নাও, তোমার তো মজাই মজা না?
-না, ভাবো
তোমাদের বাড়ি থেকেও তো একটা চাপ আছে না?
বউ বড় বড়
চোখে আমায় মাপল,
-তার মানে কী? তোমার ইচ্ছে
বলে কিছু নেই যে আমি মা হই?
খালি নিজের ফুর্তি মিটলেই হলো?
-না, না আমি তো
পুরো কাজ শুরু করেই দিয়েছি,
তুমি এক মাসের মধ্যেই ভারী হয়ে যাবে, দেখো।
-মানে তুমি
সব পারো, আটকাতে
আবার খুলতেও, তাই-তো?
-নাও, নাও, চলো…
মনটাই সব। মন
ভালো রাখতে হয়। ঝিঙাফুল ভালো জানে কী করলে কী হয়। আমি বরং একটু বোকাই। মাঝেমধ্যে ভুল বুঝি। ও
উপোস করে ঠিকই কিন্তু তার আগে পেট ভরে খায়। মন ভরিয়ে দেয়।
এইসব ভাবছি।
ঘরের লাইট নিভে গেল। আমিও পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান ত্যাগ করেই এক লাফে বিছানায়।
-এমা! এ কী অবস্থা?
-তোমার
বেশভূষাহীন শিব!
সমাপ্ত
নিজের লেখা পড়ে নিজেই হাসছি। চাই সব্বাই হাসুক। সম্পাদকমশাই যে সে ব্যবস্থা করেই দিয়েছেন স্র উপোসি হপ্তে হবে না কাউকেই 😁
ReplyDeleteনিজের লেখা পড়ে নিজেই হাসছি। চাই সব্বাই হাসুক। সম্পাদকমশাই যে সে ব্যবস্থা করেই দিয়েছেন স্র উপোসি হপ্তে হবে না কাউকেই 😁
ReplyDeleteনিজের লেখা পড়ে নিজেই হাসছি। চাই সব্বাই হাসুক। সম্পাদকমশাই যে সে ব্যবস্থা করেই দিয়েছেন তাই উপোসি হতে হবে না কাউকেই 😁
ReplyDelete