প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, March 12, 2025

ধারা মাস ঝরা মাস | ঝিঙাফুল সিরিজ— ৯ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/রং/রম্যরচনা/২য় বর্ষ/৩তম সংখ্যা/২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩১

রং | রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
ধারা মাস ঝরা মাস
ঝিঙাফুল সিরিজ— ৯

"তাড়াতাড়ি লাইটের সুইচটা টিপে দিয়েই সটান বিছানায় উঠেই বউয়ের আস্তানায় মুখ লুকালামআর ঝিঙাফুলের নরম কানে কান লাগিয়ে জানতে চাইলাম"

 

শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে সবে ফ্ল্যাটের লকে চাবি ঢুকিয়েছি পাশের ফ্ল্যাটের এক উপযাচী, উপকারী মহিলা ঝিঙাফুলের সামনে চলে এলেন,
-কি এখনই ফেরা হচ্ছে? হ্যাঁ, হ্যাঁ তাই দেখিনি দুদিন? আওয়াজ পেয়েই দৌড়ে এলাম যদি বলতে ভুলে যাই, তোমার আবার বড় অসুবিধা হবে।
-আচ্ছা আমি গিয়ে জেনে নেব'খন...
-জেনে নেবে মানে? আমি বলতে না পেরে পেট ফুলে মরে যাচ্ছি আর কী!
আমি চাবি না ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম, হয়তো-বা কোন শোক সংবাদ হবে।
-তাহলে আগে বলেই বাঁচুন।
মহিলা আমায় পাত্তাই দিলেন না, উপরন্তু ঝিঙাফুলকে বলতে লাগলেন,
-এই গোটা শ্রাবণ মাস মানেই বাবার জন্মমাস। বর্ষার ঝরায় বাবার মাথায় ধারা দিতে হবে কিন্তু!
ভীষণ টায়ার্ড তাই দুজনাই শুনেও না শোনার ভাণ করে ঘরে ঢুকে পড়লাম।

 
চারদিনেই ঘর অগোছালো। পরিষ্কার করার ইচ্ছে যায় হারিয়ে। শরীরের ধকল আর মনের নিরানন্দ। সুখের শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এসে ঝামেলায়! ঝিঙাফুলের অবস্থা আরো খারাপ। মাসখানেক মায়ের আদর খেয়ে আজ সে একেলা। তার উপর সংসারের এত কাজ! দেখছি ওর মুডটা ভীষণই খারাপ। তখনও জানি না ওর মাথায় আরো অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। যাইহোক পেটে কিছু দিতে চিঁড়ে মুড়ি খেয়ে নিলাম। আর অল্প প্রয়োজনীয় কিছু কাজ সেরে সোজা বিছানায়। বিছানার উপরের পাখা চালিয়ে আরাম খাচ্ছি। বউ আগেই শয্যা গ্রহণ করেছে। আমারও মন খারাপ, কাল থেকে অফিস যেতে হবে। বউও দেখি আনমনা।  আমি একটু এগিয়ে গিয়ে ওকে ছুঁলাম।
-কী চিন্তা করছ?
-কাল থেকে একমাস আর আমায় তুমি ছোঁবে না।
-কেন বলো তো?
-শুনলে না এটা বাবার মাস?
-তোমার বাবা কি এই মাসেই তোমাদের ছেড়ে চলে গেছিলেন? বাবা্‌‌ এই মহিলা তাও জানেন? কিন্তু আমি জানি না?
-তুমি কী তাই ভাবি! শহরে থাকো অথচ কোন জ্ঞান নেই? সব্বার বাবাকেও চেনো না?
-সব্বার? একজনই?
-ভোলে বাবা!
-ওহো! পাগলাভোলা শিববাবা!
-ছি! কী ভাষা? হ্যাঁ এই শ্রাবণ মাসেই ওনার জন্মমাস।
-ওহো! তাই? তাতে তোমায় ছুঁলে কী হবে?
-আমি এই একমাস উপোস থেকে বাবার মাথায় জল ঢালব...
-কিন্তু আমি কোথায় জল ঢালব? তোমাদের বাড়িতে যে কথা দিয়েছি, চারমাসেই ভাল খবর দেবো?
-তোমার আর অত চিন্তা করতে হবে না। অনেক সুবিধা নিয়েছ, এবার আর কোন সুযোগ পাবে না।
-সে কী? তুমিও কি নারীমুক্তি আন্দোলনে নাম লেখালে?
-অনেক হয়েছে। এবার আলোটা নেভাও!
 
মনটা আনন্দে ভরে উঠল কারণ ঝিঙাফুলকে আমি চিনি তো ও একটু বেশি বকে কিন্ত ভালবাসে অনেক। তাই তাড়াতাড়ি লাইটের সুইচটা টিপে দিয়েই সটান বিছানায় উঠেই বউয়ের আস্তানায় মুখ লুকালাম, আর ঝিঙাফুলের নরম কানে কান লাগিয়ে জানতে চাইলাম,
-আজ তো কোন বাধা নেই? যা কিছু নিয়ম হবার, হবে কাল থেকে... তাই তো?
বউ আর কিছুই শুনলে না আমাকে খুব জোরে চেপে ধরল অস্ফুট শব্দে চকচক করে উঠল ওর চোখ মুখ
-আমার অসভ্য একটা!
 
সমাপ্ত

2 comments:

  1. আন্তরিকভাবে আনন্দ পেলাম। এই আনন্দ বিলিয়ে দিলাম সর্বপ্রথম আমাদের শ্রদ্ধেয় সম্পাদক মহাশয়কে। সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সহযোগীবৃন্দ, পাঠককূলের জন্য রইল গভীর ভালবাসা, শুভেচ্ছা।

    ReplyDelete
  2. খুব ভাল লাগল। সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই ধারাবাহিক প্রকাশ করার জন্য। পত্রিকার শুভকামনা করি।

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)