বাতায়ন/ঝড়/যুগলবন্দি/৩য় বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩২
ঝড় | যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী
অজয় দেবনাথ
কেকাকে বাবুই
ঝড় | যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী
অজয় দেবনাথ
"উজ্জয়িনী… কালিদাসের যুগ… তিরতির করে গোড়ালি-ভেজানো শিপ্রা নদী… এখানে-ওখানে পেখম মেলে ময়ূর নাচছে… তাদের কেকাধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিগন্ত। মন হারিয়ে যায়।"
"আলতো বোজা চোখে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো এক অচিন পাখির শিসধ্বনিতে হৃদয় যখন মগ্ন ঠিক তখনই করাঘাত। হাতে পেলাম একটি খাম— দেখি এ যে আরেক পাখির ডাক!"
কেকা,
তুমি যে গাছে বসবে সেই গাছ ফুলে ফলে ভরে উঠবে। যে বাগানে
বিচরণ করবে চিরবসন্ত সুমধুর বাতাস, সুগন্ধে ভরিয়ে দেবে সেই বাগান।
জানো উজ্জয়িনীর কথা মনে পড়ছে শুধু। উজ্জয়িনী… কালিদাসের
যুগ… তিরতির করে গোড়ালি-ভেজানো শিপ্রা নদী… এখানে-ওখানে পেখম মেলে ময়ূর নাচছে… তাদের
কেকাধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিগন্ত। মন হারিয়ে যায়। আচ্ছা তুমি এত গুণী হলে কী করে।
আজ আর লিখব না, যদি ইচ্ছা হয় তুমিও লিখো, তারপরে আবার
আমি। ভালো থেকো, সুন্দর থেকো।
ইতি—
বাবুই
যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী
কেয়া নন্দী
বাবুই,
ভাতঘুম দেবার
অভ্যাস নেই। আলতো বোজা চোখে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো এক অচিন পাখির শিসধ্বনিতে
হৃদয় যখন মগ্ন ঠিক তখনই করাঘাত। হাতে পেলাম একটি খাম— দেখি এ যে আরেক পাখির ডাক!
ভাবি এতদিনে... পড়তে পড়তে
স্মৃতির জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ল এক 'বর্ষ বরণ সন্ধ্যা'। তুমি জানতেও পারোনি সেদিনের নন্দিনীর কান-মন জুড়িয়ে
গিয়েছিল তোমার 'বৈশাখ' কবিতা পাঠে। তেজোদীপ্ত কণ্ঠে তুমি বৈশাখের রুদ্র-রূপকে কী অসামান্য
ফুটিয়ে তুলেছিলে! আজ নিস্তব্ধ-নির্বাক দুপুরটা আবার স্মরিত হোলো। তোমার পথ শোনার পর মনে হয়েছিল, এভাবেই বৈশাখকে আহ্বান করতে হয়। লেখার হাত ভালো জানতাম কিন্তু তার পাশাপাশি
বাচিকসত্তার গুণও যে তোমার আছে তার পরিচয় সেদিন পেয়েছিলাম।
কুহুতানে ভরা বসন্তে
দাঁড়িয়েও আমি আজও অপেক্ষা করি বর্ষার কেন জান? আকাশজোড়া ঘনকালো মেঘের গর্জন শুনলেই আমার চোখে তোমার ছবি আসে। মনে হয়
গুরুগম্ভীর এই শব্দ যেন তোমার কণ্ঠস্বর। তুমি পাঠ করছ—
জানো এ ধারাপাত আমৃত্যু আমার
সাথী। নিয়ম করে প্রতি বর্ষায় রচবে এক-একেকটি বর্ষামঙ্গল।
বহু ব্যস্ততার ফাঁকে আজও তুমি
সেদিনের নন্দিনীকে যে স্মরণে রেখেছ তা জেনে আমি আপ্লুত। আমার যান্ত্রিক জীবনে এই
পত্র বসন্ত রাগের সামিল; যা আমার প্রাণে উদ্দীপনার
সঞ্চার ঘটায়।
আর কী? কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে আসছে এবার থামি।
সুস্থ থেকো, ভালো থেকো। আর হ্যাঁ,
সৃজনশীলতায়
নিমজ্জিত থেকো।
কেকা।
রক্তকরবীতে নন্দিনীর ভূমিকায় তোমার অভিনয় ভোলার নয়। তোমার গানের কথা তো বলাই বাহুল্য। যেন কোকিলকণ্ঠী আহা! অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন গুণগুণ করে। কিন্তু তোমার যে এত ভালো লেখার হাত জানতাম না। অক্লেশে স্বীকার করি আমি রীতিমতো তোমার ফ্যান হয়ে গেছি।
বাবুই
কেয়া নন্দী
ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে
জলসিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ
রভসে...
এসেছে বরষা ওগো নব-অনুরাগীনি।
আর তখন আমার দু-গণ্ড বেয়ে
তিরতির করে নামে বৃষ্টির ধারা।

সত্য কথাই - সৃজনশীলতায় নিমর্জিত দুজনেই। সারস্বত শুভেচ্ছা উভয়ের জন্যই।
ReplyDeleteঅনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে প্রদীপ-দা, সঙ্গে থাকুন।
Delete