প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, April 11, 2025

কেকাকে বাবুই | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী


 

বাতায়ন/ঝড়/যুগলবন্দি/য় বর্ষ/ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩
ঝড় | যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী
অজয় দেবনাথ

কেকাকে বাবুই

"উজ্জয়িনী… কালিদাসের যুগ… তিরতির করে গোড়ালি-ভেজানো শিপ্রা নদী… এখানে-ওখানে পেখম মেলে ময়ূর নাচছে… তাদের কেকাধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিগন্ত। মন হারিয়ে যায়।"


"আলতো বোজা চোখে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো এক অচিন পাখির শিসধ্বনিতে হৃদয় যখন মগ্ন ঠিক তখনই করাঘাত। হাতে পেলাম একটি খাম— দেখি এ যে আরেক পাখির ডাক!"


কেকা,

রক্তকরবীতে নন্দিনীর ভূমিকায় তোমার অভিনয় ভোলার নয়। তোমার গানের কথা তো বলাই বাহুল্য। যেন কোকিলকণ্ঠী আহা! অন্তরের অন্তঃস্থলে যেন গুণগুণ করে। কিন্তু তোমার যে এত ভালো লেখার হাত জানতাম না। অক্লেশে স্বীকার করি আমি রীতিমতো তোমার ফ্যান হয়ে গেছি।


তুমি যে গাছে বসবে সেই গাছ ফুলে ফলে ভরে উঠবে। যে বাগানে বিচরণ করবে চিরবসন্ত সুমধুর বাতাস, সুগন্ধে ভরিয়ে দেবে সেই বাগান।

জানো উজ্জয়িনীর কথা মনে পড়ছে শুধু। উজ্জয়িনী… কালিদাসের যুগ… তিরতির করে গোড়ালি-ভেজানো শিপ্রা নদী… এখানে-ওখানে পেখম মেলে ময়ূর নাচছে… তাদের কেকাধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে দিগন্ত। মন হারিয়ে যায়। আচ্ছা তুমি এত গুণী হলে কী করে।

আজ আর লিখব না, যদি ইচ্ছা হয় তুমিও লিখো, তারপরে আবার আমি। ভালো থেকো, সুন্দর থেকো।

ইতি—
বাবুই

যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও কেয়া নন্দী
কেয়া নন্দী

বাবুই,

ভাতঘুম দেবার অভ্যাস নেই। আলতো বোজা চোখে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো এক অচিন পাখির শিসধ্বনিতে হৃদয় যখন মগ্ন ঠিক তখনই করাঘাত। হাতে পেলাম একটি খাম দেখি এ যে আরেক পাখির ডাক!

ভাবি এতদিনে... পড়তে পড়তে স্মৃতির জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ল এক 'বর্ষ বরণ সন্ধ্যা'। তুমি জানতেও পারোনি সেদিনের নন্দিনীর কান-মন জুড়িয়ে গিয়েছিল তোমার 'বৈশাখ' কবিতা পাঠে। তেজোদীপ্ত কণ্ঠে তুমি বৈশাখের রুদ্র-রূপকে কী অসামান্য ফুটিয়ে তুলেছিলে! আজ নিস্তব্ধ-নির্বাক দুপুরটা আবার স্মরিত হোলো। তোমার পথ শোনার পর মনে হয়েছিল, এভাবেই বৈশাখকে আহ্বান করতে হয়। লেখার হাত ভালো জানতাম কিন্তু তার পাশাপাশি বাচিকসত্তার গুণও যে তোমার আছে তার পরিচয় সেদিন পেয়েছিলাম।

কুহুতানে ভরা বসন্তে দাঁড়িয়েও আমি আজও অপেক্ষা করি বর্ষার কেন জান? আকাশজোড়া ঘনকালো মেঘের গর্জন শুনলেই আমার চোখে তোমার ছবি আসে। মনে হয় গুরুগম্ভীর এই শব্দ যেন তোমার কণ্ঠস্বর। তুমি পাঠ করছ
                                ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে
                                জলসিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে...
                                এসেছে বরষা ওগো নব-অনুরাগীনি।
আর তখন আমার দু-গণ্ড বেয়ে তিরতির করে নামে বৃষ্টির ধারা।

জানো এ ধারাপাত আমৃত্যু আমার সাথী। নিয়ম করে প্রতি বর্ষায় রচবে এক-একেকটি বর্ষামঙ্গল।

বহু ব্যস্ততার ফাঁকে আজও তুমি সেদিনের নন্দিনীকে যে স্মরণে রেখেছ তা জেনে আমি আপ্লুত। আমার যান্ত্রিক জীবনে এই পত্র বসন্ত রাগের সামিল; যা আমার প্রাণে উদ্দীপনার সঞ্চার ঘটায়।

আর কী? কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে আসছে এবার থামি।

সুস্থ থেকো, ভালো থেকো। আর হ্যাঁ, সৃজনশীলতায় নিমজ্জিত থেকো।


কেকা।


2 comments:

  1. সত্য কথাই - সৃজনশীলতায় নিমর্জিত দুজনেই। সারস্বত শুভেচ্ছা উভয়ের জন্যই।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অজয় দেবনাথApril 25, 2025 at 7:22 AM

      অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে প্রদীপ-দা, সঙ্গে থাকুন।

      Delete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)