ধারাবাহিক
গল্প
হিমাদ্রি
শেখর দাস
অচেনা
প্রতিবেশী
[২য় পর্ব]
"আজ বুঝেছে অশোক চোখেও দেখেছে। বাদলপুরের পথে হাঁটতে হাঁটতে সেই আক্ষেপ ফুটে উঠেছে তার চোখেমুখে। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে ওর।"
পূর্বানুবৃত্তি আখতার আলির বয়স সত্তরের ওপারে হবে আন্দাজ করল অশোক। আখতার আলি বললেন,
-জোরে কথা বলি না কেন জানো
কারণ এই সময় আমাদের প্রতিবেশীদের বিশ্রামের সময়। তাই আমরা কেউ জোরে আওয়াজ করি
না অন্যদের সাবধান করে দিয়েছি বাজি ফাটানো দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপর…
ওপরের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে
যায় অশোক। দেখে কাতারে কাতারে মুখ নিচু করে ঝুলে আছে অসংখ্য বাদুড়। যারা মানুষের
সমাজে অনাদৃত অবহেলিত অথবা সংস্কার বা ভয়ে মানুষ তাদেরকে এড়িয়ে চলে তারাই
পাটুলি গ্রামের অচেনা প্রতিবেশী কী আশ্চর্য। অনেকক্ষণ এরকম আরো কিছু ভাবতে
থাকে অশোক তারপরে বলে,
-এরা আপনাদের ক্ষতি করে না?
মৃদু হেসে বলে কানাই,
-এমন ক্ষতি তো
মানুষে করে এরা পেয়ারা লিচু খায় নষ্ট করে তার সঙ্গে ফসল নষ্ট করে, কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলে তাতে কৃষকের উপকার হয়। আবার গ্রামের
প্রায় মশাগুলোই খেয়ে ফেলে।
-মশা খায়, আশ্চর্য ব্যাপার তো!
-এদের প্রিয় খাবারের তালিকায় মশাও পড়ে।
অবাক হয়ে যায় অশোক। কত যে
অজানা তথ্য পৃথিবীতে আজ ভাবতে থাকে ও। এতক্ষণ পর হঠাৎ মনে পড়ে যায় হুমায়ূনের
লেখা সাইনবোর্ড। ওর কথা মনে মনে ভাবে আর যেখানে হিংসায় ডুবে গেছে পৃথিবী, মানুষে মানুষে যেখানে শুধু হানাহানি আর রক্তক্ষয় সেখানে এত
বড় গুরুদায়িত্ব কী করে নিয়েছে পাটুলির মানুষেরা। কানাই বলে,
-সময় থাকলে চলুন ওখানে বসে
আরও অনেক কথা বলা যাবে আপনাকে।
অশোক অন্যমনস্ক হয়ে বলে,
-না ভাই এখন আর সময় নেই ফিরে
আসার সময় বসে বসে সব কথা শুনব তোমাদের কাছে।
বেলা প্রায় পড়ে গেছে অশোক
হাঁটছে বাদলপুরের পথ ধরে। আজ নিজেকে গর্বিত মনে করছে এরকম একটা গ্রাম চোখে দেখতে
পেয়ে। আত্মহারা হয়ে গেছিল ও। হঠাৎ মনে পড়ে ক’দিন আগে প্যাথলজিতে বাপি বলেছিল,
-জানিস অশোক আজ আন্তর্জাতিক
বাদুড় দিবস।
-বাদুড়! আর কী কী বাকি থাকল?
-এরকম বলিস না এর গুরুত্ব চোখে দেখলে বুঝবি।
সেদিন না বুঝলেও আজ বুঝেছে
অশোক চোখেও দেখেছে। বাদলপুরের পথে হাঁটতে হাঁটতে সেই আক্ষেপ ফুটে উঠেছে
তার চোখেমুখে। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে ওর। তাই মনে মনে ঠিক করে বিয়েবাড়িতে
গিয়ে বাপির কাছে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের জন্য। না হলে মনের
দহন চলবেই। মনুষ্যত্বহীন হয়ে কী করে বসবে বাপির সামনে রুবি
প্যাথলজিতে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment