ধারাবাহিক গল্প
পারমিতা
চ্যাটার্জি
শ্রাবণের ধারায় নতুন প্লাবন
[৩য় পর্ব]
"কাল রাত থেকে তমালিকার প্রচণ্ড মাইগ্রেন শুরু হয়। সকালে উঠে কোনওরকমে ছেলেমেয়েকে তৈরি করে বাসে তুলে দিয়ে শুয়ে পড়েছিল। ও শুনতে পেল সৈকত বলছে, বউদি কোথায়?"
পূর্বানুবৃত্তি ছেলেমেয়ে
যদি তোমার কাছে থাকতে চায় থাকবে, আর আমার কাছে থাকতে চাইলেও থাকতে
পারে। সেটা ওদের ওপর নির্ভর করবে। আমি
কারও ওপর কোন জোর দেখাতে চাই না। তারপর...
-ও তাই চলে যাচ্ছ? এতদিনের এত ভালবাসা?
-ভালবাসা? তার কি কিছু
অবশিষ্ট আছে না কি? কবে
থেকে তো আমাকে আলাদা করে দিয়েছ. তোমার জীবনে আমি তো এখন ব্রাত্য।
তারপর সে
নিজের ঘরে চলে আসে। আসার সময় শুনতে পেল,
সৈকত তাকে বলছে,
-শাড়িটা
নেবে না? তোমার
পছন্দের রংয়ের এনেছিলাম।
সে আর কোন
উত্তর না দিয়ে ঘরে বিছানায় লুটিয়ে পরেছিল কান্নায়। আজ সকালে প্রথম ফোনটা এসেছিল রাইয়ের, হ্যাপি অ্যানিভারসারি বলে। সে কোনওরকমে থ্যাংকস বলে সৈকতকে ফোনটা দিয়ে চলে গেল।
শুনল ফোনে সৈকত বলছে, পার্টি বাতিল। ওদিক থেকে কী বলল শুনতে পেল না। কিন্তু সৈকতের উত্তেজিত গলা প্লিজ আমায়
একটু একা ছেড়ে দাও, আমার ইচ্ছা তাই পার্টি বাতিল। ভাল লাগছে না, আমার এইসব পার্টি আর…
ছেলেমেয়েদের
স্কুল থেকে আনার পর ওদের খেতে দিল, তার মনটাও ভাল নেই আজকের দিনে সৈকত কিছু না খেয়ে বেরিয়ে গেছে। কমলা আজ ব্রেকফাস্ট করে দিয়েছিল। কাল রাত থেকে তমালিকার প্রচণ্ড মাইগ্রেন শুরু হয়।
সকালে উঠে কোনওরকমে ছেলেমেয়েকে তৈরি
করে বাসে তুলে দিয়ে শুয়ে পড়েছিল। ও শুনতে পেল সৈকত বলছে, বউদি কোথায়? যাই হোক অফিসে যাবার সময় ব্রেকফাস্টটা তমালিকা নিজে হাতে
সাজিয়ে দেয়। আজ তার ব্যতিক্রম দেখেই সৈকত প্রশ্নটা
করেছিল, কমলা কী বলেছিল আর শুনতে পায়নি। ওষুধের ঘোরে আচ্ছন্নর মতন ঘুমিয়ে পরল।
নীল আর মেঘ
স্কুল থেকে এসে ভাত খায় তারপর ওদের ঘরে দুজনে ছবি আঁকে, বই পড়ে, বিকেলে কমলা ওদের নিয়ে একটু পার্কে যায়
খেলতে, ফিরে এলে পড়তে বসে। আটটা নাগাদ
ডিনার খেয়ে নিজেদের মধ্যে একটু খেলা করে টিভিতে কার্টুন দেখে তারপর দুধ খেয়ে শুয়ে
পরে। ছেলেমেয়ের খাওয়া হয়ে গেলে তমালিকা আবার গিয়ে শুয়ে, আজ
যেন বহুদিনের পুঞ্জিভূত অভিমান তার মনটাকে অবসাদে অসার করে দিয়েছে।
ক্রমশ

No comments:
Post a Comment