প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Thursday, August 7, 2025

শ্রাবণের ধারায় নতুন প্লাবন [৪র্থ পর্ব] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৩য় বর্ষ/১তম সংখ্যা/১৩ই ভাদ্র, ১৪৩২
ধারাবাহিক গল্প
পারমিতা চ্যাটার্জি
 
শ্রাবণের ধারায় নতুন প্লাবন
[৪র্থ পর্ব]

"রাইদের কাছে পয়সার মূল্য আর জীবনের মজাটাই সব কিন্তু তমালিকার কাছে আত্মসম্মানটাই সব পয়সার কাছে ওরা আত্মসম্মানকে বলি দিতে পারে না, এমনকি নিজের বিয়ে করা স্বামীর কাছেও কোন অধিকারবোধ দেখাল না।"



পূর্বানুবৃত্তি কোনরকমে থ্যাংকস বলে সৈকতকে ফোনটা দিয়ে চলে গেলশুনল ফোনে সৈকত বলছে, পার্টি বাতিল ওদিক থেকে কী বলল শুনতে পেল না। তারপর…
 

সৈকত গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে ভাবল, আজ তার অফিস যেতে একদম ভাল লাগছে নাকত সহজে তমালিকা বলে দিল বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা অথচ সৈকতের ধারণাতেও কোনদিন আসেনি এরকম কথা তমালিকা বলতে পারে সে

 নিজেও বুঝতে পারছিল যেদিন সে বলেছিল এই ভুল বিয়েটার জন্য তার অনুতাপের শেষ নেই সেদিনই সে লক্ষ্য করেছিল তমালিকা একদম চুপ হয়ে গেছে তার সুন্দর চোখদুটো যেন তীর খাওয়া হরিণের মতো ব্যথায় স্তব্ধ হয়ে গেছে সে যতক্ষণ বাড়ি থাকে তমালিকা ঘর থেকেই বার হয় না সকালে কোনরকমে ব্রেকফাস্টটা দিয়ে সে চলে যায় সামনে থেকে।
সৈকতও বুঝেছিল সে ভুল করছে, ভীষণ ভুল করছে মায়ের কাছে যে শিক্ষা পেয়েছিল তা সবটাই সে জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়েছে অথচ অপমানে লাঞ্ছিত হয়ে মা কাঁদতে-কাঁদতে কতদিন সৈকতকে বলেছিলেন, দেখিস বাবা তুই যেন আর পরের বাড়ির মেয়ের চোখের জল ফেলাস না মায়ের দেওয়া কথা সৈকত রাখতে পারেনি মাও দুঃখ নিয়েই চলে গেলেন রাই তাকে বলেছিল, তোমার এত টাকা তোমার বউ তোমাকে ছেড়ে যাবার কথা ভাবতেই পারে না।
রাইদের কাছে পয়সার মূল্য আর জীবনের মজাটাই সব কিন্তু তমালিকার কাছে আত্মসম্মানটাই সব পয়সার কাছে ওরা আত্মসম্মানকে বলি দিতে পারে না, এমনকি নিজের বিয়ে করা স্বামীর কাছেও কোন অধিকারবোধ দেখাল না।
সৈকত গঙ্গার ধারে গাড়িটা পার্ক করে চুপ করে গিয়ে বসল, একটা কাফেতে এক কাপ কফি নিয়ে এখানে বসে মনে হল ছুটে গিয়ে তার আঁখিকে নিয়ে আসে বিয়ের পর এরকম শ্রাবণের বৃষ্টিতে তারা দুজন কত ভিজেছিল কত গান কত কথা কত সুখের মুহূর্ত সব ছবির মতন এক-এক করে সামনে ভেসে উঠল।
হঠাৎ সে উঠে বসে অফিসে ফোন করে বসকে বলে দিল, আজ সে আসতে পারছে না
তারপর সোজা নিউমার্কেটে গিয়ে তমালিকার পছন্দ মতন অনেক ফুল কিনল, গাঙ্গুরাম থেকে জলভরা সন্দেশ, দই, তারপর বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনে এনে বাড়িতে ঢুকল, কমলাকে বলল, আজ রাতে কী রান্নার ব্যবস্থা হচ্ছে?
-আজ তো বউদি সারাদিন উঠতে পারেনি খুব মাথা ধরেছে, কিছু খাবারও খায়নি খালি পেটে শুধু ওষুধ খেয়ে গেছে
-আমি দেখছি, তুমি এক কাজ কর, ইলিশ মাছ ভাজা আর তেলটাও রেখ ইলিশ ভাপা করতে পার?
-পারিতবে বৌদির মতন হয় না
-তা একটু মন দিয়ে কর, ঠিক ভাল হবে
-আচ্ছা।
সৈকত তালিকার ঘরের দিকে যেতে গেল পকেটে মোবাইল বেজে উঠল, দেখল মনিকা ফোন করছে সে ফোনটা কেটে দিয়ে সুইচ অফ্ করে দিল। ঘরে ঢুকে দেখল, ডিম আলো জ্বালিয়ে একরাশ চুল বিছানায় ছড়িয়ে মুখ ঢেকে শুয়ে আছে তার আঁখি বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল, কত অভিমান জমে আছে মনে, এত অভিমান কি একদিনে ভাঙতে পারবে? ভাঙতে তাকে হবেই তার এই বাড়ির প্রতিটা কোণে আঁখির হাতের ছোঁয়া লেগে আছে এঘর থেকে সে কিছুতেই আঁখিকে চলে যেতে দেবে না।
সে বিছানায় বসে দুহাত দিয়ে আঁখিকে তুলে ধরে সবলে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বলল,
-চলে যাব বললেই হল না কি? যাও তো আমার এই বাঁধন ছেড়ে দেখি কেমন যেতে পার?
এতদিন পর হঠাৎ স্বামীর এই আলিঙ্গনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল,
-আমি তোমার ভুলের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না ছেড়ে দাও আমায়
-না ছাড়ব না কেন আগে এই অভিমানটা দেখাওনি? আমি না হয় ভুল করছিলাম, তুমি কেন সব চুপ করে মেনে নিচ্ছিলে? কেন প্রতিবাদ করনি?
-ভালবাসা যদি ফুরিয়ে গিয়ে থাকে তবে তাকে জো করে ধরে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না
-কিছু ফুরিয়ে যায়নি সব আগের মতন আছে শুধু মাঝের কটা বছর আমার চলার রাস্তাটা ভুল হয়ে গিয়েছিল আঁখিকে সৈকত তার দুই বাহু দিয়ে তুলে নিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল বাইরে তুমুল বৃষ্টি পড়ছে ঘরে ওরা দুজন ভিজে যাচ্ছে নতুন করে ভালবাসার শ্রাবণে রান্নাঘরে ইলিশের গন্ধ।
 
সমাপ্ত
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)