বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১৪ই কার্ত্তিক, ১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | গল্পাণু
সঙ্ঘমিত্রা
দাস
শেষ
বিচার
"হঠাৎ চিৎকার করে লুটিয়ে পড়ে মেজবাবু। সোজা বুকে বিঁধেছে বিষাক্ত তীর। মাটিতে পড়ে ছটফট করছে লোকটা। মেয়েটি ছাড়া পেতেই ছুটে পালিয়েছে।"
বীরভূমের জয়পুরের কাছে এক
অজপাড়াগাঁয়ে ঘর অনন্তর। ক্লাস এইটেই পড়াশোনায় ইতি টেনেছে। মা-মরা ছেলে, ঘরে শয্যাশায়ী বাবা আর দিদা। ভুবন ঘোষের কাঠকলে একশো রোজে
কাজে ঢুকেছে। ওখানে সবাই ওকে নিয়ে বড্ড হাসাহাসি করে। কানাকানি, ফিশফাশে অনেক কথা। ওর যে একেবারে অল্প বয়সের ভুবন ঘোষের চেহারা।
দিদাকে প্রশ্ন করলে সে শুধু চোখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদে। বারবার জিজ্ঞেস করেও
উত্তর পায়নি মা কীভাবে মারা গেছিলো। ঘরে বাবাকে দেখলে
অনন্তর গা গুলিয়ে ওঠে, বমি পায়।
মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ। সারাদিন মদে ডুবে থাকলে একটু শান্তি। শুধু ওই ছোট্ট বাচ্চা
মেয়েটা, কী জানি কোথা থেকে আসে? কাজ থেকে ফিরে ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে বড় রাস্তা পেরিয়ে
বাঁশবাগানের কোণে বটতলায় একটু শুলেই ও আসে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, গল্প করে। বড় মায়া ভরা মুখ। ঘুমিয়ে পড়ে অনন্ত। জেগে
দেখে সে চলে গেছে।
সেদিন রাতে অন্তত এমনই পড়ে
ছিল বটগাছের নীচে। দূরে বাঁশবাগানের মধ্যে আর্তচিৎকার মহিলা কন্ঠে— বাঁচাও!
অনন্ত টলমল পায়ে এগিয়ে
যায়। পুলিশের জিপটা অন্ধকারে ভুতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। থানার ঘুষখোর মেজবাবু ভুবন
ঘোষের পাক্কা দোসর, একটি মেয়েকে চুলের
মুঠি ধরে টানতে টানতে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। অনন্ত একটা থান ইট তোলে ছুঁড়বে
বলে। হঠাৎ চিৎকার করে লুটিয়ে পড়ে মেজবাবু। সোজা বুকে বিঁধেছে বিষাক্ত তীর।
মাটিতে পড়ে ছটফট করছে লোকটা। মেয়েটি ছাড়া পেতেই ছুটে পালিয়েছে।
অনন্ত বাঁশবাগানের উলটোদিকে চেয়ে
দেখে একটা বাচ্চা মেয়ে তীর ধনুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে গাছের পাশেই। আবছা আলোয়ও
বুঝতে অসুবিধা হয় না, ধীর পায়ে মেয়েটা
এগিয়ে আসছে আরো কাছে। ক্রমে বদলে যাচ্ছে ওর চেহারা। এখন সে ছাপাশাড়ি পড়া এক
গ্রাম্য রমনী। মুখটা বড় চেনা। ওর ঘরের বড় বাঁধানো ছবিটার মতো, অবিকল এক।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment