বাতায়ন/নবান্ন/গল্পাণু/৩য়
বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন
| গল্পাণু
সমর
আচার্য্য
গোপালের
নবান্ন
"এই নাও মা, মাঠ থেকে কুড়িয়ে অনেক ধান এনেছি। এগুলোর চাল করে নিশ্চয়ই আমাদের মা-বেটার জন্য পিঠে পায়েস হয়ে যাবে। মঙ্গল জ্যাঠা বলেছে কিছু গুড় আমাদের দিয়ে যাবে।"
আর কদিন পরেই নবান্ন উৎসব। গোপাল
মাকে বলল,
-মা— এবার আমাদের নবান্ন করবে না?
-না রে বাবা। এবার আর নবান্ন করব কী করে? কে এনে দেবে নতুন চাল,
গুড়, শাকসবজি?
জবার স্বামী সুফল গতবছর মারা
গিয়েছে ভিনদেশে কাজ করতে গিয়ে।
নবান্নের দুদিন আগে জবা ঘুম
থেকে উঠে গোপালকে না দেখতে পেয়ে খুব অস্থির হয়ে পড়ে। দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল হয়ে
এল। এমন সময় গোপাল একটা ছেঁড়া বস্তায় বাঁধা একটা পোঁটলা নিয়ে হাসতে হাসতে এসে
হাজির। মা জবা কিছু বলার আগেই সে বলে ওঠে,
-এই নাও মা, মাঠ থেকে কুড়িয়ে অনেক
ধান এনেছি। এগুলোর চাল করে নিশ্চয়ই আমাদের মা-বেটার জন্য
পিঠে পায়েস হয়ে যাবে। মঙ্গল জ্যাঠা বলেছে কিছু গুড় আমাদের দিয়ে যাবে।
গোপালের ধুলো-কাদা মাখা
অভুক্ত মলিন মুখটা দেখে আর ঠিক থাকতে পারে না জবা। হাউমাউ
করে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলেকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে বলে ওঠে,
-ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে। আমি নিশ্চয়ই
তোকে নবান্ন এলে পিঠে পায়েস করে খাওয়াব।
মায়ের কথায় গোপালের মুখটা
খুশিতে ভরে উঠল। মায়ের দিকে এমনভাবে তাকাল,
যেন
বলতে চাইল, দেখলে তো মা আমি কেমন বড় হয়ে গেছি!
~~০০~~

No comments:
Post a Comment