বাতায়ন/তূয়া নূর সংখ্যা/কবিতাগুচ্ছ/৩য় বর্ষ/৪০তম
সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
কবিতাগুচ্ছ | তূয়া নূর | শিরোনাম নেই
তূয়া নূর
শিরোনাম
নেই
হাত ধরা ছিল।
কে হাত ছেড়েছিল টেনে?
এতদিন আগের কথা থাকে কারো মনে?
ছেলেটা বলেছিল, তোমাকে চাই!
মেয়েটা বলেছিল, বাবা-মাকে বলো।
কিছুদিন পর আত্মীয় মারফত
সম্বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল,
আর সবিনয়ে নাকচ হয়েছিল।
মেয়েটা বিয়ে করেছিল মায়ের
পছন্দের অন্য এক জনকে,
বাবার মত ছিল না।
বয়সে বড়, অনেকটা জেদ করেই বিয়ে করেছিল ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়।
ছেলেটা ফুল পাখি পাতাদের নাম
জানে,
একটা চাকরি ছেড়ে আরেকটা
চাকরি ধরে
কিছুদিন বেকার বসে থাকে।
ঠিক বসে থাকা না, ঘুরে বেড়ায় ভবঘুরে
চমৎকার ছবি তোলে সে ক্যামেরায়।
এসব নিয়ে বড়সড় মাপের পাণ্ডুলিপি আছে অনেকদিন ধরে পড়ে,
বাকি কাজের
উৎসাহ কেটে খেয়েছে উইপোকা।
অনেক দিন পর যোগাযোগ হল
সামাজিক মাধ্যমে।
মেয়েটা তাকে জিগ্যেস করে, বিয়ে করেছ?
ছেলেটা বলে, না।
মেয়েটা বলে, তোমার জন্য মেয়ে দেখে দিই?
ছেলেটা বলে দাও।
মেয়েটা ফোন করে বলে, দেখে এসেছ যে মেয়েটার ঠিকানা দিয়েছিলাম।
ছেলেটা বলে, হ্যাঁ।
মেয়েটা বলে, কেমন দেখলে, পছন্দ হয়েছে?
ছেলেটা বলল, খুব সুন্দর মেয়েটা।
মেয়েটা বলল, পছন্দ হয়েছে তাহলে?
ছেলেটা বলল, না। তোমার মতো দেখতে না যে!
মেয়েটার মন ভীষণ খারাপ
হয়েছিল।
তার অন্তরের অন্তরে বেহালা করুণতম সুরে বেজেছিল,
ঠিক তখনই অনেক দিন পর ছেলেটা
ফোন করে।
বলল, একটা দিনের কথা তোমার মনে পড়ে?
হাত তুমি ছাড়িয়ে নাওনি
কারো আসার পায়ের শব্দ শুনে আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।
মেয়েটা বলে, মনে আছে।
ছেলেটা বলে, একদিন যখন তুমি একা হবে,
আমাদের বয়স ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই হবে…
চুল পেকে সব সাদা হবে
তোমার ভাঁজ পড়া হাতে চুমু দেবো
দেখব উলটপালট করে কতবার পুড়েছে চুলার আগুনে মনের ভুলে,
হাত ধরাধরি করে হেঁটে পার হব
রাস্তা।
শীতের দিনে বেতের মোড়ায় রোদে বসে চা খেতে খেতে
শুনব তোমার প্রতিটা দিনের গল্প।
মেয়েটা শুনল শুধু,
কিছুই বলল না।
তার চোখ কি ভিজে গিয়েছিল?
মেয়েটা তার কোন এক বন্ধুর
কাছে বলেছিল,
আলোক সজ্জায় ভরা তার বিয়েটা
ছিল এক ভুতুড়ে ব্যাপার।
সুযোগ পেলে টাইম মেশিনে পিছনে ফিরে গিয়ে কিছু ভুল শুধরে আসত!
ভুলে ভরা মানুষের জীবন,
ইরেজার দিয়ে সাদা খাতায় দাগ
মুছতে গিয়ে
আরও ময়লা করে ফেলে শিশুদের মতো।
কবিতাগুচ্ছ | তূয়া নূর | শিরোনাম নেই
কে হাত ছেড়েছিল টেনে?
মেয়েটা বলেছিল, বাবা-মাকে বলো।
বয়সে বড়, অনেকটা জেদ করেই বিয়ে করেছিল ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়।
কিছুদিন বেকার বসে থাকে।
ঠিক বসে থাকা না, ঘুরে বেড়ায় ভবঘুরে
চমৎকার ছবি তোলে সে ক্যামেরায়।
এসব নিয়ে বড়সড় মাপের পাণ্ডুলিপি আছে অনেকদিন ধরে পড়ে,
মেয়েটা তাকে জিগ্যেস করে, বিয়ে করেছ?
মেয়েটা বলে, তোমার জন্য মেয়ে দেখে দিই?
ছেলেটা বলে, হ্যাঁ।
মেয়েটা বলে, কেমন দেখলে, পছন্দ হয়েছে?
মেয়েটা বলল, পছন্দ হয়েছে তাহলে?
তার অন্তরের অন্তরে বেহালা করুণতম সুরে বেজেছিল,
বলল, একটা দিনের কথা তোমার মনে পড়ে?
কারো আসার পায়ের শব্দ শুনে আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।
মেয়েটা বলে, মনে আছে।
ছেলেটা বলে, একদিন যখন তুমি একা হবে,
চুল পেকে সব সাদা হবে
তোমার ভাঁজ পড়া হাতে চুমু দেবো
দেখব উলটপালট করে কতবার পুড়েছে চুলার আগুনে মনের ভুলে,
শীতের দিনে বেতের মোড়ায় রোদে বসে চা খেতে খেতে
শুনব তোমার প্রতিটা দিনের গল্প।
তার চোখ কি ভিজে গিয়েছিল?
ছিল এক ভুতুড়ে ব্যাপার।
সুযোগ পেলে টাইম মেশিনে পিছনে ফিরে গিয়ে কিছু ভুল শুধরে আসত!
আরও ময়লা করে ফেলে শিশুদের মতো।

No comments:
Post a Comment