প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Friday, February 6, 2026

এক পাটি জুতো | রানা জামান

বাতায়ন/তূয়া নূর সংখ্যা/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | ছোটগল্প
রানা জামান
 
এক পাটি জুতো

"তুমি আবার মসজিদ থাইকা জুতা চুরি করা শুরু করছতোমাকে না কইছিলামমসজিদ আল্লাহর ঘর; ওইখান থাইকা জুতা চুরি করবা না?"

 
এক পাটি জুতো হাতে জমিরকে ঘরে ঢুকতে দেখে সবাই হতবাক। আট বছরের মেয়ে টুম্পা প্রথমে জিজ্ঞেস করল,
-বাবা, তুমি একটা জুতা নিয়া ঘরে ঢুকলা ক্যান? আরেকটা জুতা কই? জুতাচোরে লয়া গেছে?
জমিরের স্ত্রী মালেকা বানু বলল,
-এই জুতা তো তোমার না! তাও আবার একটা! একটা জুতা আনছ ক্যান?
জমির বিজ্ঞের মতো মুচকি হেসে বলল,
-এইডা পুঞ্জি! আছরের ওয়াক্তে গিয়া লাভটা লয়া আমু।
মালেকা খানিকটা রেগে বলল,
-তুমি আবার মসজিদ থাইকা…
মালেকা বানু চোখের ইশারায় টুম্পাকে দেখিয়ে নিজ ঠোঁটে ডানহাতের তর্জনি রেখে থামিয়ে দিলো জমিরকে। ওর হাত ধরে ছাপড়া ঘরের এক চিলতে বারান্দায় টেনে এনে ফিসফিস করে বলল,
-তুমি আবার মসজিদ থাইকা জুতা চুরি করা শুরু করছ? তোমাকে না কইছিলাম, মসজিদ আল্লাহর ঘর; ওইখান থাইকা জুতা চুরি করবা না?
-তুমি মানা করবার পর থাইকা মসজিদ থাইকা আর জুতা চুরি করি নাই। এই তোমার মাথায় হাত দিয়া কসম কইরা কইতাছি!
-তাইলে আইজ এইডা আনলা ক্যান?
-জুতার মালিক নিজেরে চালাক মনে কইরা একটা জুতা বাইরে রাইখা আরোকটা মসজিদের ভিত্রে লয়া গেছে। ভাবছে, তাইলে আর জুতা চুরি হইব না। এই জুতার মালিকরে বেক্কল বানাইবার লাইগা জুতাডা লয়া আইসি! আছরের ওয়াক্তে ওই জুতাটা বাইরে পায়া যামু।
-না!
-না মাইনে কী? কী কইতে চাও তুমি?
-তুমি চুরি করবা না! এক বেলা না খায়া থাকুম, তবু তোমারে চুরি করতে দিতাম না! মনে নাই তোমার একবার পকেটমারতে গিয়া জন্তার হাতে ধরা পইড়া কী মাইরটাই না মারল তোমারে। আধমরা কইরা তোমারে তুইলা দিলো পুলিশের হাতে।
-জনতার হাতে প্রথম ধোলাই! মনে না থাকার কোনো কারণ নাই।
মালেকা বানু সাত মাসের পোয়াতি থাকায় কাজে যেতে পারে না, জমিরই ওকে কাজে যেতে নিষেধ করেছিল। সন্তান প্রসবের সময় খর্চা বেশি হবে, এই বিবেচনায় বেশি উপার্জনে মনোযোগী হলো জমির। ওস্তাদের কড়া নিষেধ ছিল: লোভ করা যাবে না, দিনে তিনটার বেশি পকেট কাটা যাবে না! সেদিন তুড়ি মারার মতো করেই পরপর তিনটা পকেট সাফাই করেছিল। তৃতীয়টা ছিল বসুন্ধরা শপিংমলের ভেতরে। এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক পাঁচটা করে পকেট মেরে আসছিল জমির। ওর ধারণাই ছিল না যে বসুন্ধরা শপিংমলের সর্বত্র সিসিটিভি লাগানো আছে। ওকে প্রথম পকেট মারতে দেখে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জনতার হাতে ওকে ধরিয়ে দেবার পরিকল্পনা করে সিভিল পোশাকে কিছু নিরাপত্তাকর্মী ওর পেছনে লাগিয়ে দেয়। দ্বিতীয় পকেট মারার এক ভদ্রলোকের প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত দিতেই চারদিক থেকে ওকে জাপটে ধরে 'পকেটমার!' বলে চিৎকার দিতে লাগল। শুরু হলো জনতার মার, যাকে বলে রামগণধোলাই! ইতোমধ্যে প্রধান নিরাপত্তা-কর্মকর্তা থানায় খবর দিয়ে রেখেছিল। পুলিশ এসে আধমরা অবস্থায় ওকে নিয়ে গেল থানায়। থানায় কী ঘটেছিল তা মনে হবার আগেই মালেকা বানু বলল,
-থাউক! তোমার যাওনের কাম নাই। আমি লয়া যাইতাছি।
মালেকা বানু জমিরের হাত থেকে জুতোটা নিয়ে হাঁটতে লাগল।
 
~~০০০~~

No comments:

Post a Comment

সূর্যাস্ত গঙ্গার বুকে


Popular Top 10 (Last 7 days)