বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া
নূর সংখ্যা | গল্পাণু
অর্পিতা দাস
মুড
সুইং
"সায়নী সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাবতে থাকে মা-জেঠিমাদের কথা। চুপচাপ এত কিছু সহ্য করা, মনের মধ্যে কী কোনোই প্রতিক্রিয়া ঘটে না? মেলাতে পারে না সায়নী।"
চন্দনা ঠাকুরদালানে
নিত্যপূজার আয়োজন করছে। সায়নী ধীরে ধীরে উপরে উঠে চন্দনার পাশে চুপটি করে বসে
চন্দনাকে জড়িয়ে ধরে,
-তোমারা কী করে এত কিছু পার বলো তো?
চন্দনা আলতো করে হাত বুলিয়ে,
-এককালে এই সংসারে আমরা ছেচল্লিশ-সাতচল্লিশজন মানুষ ছিলাম।
কোন ভোরে উঠে কাজ শুরু হত আর কোনদিক দিয়ে যে দিন চলে যেত টেরই পেতাম না...
কথা শেষ করার আগেই সায়নী,
-বুঝতে পেরেছি, এখন রাত ফুরিয়ে যাবে।
চন্দনা মুচকি হেসে,
-তোরা যেটাকে গল্প মনে করিস, সেটাই এক সময় সত্যি ছিল রে।
সায়নী কৌতূহলী হয়ে,
-আচ্ছা জেম্মা, একটা সত্যি কথা বলবে?
চন্দনা সায়নীর দিকে তাকিয়ে,
-দেখো মেয়ের কাণ্ড,
তোকে
মিথ্যে বলব কোন দুঃখে।
কোনও ভনিতা না করে
সায়নী,
-এই যে তোমরা দিনরাত যন্ত্রের মতো কাজ করে যাও তোমাদের কখনো
মুড সুইং হয় না?
মৃদু কণ্ঠে চন্দনা,
-সে আবার কী জিনিস?
সায়নীর গাল টিপে,
-পাগলি একটা। যা দিদিভাইকে বল গিয়ে ঠাকুরঘরে প্রণাম করে যেতে।
সায়নী সিঁড়ি দিয়ে নামতে
নামতে ভাবতে থাকে মা-জেঠিমাদের কথা। চুপচাপ এত কিছু সহ্য করা, মনের মধ্যে কী কোনোই প্রতিক্রিয়া ঘটে না? মেলাতে পারে না সায়নী। ভাবতে থাকে, সময়ের সাথে সাথে তাহলে মন-মানসিকতা সবই বদলে যায়? বিয়েবাড়ির হইহুল্লোর কিছুই তার কানে প্রবেশ করে না।
~~০০~~

No comments:
Post a Comment