বাতায়ন/তূয়া
নূর সংখ্যা/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া
নূর সংখ্যা | গল্পাণু
জয় মণ্ডল
পুরনো
বটের ছায়া
"সন্ধ্যাবেলায় বটতলায় গিয়ে দাঁড়াতেই এক শীতল হাওয়া অনিমেষকে ছুঁয়ে গেল। হঠাৎ সে শুনতে পেল এক অতি পরিচিত কণ্ঠস্বর— "খোকা, ফিরলি তবে?"
গ্রামের শেষ প্রান্তে
প্রকাণ্ড ওই বটগাছটা যেন গ্রামেরই এক প্রাচীন অভিভাবক। লোকে বলে, ওই গাছের প্রতিটি ঝুরিতে নাকি গ্রামবাসীর শত বছরের
হাসি-কান্না জমা হয়ে আছে। শহরের বড় চাকরি ছেড়ে অনিমেষ যখন পনেরো বছর পর গ্রামে
ফিরল, তখন তার মনে অনেক দ্বিধা।
ফেলে আসা ভিটেমাটি কি আজও তাকে মনে রেখেছে?
সন্ধ্যাবেলায় বটতলায় গিয়ে
দাঁড়াতেই এক শীতল হাওয়া অনিমেষকে ছুঁয়ে গেল। হঠাৎ সে শুনতে পেল এক অতি পরিচিত
কণ্ঠস্বর— "খোকা, ফিরলি তবে?"
চমকে পেছনে তাকিয়ে দেখল কেউ
নেই। শুধু বটের পাতারা ঝিরঝির শব্দে কথা বলছে। অনিমেষ ছোটবেলায় এই গাছের কোটরে তার
প্রিয় মার্বেলগুলো লুকিয়ে রাখত। কৌতূহলবশত হাত বাড়াতেই দেখল, ধুলোমাখা সেই মার্বেলগুলো আজও সেখানেই সযত্নে রাখা।
অনিমেষের চোখ ভিজে এল। সে
বুঝল, শহর তাকে অনেক কিছু দিলেও এই
পরম মমতা আর চেনা আশ্রয়ের স্বাদ দিতে পারেনি। বড় রাস্তা, কাচের দালান আর যান্ত্রিকতা মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যায়, কিন্তু গ্রাম তার সন্তানকে ঠিক আগলে রাখে। ওই পুরনো বটের
ছায়ায় দাঁড়িয়ে অনিমেষ অনুভব করল, সে আসলে কোনো পরবাসী
নয়; সে তার আপন ঘরেই ফিরে এসেছে।
~~00~~

No comments:
Post a Comment