বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— কান্নাকথা
কবি— অরূপ পান্তী
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত
[কবির নাম না-জেনে
শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
পৃথিবীটা ঘুরছে আর তুমি রইলে
স্থির
একটুও বদলালে না
ওলট-পালট রাস্তা যাচ্ছে চলে দূরে
মানি, সহ্য করি! অপেক্ষা করি!
কাকে আর দোষ দেব বলো
তালুতে রেখেছি চোখের জল, যেন পদ্মপাতায়
দিনযাপন এবং দিনযাপনের খেলা।
জানি তুমি দুঃখ দেবে বলে এসেছ
দুঃখ দিলে দাও—, দুঃখ পেলে আমি লিখতে বসি
যদিও জানি! কেউ কাউকে লেখে না।
পাথরেও ফোটে ফুল
ফুলের কথা ভুলের কথা,
মরা নদীগুলি বর্ষা ফিরে পাক
ভালবাসার কুসুম প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যে বকুল
তারও চোখে অশ্রু
কান্না ছাড়া আর কোন শব্দই দেখি না।
কান্না অতি পরিশুদ্ধ এক
অনুভব। শোক থেকেই শ্লোকের সৃষ্টি। Keats
এর only peace out of pain রবীন্দ্রনাথের কলমে উঠে
এসেছিলঃ শুধু ব্যথা হ’তে গীতি। ব্যক্তিগত ব্যথার অনুভব তখনই কাব্য হয়ে ওঠে যখন তা’
ব্যক্তি উৎস থেকে বহমান হ’য়ে নিজের পরিসর অতিক্রম করে। এই পরিসরে ঢুকে আছে সময়।
সময়ের নিজস্ব বিবিধ উপাদান। এই সময়-উপাদান কিন্তু সীমায়নতা নয়, সীমাহীনতা। অন্তত কবিতা পাঠক তেমনটাই খোঁজেন।
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— কান্নাকথা
কবি— অরূপ পান্তী
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত
"ব্যক্তিগত ব্যথার অনুভব তখনই কাব্য হয়ে ওঠে যখন তা’ ব্যক্তি উৎস থেকে বহমান হ’য়ে নিজের পরিসর অতিক্রম করে। এই পরিসরে ঢুকে আছে সময়।"
একটুও বদলালে না
ওলট-পালট রাস্তা যাচ্ছে চলে দূরে
মানি, সহ্য করি! অপেক্ষা করি!
কাকে আর দোষ দেব বলো
তালুতে রেখেছি চোখের জল, যেন পদ্মপাতায়
দিনযাপন এবং দিনযাপনের খেলা।
জানি তুমি দুঃখ দেবে বলে এসেছ
দুঃখ দিলে দাও—, দুঃখ পেলে আমি লিখতে বসি
যদিও জানি! কেউ কাউকে লেখে না।
পাথরেও ফোটে ফুল
ফুলের কথা ভুলের কথা,
মরা নদীগুলি বর্ষা ফিরে পাক
ভালবাসার কুসুম প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যে বকুল
তারও চোখে অশ্রু
কান্না ছাড়া আর কোন শব্দই দেখি না।
কান্নাকথা আমার কাছের হলেও আমার হোল কই! অশ্রুবিন্দু আর কান্না সমার্থক হয়ে উঠলে তবে সে কান্না পাঠকের নিজস্ব উচ্চারণ হয়ে ওঠে। কান্নাকথা সত্য ধারণ ক’রেও পাঠকের নিজস্ব হয়ে উঠল কি? আমিই কি নিজেকে উত্তীর্ণ ক’রে উঠতে পারলাম না? আমার কাছে কবিতাটি এভাবেই এসেছে।

No comments:
Post a Comment