বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
দীনেশ সরকার
ক্ষণিকের
অতিথি
"সকালে ডিকু বাচ্চাটাকে কাঁধে বসিয়ে মাঠে নিয়ে ফড়িং ধরে মুখে গুঁজে দিত। ডানার উন্মেষ হল। ঘরের মধ্যে উড়তে লাগল।"
গতরাত্রে তুমুল ঝড়বৃষ্টিতে সব
ওলট-পালট করে দিয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ডালপালা ভেঙে পড়েছে। ডিকুদের আমগাছটার কয়েকটা ডাল ভেঙে
পড়েছে। সকালে ডিকু আর তার বাবা দুজনে মিলে সেই ভাঙা ডাল পরিস্কার করতে গিয়ে দেখল
আমগাছের ডালের নীচে একটা শালিখ পাখির বাসা চাপা পড়ে আছে। মা-পাখিটা তার ডানাদুটো
প্রসারিত করে তার বাচ্চাদের ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
ডালপালা সরিয়ে দেখল মা-পাখিটা মৃত। তিনটে বাচ্চার দুটো বাচ্চা মৃত, একটা বাচ্চা তখনও জীবিত। হাতের ছোঁয়া পেতেই হাঁ করে খেতে চাইছে। ডানা গজায়নি। ডিকু অতি সন্তর্পণে বাচ্চাটাকে মায়ের কাছে
নিয়ে গেল। একটা কাগজের বাক্সের মধ্যে রেখে ড্রপারে করে বাচ্চাটার মুখে দুধ দিতেই
বাচ্চাটা একটু চাঙ্গা হ’ল। ডিকু মাঠ থেকে দু-একটা ফড়িং ধরে এনে বাচ্চাটার মুখে
দিতেই বাচ্চাটা গিলে ফেলল। বাচ্চাটা বেঁচে গেল। বাচ্চাটাকে ডিকু আর ডিকুর মা
ভালবেসে ফেলল। বাচ্চাটা টুক-টুক করে ঘরময় ঘুরে বেড়াত আবার ডাকলে ডিকুর হাতে চলে
আসত। সকালে ডিকু বাচ্চাটাকে কাঁধে বসিয়ে মাঠে নিয়ে ফড়িং ধরে
মুখে গুঁজে দিত। ডানার উন্মেষ হল। ঘরের মধ্যে উড়তে লাগল। ডাকলে কাঁধে এসে বসত।
ডিকু ভাবল, পোষ মেনেছে। সেদিন
মাঠে নিয়ে ফড়িং খাওয়ানোর সময় বাচ্চাটা ডানা মেলে ঊড়ে গেল। ডিকুর মা বলল,
-ও ক্ষণিকের অতিথি হয়ে সেবা যত্ন নিতে আমাদের বাড়িতে এছেছিল।
তুই মন খারাপ করিসনে বাবা।
~~000~~

No comments:
Post a Comment