বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— স্বপ্নের হাতবদল
কবি— অজয় দেবনাথ
পর্যালোচক— তৈমুর খান
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— স্বপ্নের হাতবদল
কবি— অজয় দেবনাথ
পর্যালোচক— তৈমুর খান
"জীবনানন্দ-পরবর্তী আধুনিক কবিতার যে নিরাসক্ত অথচ গভীর সুর আমরা শুনি, 'স্বপ্নের হাতবদল' কবিতাটিতে তার একটি চমৎকার প্রতিফলন ঘটেছে।"
পিটপিট চেয়ে থাকে
অসমর্থ কিছু আগুনের কণা…
বুকে তার অপূর্ণ স্বপ্ন, বেদনার্ত স্মৃতিভার।
তিল তিল পুড়িয়ে জীবন
পড়ে আছে ছাই,
অদম্য জেদে দুর্দমনীয় হবে না কোনদিন।
বারুদের স্তূপ হাতে, এলে কেউ
ঘটাবে বিস্ফোরণ নিভে আসা কণা।
কাব্যিক সমালোচনা: স্বপ্নের হাতবদল
কবিতাটি মূলত উত্তরাধিকার এবং রূপান্তরের এক সার্থক আখ্যান। এখানে 'আগুন' এবং 'নিভে আসা কণা' কেবল দহন নয়, বরং একটি প্রজন্মের শেষ পর্যায়ের প্রতিনিধি। জীবনের সমস্ত দহন শেষে যখন কেবল ছাই পড়ে থাকে, তখন সেখানে হতাশা থাকার কথা ছিল। কিন্তু কবি দেখিয়েছেন, এই স্তিমিত হয়ে আসা কণাগুলোর মধ্যেও একটি 'অসমর্থ' জেদ বেঁচে থাকে।
কবি অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন:
'পিটপিট চেয়ে থাকা': এটি নিভে যাওয়া আগুনের শেষ মুহূর্তের অসহায়ত্ব এবং একইসঙ্গে এক ধরণের নীরব অপেক্ষাকে ফুটিয়ে তোলে।
'তিল তিল পুড়িয়ে জীবন': এখানে জীবনের ক্ষয়িষ্ণুতাকে অত্যন্ত সংবেদ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
'বারুদের স্তূপ হাতে কেউ': এটি কবিতার 'ক্লাইম্যাক্স'। ব্যক্তি যখন নিজে আর জ্বলে উঠতে পারে না, তখন সে অন্য কোনো বারুদ বা নতুন প্রাণশক্তিতে নিজের শেষ স্ফুলিঙ্গটুকু সঁপে দিয়ে একটি বড় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে।
কবিতাটি গদ্যছন্দের আশ্রয়ে রচিত হলেও এর ভেতরে একটি চমৎকার অন্ত্যমিল ও ভাবের গতিময়তা রয়েছে। প্রথম স্তবকে যে ক্লান্তি এবং দীর্ঘশ্বাস (বেদনার্ত স্মৃতিভার), দ্বিতীয় স্তবকে তা আকস্মিক এক বারুদ-সম্ভাবনায় বিস্ফোরিত হয়েছে। শব্দের নির্বাচন সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভারবাহী।
কবিতাটির শিরোনাম 'স্বপ্নের হাতবদল' সার্থক হয়েছে শেষ পঙক্তিতে এসে। ব্যক্তিগত অক্ষমতাকে যখন বৃহত্তর কোনো শক্তির (বারুদ) সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা আর ব্যর্থতা থাকে না, বরং এক নতুন সূচনার বারতা হয়ে ওঠে। এটি নিছক ধ্বংসের কথা বলে না, বরং পুনর্জন্মের ইঙ্গিত দেয়।

যথার্থ অনুভূতি
ReplyDeleteধন্যবাদ জানাই কিন্তু নিজের পরিচয় দিন।
Deleteযথার্থ অনুভূতি 🙏
ReplyDeleteধন্যবাদ প্রদীপ-দা।
Deleteকবিতার পর্যালোচনাটি খুব ভালো লাগল। প্রিয় কবি ও আলোচক-কে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ দীপক-দা।
Deleteসঠিক ও যথার্থ আলোচনা। কবিতার পাঠক উপকৃত হবেন।
ReplyDeleteধন্যবাদ পাঠক-বন্ধু।
Deleteকবিতা ও সাথে অনন্য আলোচনা, শ্রদ্ধা জানাই কবি ও আলোচকের প্রতি।
ReplyDeleteঅনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই, সঙ্গে থাকুন।
Deleteআলোচক নিজে একজন বিখ্যাত কবি, তাঁর আলোচনাও তাই ভীষণ সুন্দর।
ReplyDelete