বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/হলদে খাম/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| হলদে খাম
মীনা রায়
বন্দ্যোপাধ্যায়
বাতায়নকে মীনা
"এই দ্যাখ্ পাটিসাপটা বানিয়েছি খাবি তো! বুঝলাম, হৃদয়ের অনুভূতি- প্রেম-প্রীতি-ভালবাসা-ঘৃণা, ভুল-বোঝাবুঝি এগুলো ক্ষণিকের অতিথি না হলে বাঁচাটাই সঙ্কট।"
প্রিয় বাতায়ন বন্ধু,
ক্ষণস্থায়ী জীবন। পদ্ম-পাতায়
নীর বিন্দুর মতোই আপন জীবনচক্রে সবাই ক্ষণিকের অতিথি। ‘অতিথি দেব ভব’- জানি। ক্ষুরধার যাপন পথে প্রতি পদক্ষেপেই
সাবধানতা। মানুষের জীবনের পর্যায়ে- শৈশব,
কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য সবই
ক্ষণিকের অতিথি। ষড়-ঋতুর স্থায়িত্বও ক্ষণিক। তবুও আমরা ঋতুদের বরণ করি। নাচে-গানে-উৎসবে
মেতে উঠি। চরৈবেতি। চরৈবেতি। জীবনানন্দে! ‘চক্রবৎ পরিবর্তন্তে
সুখানি চ দুঃখানি চ’। সুখ-দুঃখ, আবেগ, অনুভূতিগুলোও ক্ষণিকের অতিথি।
গ্রামের বাড়িটা দেখাশোনার
দিদি তাঁর দিব্যাঙ্গ সন্তানটির সেবা-যত্নেই থাকতেন। সন্তানটি কৈশোর উত্তীর্ণ
হতেই অন্যলোকে চলে গেল। বেদনাহত আমরা।
তাঁকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা পাচ্ছিলাম না। উনিই শান্তস্বরে বললেন– ’ওর শান্তি হোক।
বিশেষ ভাবে সক্ষমেরা বেশি দিন থাকে না সংসারে। ক্ষণিকের অতিথি হয়েই আসে।’
এই শীতে এক বান্ধবীর ঘরে
ঘুরতে গিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম- তোর বৌমা কোথায়?
উত্তর
পেলাম ক্ষণিকের অতিথি হয়ে এসেছিল। চলে গেছে। ছেলের যে আবার বিয়ে দেব, তাও পারছি না। ডিভোর্সের মামলার নিষ্পত্তি না হলে। বৌমাকে
ফিরিয়ে আনতে বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ আমরা। মেয়েদের রাগ-অভিমান তো ক্ষণিকের অতিথি
বলেই জানতাম। জেদটাই চিরস্থায়ী করে নিল এ মেয়ে। বলতে বলতেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। হাতে
প্লেট ধরিয়ে দিয়ে বলল–
এই দ্যাখ্ পাটিসাপটা বানিয়েছি
খাবি তো! বুঝলাম, হৃদয়ের অনুভূতি-
প্রেম-প্রীতি-ভালবাসা-ঘৃণা, ভুল-বোঝাবুঝি এগুলো
ক্ষণিকের অতিথি না হলে বাঁচাটাই সঙ্কট।
ভালবাসার মাস, ভাষা প্রেমের মাস ফেব্রুয়ারিতে গভীর প্রেমে মাতৃভাষাকে
শ্রদ্ধা জানালাম। বন্ধুদের প্রীতি জানিয়ে ইতি–
নশ্বর জীবনে ক্ষণিকের অতিথি–
মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়।
No comments:
Post a Comment