প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

যে অঙ্ক মেলে না | জয়নাল আবেদিন

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | ছোটগল্প
জয়নাল আবেদিন
 
যে অঙ্ক মেলে না

"সেদিন হঠাৎই শরীরটা ভাল ছিল না। বিকেল নাগাদ ফিরল সুমন। নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে লক্ষ্য করল রোদ্দুরের ঝাঁজ কমতে ছাদে শুকোতে দেওয়া কাপড়গুলো তুলতে এসেছিল। একটু-বা হতচকিত মেয়েটা বললে"

 
জীবনের প্রথম চাকরি তাও রাজধানী শহরে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কয়েক-শো কিলোমিটার দূরে এই শহরে প্রথম আসা। চাকরি জয়েন করে রাত্রিবাসের জন্য বেশ ভয়ে ভয়েই ছিল সুমন সন্ধ্যা পর্যন্ত।
-রাতে কোথায় থাকছেন?
বড়বাবুর প্রশ্ন।
-স্যার, আপাতত কোন ঠিকানা নেই।
আড়ষ্ঠ জবাব সুমনের।
-সে কী! থাকা-খাওয়া সমস্যায় পড়বেন তো
-জানি না কী হবে?
-আমাদের গেস্টহাউসে দুটো দিন থাকতে পারবেন। তিন দিনের মধ্যে কোথাও জোগাড় করে নিতে হবে।
বড়বাবুর সহায়তা।
 
দুদিনের মধ্যে এক সহকর্মীর চেষ্টায় একটা জায়গায় ব্যবস্থা হল। ছাদের চিলে কোঠায় একজনের বসবাসের উপযোগী ছোট্ট একটা ঘর। রান্না করা যাবে না। হোটেলের খাবারেই পেট ভরাতে হবে আপাতত। নির্ঝঞ্ঝাট বাড়ি। বাড়িওয়ালা আর এক বিধবা মেয়ে। যাতায়াতের বেশ সুবিধা আছে। কাছেই বাস রাস্তা। এক বাসে অফিসের সামনে চলে আসা। বাড়ির সামনের রাস্তার মোড়ে খাবার হোটেল। রান্না বেশ ভাল। মায়ের আশঙ্কার মেঘ অচিরেই কেটে গেল।

চাকরির শুরুতে আজ দ্বিতীয় ছুটির দিন। প্রথম ছুটি ঠিকানা খুঁজতে কেটেছে। আজ সেই ঠিকানায় ছুটির দ্বিতীয় দিন। সকালে টিফিন সেরে রুমে বসে ভাবছে। জামা-প্যান্ট কাচতে হবে। ছাদে ট্যাংকের পাশে একটা দেয়ালে ট্যাপ লাগানো আছে। চান করা-কাপড় কাচা চলছে এখানে।
-বসে বসে কী ভাবছ গো সুমনবাবু?
বাড়িওয়ালার ছাদে আগমন হঠাৎই।
-এই বসে আছি। কাপড় দুটো কেচে দেব ভাবছি।
সুমনের আমতা জবাব।
- অসুবিধে নেই কাচা-শুকনো এখানেই হয়ে যাবে।
-হ্যাঁ জানি তো।
-আসলে সারাটা দিন ঘরে বসে থাকি। দুদন্ড কথা বলার মতো কেউ নেই। বড্ড বোর লাগে।
অসহায় উক্তি বাড়িওয়ালার।
-কেন আপনারা বাপ-মেয়ে দুজন থাকেন তো?
-মেয়েটা প্রয়োজন ছাড়া কোন কথা বলে না। চুপচাপ থাকে সারাটা দিন।
কেমন স্বগতোক্তি ভদ্রলোকের।
-কেন এমন আচরণ করেন? কী হয়েছে ওনার?
-সে অনেক কথা। তুমি নতুন মানুষ ও সবের মধ্যে না আসাই ভাল।
-ঠিকই বলেছেন পারিবারিক ব্যাপার। সকলকে না জানানোই ভাল।
চলছিল এভাবেই। তিন মাস কেটে গেছে কেমন করে। কোনদিন সামনাসামনি দেখা হয়নি বললে হয় মেয়েটার সঙ্গে। সুমন দশটায় বের হয়। সন্ধে সাতটা নাগাদ ফেরে। সেদিন হঠাৎই শরীরটা ভাল ছিল না। বিকেল নাগাদ ফিরল সুমন। নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে লক্ষ্য করল রোদ্দুরের ঝাঁজ কমতে ছাদে শুকোতে দেওয়া কাপড়গুলো তুলতে এসেছিল। একটু-বা হতচকিত মেয়েটা বললে,
-কী ব্যাপার এমন সময় তো কোনদিন ফেরা হয় না। শরীর খারাপ হলো নাকি?
- ঠিক তাই। ঠান্ডা লেগেছে জ্বর জ্বর ভাব।
আমতা আমতা করে বললে সুমন। ঠিক চলে যাবার মুখে বললে,
-ওষুধ খান। রাতে জ্বর বাড়লে ঝামেলায় পড়ে যাবেন।
রাতে একটু জ্বর বেড়েছিল সুমনের। বাবা-মেয়ের কথাগুলো মেলাতে-মেলাতে রাত ভোর হয়ে গেল প্রায়।
তিনদিন পর এ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেল সে।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)