প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ ধারাবাহিক রম্যঃ পাঁচ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
দুষ্টু বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক রম্যঃ পাঁচ

"না অনেক হয়েছে। এবার উঠতে হবে। বাড়ি যাই। মিষ্টির জন্য মন ছটফট করছে যে। ওকে খুব আদর করতে ইচ্ছে হচ্ছে এখন। উঠে পড়লাম।"

 
অফিস থেকে বিকাল চারটের সময় বেরিয়ে পড়েছি। এবার বাড়ির আশেপাশের রাস্তায় ঘুরপাক খাব। দেখি না কীসব ঘটনা ঘটে। রতনের চায়ের দোকানের ভিতরে গিয়ে বসে, চা বললাম যাতে আমি পুরো রাস্তাটা দেখতে পাই। চা অর্ডার দিয়ে চুপ করে বসে রইলাম। এক নাগাড়ে তিনঘন্টা বসে থেকে কাহিল হলাম কিছুই নজরে এল না।
 
অনেক ছেলে-মেয়ে লোকজন যাতায়াত করছিল কিন্তু আমার জানা কাউকেই তেমন পেলাম না। আসলে আমার মন আর নাম যে এই রকমই। দুষ্টু মানেই সবসময়েই মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি। কিন্তু আমি মিষ্টিকে ভালবাসি এবং বিশ্বাস করি তবুও ইদানিং ওর কিছু কাজ আমাকে বড় চিন্তায় ফেলে দিচ্ছিল। সন্দেহ ভাল না কিন্তু সতর্ক থাকাটাও বড় জরুরি।
 
আজেবাজে চিন্তা করছি হঠাৎ চমক খেলাম দেখে, যেন মনে হল মিষ্টি আমার সামনে দিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেল। আমি নিমেষে উঠে ওকে ফলো করতে যাব দেখি কিচ্ছু নয়। আমার সবটাই চোখের ভুল। দেখলেন তো আমার মনটা কেমন দূষিত এবং বিষাক্ত হয়ে গেছে? মনে পাপ একবার ঢুকলে যা হয় তাকে বিদায় করা বড় মুশকিল।
 
না অনেক হয়েছে। এবার উঠতে হবে। বাড়ি যাই। মিষ্টির জন্য মন ছটফট করছে যে। ওকে খুব আদর করতে ইচ্ছে হচ্ছে এখন। উঠে পড়লাম। রতনকে চায়ের দাম দিচ্ছি, আমি একদম ড্যাম সিওর হয়ে গেলাম মিষ্টি আমার সামনে দিয়ে ফেরত এল এবং হনহন করে বাড়ি মুখো রওনা দিল। আমার পেমেন্ট দিতে যতটুকু সময় লাগল তারমধ্যেই ও বাড়িতে ঢুকে গেল। আমি পিছনে পড়ে রইলাম। ধরা ওর হল না। ভাবলাম বাড়ি যাই আর কায়দা মারি। দেখি কত ঝাঁনু মিষ্টি তুমি?
বাড়ি ঢুকতেই মিষ্টি ছুটে এল,
-কী গো আজ এত তাড়াতাড়ি?
-এই এদিকে কাজ ছিল। তা তুমি ড্রেস করছিলে বেরোবে নাকি?
মিষ্টি আমার উপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল।
-সত্যি দুষ্টু আমার স্বামী! আমি আর কোথায় যাব? তুমি কি আমায় বলেছিলে যে তুমি আজ আগে এসে আমায় ঘুরতে নিয়ে যাবে?
চালাকি জানে বটে মেয়েটা। বুঝতেই দিল না যে ও একপ্রস্থ ঘুরে বেরিয়ে এল। আমার সব বোঝা হয়ে গেল। আর কিছু বললাম না। জেনে গেলাম আমি না থাকলে মিষ্টি বাইরে বের হয় কাউকে কিছু না জানিয়ে। আর কেউ কিছু বোঝেই না, বাড়ি জানতেই পারে না।
আমি জামাকাপড় ছাড়ার অজুহাতে বাথরুম চলে গেলাম। ফ্রেস হয়ে বেরোতেই মা বলল,
-বস, চা পরে দিচ্ছি আগে মুড়ি আর চপ খা।
-আমার মন ভাল নেই তাই ডাইনিং টেবিলে বসতেই মা একবাটি মুড়ি আর গরম আলুরচপ বেগুনি দিল।
আমি খুশি হলেও আশ্চর্য হয়ে গেলাম,
-তুমি এসব কি বানালে?
-ধুর বোকা ছেলে, এসব কখন বানালাম? আজ না খুব চপ-মুড়ি খেতে ইচ্ছে হচ্ছিল। তাই বৌমাকে বলেছিলাম। ওই তো দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এল। আর কপালে তোরও ছিল তুই কেমন গন্ধে গন্ধে চলে এলি? নে বাবা এগুলো নিয়ে তোর ঘরে যা আর বৌমারটাও নিয়ে যা।
লজ্জায় আমার মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে হল। আমি কী বোকা? তাড়াতাড়ি বাটি দুটি নিয়ে ঘরে চলে গেলাম। মিষ্টি বউ আমার জন্য সাজছিল আমি ঢুকেই ওকে জাপটে ধরলাম আর আদর দিতে লাগলাম। মুড়ির বাটি চপ পরে রইল। মিষ্টি হায় হায় করে উঠল,
-ঈমা কী অসভ্য তুমি? ঘরেতে এসেই দুষ্টুমি শুরু করে দিলে?
-আমার বউ, আমি যখন খুশি করব। তোমার কী?
-আচ্ছা তাই করবে আগে চপ মুড়ি খাও আমি যে কত কষ্ট করে দৌড়ে নিয়ে এলাম।
আমি সত্যি বোকা বনে গেলাম। মিষ্টি আমার ভাল বউ। ওকে আজ অনেক আদর করব। ওতে আমাতে মুড়ি-চপের বাটি টেনে নিলাম।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)