বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— বিপন্নতা
কবি— মলয় সরকার
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই
পর্যালোচনা]
বিপন্নতা যত মানুষের—
অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে আসে হায়েনার মতো,
পিচ্ছিল শ্যাওলা মাথা চাড়া
দেয়
নিস্তব্ধ রাতে স্বাতী নক্ষত্র থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে—
বিপন্নতা যত মানুষের
কাপুরুষ ক্লীবের মতো মাথা নিচু করে
বন্ধ্যা ধূসর জমি অসহায় চোখ তুলে
প্রতিরোধ নিঃসাড়ে লুকায় নীল সমুদ্র তলে…
বিপন্নতা যত মানুষের—
জেগে ওঠো জ্বালামুখী ধূমাবতী হয়ে
জেগে ওঠো আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা নিয়ে
জ্বলে ওঠো দাবানল বাড়বানল হয়ে
কঠিন আকণ্ঠ প্রতিজ্ঞা নিয়ে—
মানুষের বিপন্নতা নিয়ে একটি
কবিতা, বিষয়টি universal truth of human being যেটা মানুষকে
সম্মুখীন হতে হয় প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে।
ভাবহীন সহজ সরল কবিতার বিষয়বস্তু, কয়েকটি চমৎকার শব্দবন্ধের সাহায্যে বিপন্নতার আঁচ কবি উপলব্ধির চেষ্টা করেছেন যেমন অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে আসে হায়েনার মতো, পিচ্ছিল শ্যাওলা মাথা চাড়া দেয়, নিস্তব্ধ রাতে স্বাতী নক্ষত্র থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে—।
বিপন্নতার আঁচ পেয়ে কাপুরুষরা বিপদের মোকাবিলা না করে পিছিয়ে যায়, ক্লীব মনে হয় তাঁদের, বন্ধ্যা জমির অসহায়ত্বর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে মাটির অনুর্বরাশক্তির সঙ্গে প্রতিরোধহীনতার সাযুজ্য ঘটিয়েছেন।
কবি শেষ স্তবকে মানুষকে কঠিন প্রতিজ্ঞা নিয়ে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু সে বিপন্নতা বাইরের বিরোধী শক্তির দ্বারা সংঘটিত, যারা নিজেদের স্বার্থ কায়েমের জন্য মানুষকে বিপদে ফেলে, তাঁদের বিরুদ্ধে দাবানলের মতো জ্বলে ওঠা যায়।
প্রকৃতির কারণে মানুষের বিপন্নতাও কম নয়, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গেলে মানুষকে নিজেদের স্বভাবকে বা কৃতকর্মকে সংশোধন করতে হয়, তবেই সুদূরপ্রসারী উদ্ধার পাওয়া সম্ভব।
বিষয়মুখী কবিতার ক্ষেত্রে বিষয়কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কবিতা শ্লোগানধর্মী হয়ে যায়, এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। কবিতার ক্ষেত্রে যে দর্শনসত্তার আড়াল থাকে, সেটি উপেক্ষিত হয়েছে, দক্ষতার অভাব যে রয়েছে, সেটা বলা যাবে না, তবে চেষ্টা করা হলে আরো শব্দের ব্যঞ্জনা দিলে হয়তো কবিতাটি সার্বিকভাবে একটি সফল কবিতার রূপ পেত।
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— বিপন্নতা
কবি— মলয় সরকার
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত
"প্রকৃতির কারণে মানুষের বিপন্নতাও কম নয়, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গেলে মানুষকে নিজেদের স্বভাবকে বা কৃতকর্মকে সংশোধন করতে হয়, তবেই সুদূরপ্রসারী উদ্ধার পাওয়া সম্ভব।"
অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে আসে হায়েনার মতো,
নিস্তব্ধ রাতে স্বাতী নক্ষত্র থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে—
বিপন্নতা যত মানুষের
কাপুরুষ ক্লীবের মতো মাথা নিচু করে
বন্ধ্যা ধূসর জমি অসহায় চোখ তুলে
প্রতিরোধ নিঃসাড়ে লুকায় নীল সমুদ্র তলে…
বিপন্নতা যত মানুষের—
জেগে ওঠো জ্বালামুখী ধূমাবতী হয়ে
জেগে ওঠো আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা নিয়ে
জ্বলে ওঠো দাবানল বাড়বানল হয়ে
কঠিন আকণ্ঠ প্রতিজ্ঞা নিয়ে—
ভাবহীন সহজ সরল কবিতার বিষয়বস্তু, কয়েকটি চমৎকার শব্দবন্ধের সাহায্যে বিপন্নতার আঁচ কবি উপলব্ধির চেষ্টা করেছেন যেমন অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে আসে হায়েনার মতো, পিচ্ছিল শ্যাওলা মাথা চাড়া দেয়, নিস্তব্ধ রাতে স্বাতী নক্ষত্র থেকে অশ্রু ঝরে পড়ে—।
বিপন্নতার আঁচ পেয়ে কাপুরুষরা বিপদের মোকাবিলা না করে পিছিয়ে যায়, ক্লীব মনে হয় তাঁদের, বন্ধ্যা জমির অসহায়ত্বর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে মাটির অনুর্বরাশক্তির সঙ্গে প্রতিরোধহীনতার সাযুজ্য ঘটিয়েছেন।
কবি শেষ স্তবকে মানুষকে কঠিন প্রতিজ্ঞা নিয়ে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু সে বিপন্নতা বাইরের বিরোধী শক্তির দ্বারা সংঘটিত, যারা নিজেদের স্বার্থ কায়েমের জন্য মানুষকে বিপদে ফেলে, তাঁদের বিরুদ্ধে দাবানলের মতো জ্বলে ওঠা যায়।
প্রকৃতির কারণে মানুষের বিপন্নতাও কম নয়, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গেলে মানুষকে নিজেদের স্বভাবকে বা কৃতকর্মকে সংশোধন করতে হয়, তবেই সুদূরপ্রসারী উদ্ধার পাওয়া সম্ভব।
বিষয়মুখী কবিতার ক্ষেত্রে বিষয়কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে কবিতা শ্লোগানধর্মী হয়ে যায়, এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। কবিতার ক্ষেত্রে যে দর্শনসত্তার আড়াল থাকে, সেটি উপেক্ষিত হয়েছে, দক্ষতার অভাব যে রয়েছে, সেটা বলা যাবে না, তবে চেষ্টা করা হলে আরো শব্দের ব্যঞ্জনা দিলে হয়তো কবিতাটি সার্বিকভাবে একটি সফল কবিতার রূপ পেত।

No comments:
Post a Comment