বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ,
১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | গল্পাণু
গোবিন্দ
সাহা
আবার
এল বৈশাখ
"বৈশাখ আসে জানুয়ারি আসে, যায় শুধু দিন। চোখ ছলছল করে লখিন্দরের। রিমিকে সে বড্ড ভালবাসত। পয়লা বৈশাখে রাধাগোবিন্দের মন্দিরে নতুন শাড়ি আর ভেজা এলানো চুলে পুজো দিতে যেত রিমি।"
তরতর করে চলে গেল বারোটি মাস।
এই তো সেদিন নিউ ইয়ার পালন করেছে ক্লাবের ছেলেরা। এত তাড়াতাড়ি পয়লা বৈশাখ।
লখিন্দর বলল,
-আরে আমারা বাঙালি। চল
নববর্ষে কিছু একটা করি।
সকলেই রাজি। কিন্তু করার আর কী। বনবন করে পৃথিবী ঘোরে আর একটা করে বছর যায়। সে বাংলা না ইংরেজি তাতে কী। চুলে তো পাক ধরে। বিপিন বলল,
-সেই কবে ইউনিভার্সিটি পাশ
করেছি...
সকলেই তারস্বরে বলে ওঠে,
-ওই আবার মন
খারাপের কথা।
-সত্যিই কি তাই। আমরা পালিয়ে পালিয়ে যাব কতদূর।
লখিন্দর বলল,
-তোকে কে বলল আমরা পালিয়ে
যাই।
-লোকে আমাদের বখাটে বলে।
-তাতে আমাদের কী। চাকরি নেই। গায়েগতরে খাটতে পারি না। তবে
কি মরব এখন...
-কিন্তু এভাবে চলবে কতদিন?
সকলেই বলল,
-যতদিন চলে।
এই সব করে ঠিক চলে যাবে।
বৈশাখ আসে জানুয়ারি আসে, যায় শুধু দিন। চোখ
ছলছল করে লখিন্দরের। রিমিকে সে বড্ড ভালবাসত। পয়লা বৈশাখে রাধাগোবিন্দের মন্দিরে
নতুন শাড়ি আর ভেজা এলানো চুলে পুজো দিতে যেত রিমি। মোড়ের ছাতিম গাছের আড়াল
থেকে দেখত লখিন্দর। একদিন বিয়ে হয়ে গেল। অনেকবার রিমি বলেছিল একটা কিছু করতে, পারেনি সে।
সকলে বলল,
-কী হল রে। চল
চল। রাত পোহালেই পয়লা বোশেখ। এবারে কী মেনু হবে বল...
পুরোনো বছরের শুষ্ক চৈতি হাওয়া ঘূর্ণিপাকে
নেচে যায় তাদের সামনে। কত কিছু মুছে যায় তবু পয়লা বোশেখ আসে আর
পাঁচটা দিনের মতো। উস্কে দিয়ে যায় স্মৃতির ভস্ম ঢাকা আগুন...
~~000~~

No comments:
Post a Comment