প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Sunday, April 26, 2026

আতঙ্ক | মোহাম্মদ বিন এমদাদ

বাতায়ন/আতঙ্ক/নাটক/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | নাটিকা
মোহাম্মদ বিন এমদাদ
 
আতঙ্ক

"ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে এল। কলিং বেলের আওয়াজ থেমে গেছে। বাইরে একদম নিস্তব্ধ। আরিফ দরজার কাছে গিয়ে কাঁপা হাতে লক খুলল। কিন্তু করিডোরে কেউ নেই।"

 
দৃশ্য: ১
 
[রাত ১১টা। মধ্যবিত্ত ড্রয়িংরুম। আরিফ ল্যাপটপে কাজ করছে। শায়লা পাশে বসে বই পড়ছে। বাইরে বৃষ্টির হালকা শব্দ। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল। দুজনেই চমকে একে অপরের দিকে তাকাল।]
 
শায়লা: (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) এই অসময়ে কে? ১১টা বাজে।
আরিফ: হয়তো ওপরতলার কবির সাহেব। প্রায়ই চাবি ভুলে যান।
 
[আরিফ দরজার কাছে গিয়ে আই-হোল দিয়ে দেখার চেষ্টা করল। বাইরে ঘুটঘুঁটে অন্ধকার, করিডোরের লাইটটা জ্বলছে না।]
 
আরিফ: কে? কে বাইরে?
কণ্ঠস্বর: (খুব নিচু এবং শান্ত স্বরে) দরজাটা খুলুন। জরুরি কথা আছে।
শায়লা: (ফিসফিসিয়ে) চেনো কাউকে? গলাটা খুব অদ্ভুত লাগছে।
আরিফ: না, ঠিক বুঝতে পারছি না। (উচ্চস্বরে) আপনার নাম কী? এই সময়ে কী দরকার?
কণ্ঠস্বর: নাম জেনে কী হবে? আপনি যা লুকিয়ে রাখছেন, সেটা আমি জানি। দরজা খুলুন, নাহলে দেরি হয়ে যাবে।
 
দৃশ্য: ২
 
[আরিফের কপালে ঘাম জমেছে। সে পিছিয়ে এল। শায়লা আতঙ্কিত হয়ে আরিফের হাত ধরল।]
 
শায়লা: আরিফ, পুলিশে ফোন দাও। লোকটার কথা ভাল ঠেকছে না। কী লুকিয়ে রাখার কথা বলছে ও?
আরিফ: (উত্তেজিত স্বরে) আমি কী লুকাব? আমি তো সাধারণ একজন মানুষ! (দরজার দিকে তাকিয়ে) শুনুন, আপনি চলে যান। নাহলে আমি দারোয়ানকে ডাকব।
কণ্ঠস্বর: (দরজার ওপাশ থেকে একটা খসখসে হাসি শোনা গেল) দারোয়ান ঘুমিয়ে আছে। আর আপনার ভেতরের ওই পুরনো অপরাধটা তো জেগে আছে, তাই না? গত বছর বৃষ্টির সেই রাতটার কথা মনে পড়ে?
 
[আরিফ পাথর হয়ে গেল। তার চোখেমুখে এক চরম ভয়ের ছাপ। সে কাঁপতে কাঁপতে সোফায় বসে পড়ল।]
 
শায়লা: আরিফ! কী বলছে ও? গত বছর বৃষ্টির রাতে কী হয়েছিল? তুমি কি কিছু গোপন করছ আমার কাছে?
আরিফ: (তোতলামি করে) না... না তো! ও পাগল, নির্ঘাত ভুল মানুষের দরজায় এসেছে।
কণ্ঠস্বর: ভুল করিনি আরিফ সাহেব। আপনার টেবিলের ড্রয়ারের সেই নীল ডায়েরিটা বের করুন। ওখানেই সব লেখা আছে। দরজা না খুললে আমি নিজেই ভেতরে আসছি।
 
দৃশ্য: ৩
 
[হঠাৎ ড্রয়িংরুমের আলো নিভে গেল। লোডশেডিং। শায়লা চিৎকার করে উঠল। বাইরে থেকে দরজা ধাক্কানোর শব্দ শুরু হলো। ধপ! ধপ! ধপ!]
 
শায়লা: আরিফ, কিছু একটা করো! ও ভেতরে চলে আসবে!
আরিফ: (চিৎকার করে) ক্ষমা করে দিন! আমি ওটা ইচ্ছে করে করিনি! ওটা একটা দুর্ঘটনা ছিল! শায়লা, আমি...
 
[ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে এল। কলিং বেলের আওয়াজ থেমে গেছে। বাইরে একদম নিস্তব্ধ। আরিফ দরজার কাছে গিয়ে কাঁপা হাতে লক খুলল। কিন্তু করিডোরে কেউ নেই। শুধু মেঝেতে একটি নীল রঙের খাম পড়ে আছে।]
 
শায়লা: (ভয়ার্ত কণ্ঠে) লোকটা নেই?
আরিফ: (খামটা খুলে দেখল তাতে শুধু একটা আয়না রাখা।)
শায়লা: আয়না কেন?
আরিফ: (আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে নিচু স্বরে) কারণ আতঙ্কটা বাইরে ছিল না শায়লা, আতঙ্কটা ছিল আমার ভেতরে। ও আমার নিজের বিবেক ছাড়া আর কেউ না।
 
[আরিফ ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল। শায়লা স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পর্দা নামল।]
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)