বাতায়ন/আতঙ্ক/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | পর্যালোচনা
কবিতা— অগস্ত্য যাত্রা
কবি— মধুপর্ণা বসু
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত
আতঙ্ক | পর্যালোচনা
কবিতা— অগস্ত্য যাত্রা
কবি— মধুপর্ণা বসু
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত
"'ইনকিলাব' মানুষের চেতনা জাগ্রত করার মোক্ষম এবং অবধারিত শব্দ, বিপ্লবের, দ্রোহের এক অবশ্যাম্ভাবী স্নাযুতন্ত্রকে সংবেদনশীল করে তোলে, নড়ে নড়ে ওঠে বুকের ভেতরে সুপ্ত আগুন।"
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
বিশ্বাসটুকু মরে গেলে সব
প্রাগৈতিহাসিক।
বিশ্বাসটুকু বুকে পুষে রাখছে আজ-কাল ভবিষ্যৎ।
এই বিশ্বাস তোমায় আমায় ছুঁয়ে
স্ফুলিঙ্গের বিন্দু বিন্দু আগুন
আনবে আর এক নতুন বিস্ফোরণ
অলৌকিক লাল আগুনে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি।
দুর্দান্ত একটা ডাক, একটা ইনকিলাব!
এ যুগের সব ত্রিফলা নিয়নের বাতি জ্বালিয়ে
একটা নড়বড়ে শবদেহবাহী যান চলেছে…
যুগের অগস্ত্য যাত্রা, নাচতে নাচতে ড্রাম পেটাচ্ছে
নন্দি-ভৃঙ্গি উদোম নাচছে, টলমলে পায়ে রাজা উজির পারিষদ
নেশায় বুঁদ, শক্তি আর শাসনের নেশা!
কখন যাত্রা হয়েছে মৃতদেহ-বাহী
এই দেশের
অজ্ঞান, নির্বোধ মদমত্ত শাসক চিৎকার করে নিজের মৃত্যুর রাস্তা সাফ করছে…
হরি বোল বল হরি!
এই সময়ের, এই পরিস্থিতির,
এই
পরিপ্রেক্ষিতের একটি কবিতা। কবিতাটির ফর্ম এখনকার মতো গদ্য রীতিতেই লেখা।
বিশ্বাস এক পারস্পরিক সম্পর্কিত, মানুষের সঙ্গে মানুষের, মানুষের সঙ্গে বর্তমান সময়ের, বিশ্বাস মৃত হলে জীবনের সারবস্তু অসার, মৃত, যার অভাবে ভালবাসা চাহিদা সর্বোপরি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অচল হয়ে যায়, আবার বিশ্বাস অটুট থাকলেই কবির ভাষায়—
আনবে আর এক নতুন বিস্ফোরণ
অলৌকিক লাল আগুনে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি।
'ইনকিলাব' মানুষের চেতনা জাগ্রত
করার মোক্ষম এবং অবধারিত শব্দ, বিপ্লবের, দ্রোহের এক অবশ্যাম্ভাবী স্নাযুতন্ত্রকে সংবেদনশীল করে তোলে, নড়ে নড়ে ওঠে বুকের ভেতরে সুপ্ত আগুন।
আমাদের শাসনব্যবস্থার রাজা-উজির অমাত্যবর্গের ক্ষমতার দাম্ভিকতায় শাসনের নামে শোষণ চলছে এখন—
এ যুগের সব ত্রিফলা নিয়নের
বাতি জ্বালিয়ে
একটা নড়বড়ে শবদেহবাহী যান চলেছে…
উন্নয়নের মোড়কে নিয়নের বাতি এখানে চমৎকার উপকরণের ইঙ্গিত, যা নিষ্ফল, নড়বড়ে শবদেহবাহী
যানের উপমায় প্রতিফলিত হয়েছে।
‘কখন যাত্রা হয়েছে মৃতদেহ-বাহী এই দেশের
অজ্ঞান, নির্বোধ মদমত্ত শাসক চিৎকার করে নিজের মৃত্যুর রাস্তা সাফ করছে…
হরি বোল বল হরি!’
বর্তমান শাসককুল চিৎকার করে নিজেদেরই মৃত্যু ঘোষণা করছে, আর শ্মশানযাত্রীদের মতো হরি বোল নাম নিয়ে সৎকারের কথাই যেন জানিয়ে দিচ্ছে।
কবিতাটি বর্তমান শাসকশ্রেণীর অবস্থাকে বর্ণনামূলক ভাবে, শ্লোগানের ভঙ্গিমায় লিখেছেন দৃপ্ত এবং কুন্ঠাহীন ভাষায়, কিন্তু কবিতা সৃষ্টির মূল দর্শন বা শব্দের আড়াল এখানে নেই, কয়েকটি শব্দবন্ধের মাধ্যমে অগস্ত্য যাত্রার বনামে চিরবিদায়ের কথা বলতে চেয়েছেন।
কবিতাটির শ্লেষের সুরকে বজায় রাখতে সমর্থ হলেও বক্তব্য ধর্মী প্রসঙ্গ এড়িয়ে গঠনবৈচিত্রে মন দিলে কবিতাটি আরো সার্থক হতো।
বিশ্বাসটুকু বুকে পুষে রাখছে আজ-কাল ভবিষ্যৎ।
আনবে আর এক নতুন বিস্ফোরণ
অলৌকিক লাল আগুনে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি।
এ যুগের সব ত্রিফলা নিয়নের বাতি জ্বালিয়ে
একটা নড়বড়ে শবদেহবাহী যান চলেছে…
যুগের অগস্ত্য যাত্রা, নাচতে নাচতে ড্রাম পেটাচ্ছে
নন্দি-ভৃঙ্গি উদোম নাচছে, টলমলে পায়ে রাজা উজির পারিষদ
নেশায় বুঁদ, শক্তি আর শাসনের নেশা!
অজ্ঞান, নির্বোধ মদমত্ত শাসক চিৎকার করে নিজের মৃত্যুর রাস্তা সাফ করছে…
হরি বোল বল হরি!
বিশ্বাস এক পারস্পরিক সম্পর্কিত, মানুষের সঙ্গে মানুষের, মানুষের সঙ্গে বর্তমান সময়ের, বিশ্বাস মৃত হলে জীবনের সারবস্তু অসার, মৃত, যার অভাবে ভালবাসা চাহিদা সর্বোপরি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অচল হয়ে যায়, আবার বিশ্বাস অটুট থাকলেই কবির ভাষায়—
অলৌকিক লাল আগুনে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি।
আমাদের শাসনব্যবস্থার রাজা-উজির অমাত্যবর্গের ক্ষমতার দাম্ভিকতায় শাসনের নামে শোষণ চলছে এখন—
একটা নড়বড়ে শবদেহবাহী যান চলেছে…
উন্নয়নের মোড়কে নিয়নের বাতি এখানে চমৎকার উপকরণের ইঙ্গিত, যা নিষ্ফল, নড়বড়ে শবদেহবাহী
যানের উপমায় প্রতিফলিত হয়েছে।
‘কখন যাত্রা হয়েছে মৃতদেহ-বাহী এই দেশের
অজ্ঞান, নির্বোধ মদমত্ত শাসক চিৎকার করে নিজের মৃত্যুর রাস্তা সাফ করছে…
হরি বোল বল হরি!’
বর্তমান শাসককুল চিৎকার করে নিজেদেরই মৃত্যু ঘোষণা করছে, আর শ্মশানযাত্রীদের মতো হরি বোল নাম নিয়ে সৎকারের কথাই যেন জানিয়ে দিচ্ছে।
কবিতাটি বর্তমান শাসকশ্রেণীর অবস্থাকে বর্ণনামূলক ভাবে, শ্লোগানের ভঙ্গিমায় লিখেছেন দৃপ্ত এবং কুন্ঠাহীন ভাষায়, কিন্তু কবিতা সৃষ্টির মূল দর্শন বা শব্দের আড়াল এখানে নেই, কয়েকটি শব্দবন্ধের মাধ্যমে অগস্ত্য যাত্রার বনামে চিরবিদায়ের কথা বলতে চেয়েছেন।
কবিতাটির শ্লেষের সুরকে বজায় রাখতে সমর্থ হলেও বক্তব্য ধর্মী প্রসঙ্গ এড়িয়ে গঠনবৈচিত্রে মন দিলে কবিতাটি আরো সার্থক হতো।

No comments:
Post a Comment