বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | ছোটগল্প
সঙ্ঘমিত্রা দাস
চৈতালি হাওয়া
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | ছোটগল্প
সঙ্ঘমিত্রা দাস
"মনে পড়ে তোমার সাথে প্রথম দেখার দিনটা? এমনই এক চৈত্র বিকেলে ডালহৌসি মোড়ে চায়ের দোকানে আটকে ছিলাম দুজনে। তোমার সেই স্পেশাল ছাতা? কী ক্যাবলা ছিলে গো।"
-মনে পড়ে তোমার সাথে প্রথম দেখার দিনটা? এমনই এক চৈত্র বিকেলে ডালহৌসি মোড়ে চায়ের দোকানে আটকে ছিলাম দুজনে। তোমার সেই স্পেশাল ছাতা? কী ক্যাবলা ছিলে গো।
সুকল্যান মৃদু প্রতিবাদ করে বলল,
-মোটেই না, ওই ছাতাটার জন্যই একটু টেনশনে ছিলাম। তুমি বারবার তাকাচ্ছিলে ওটার দিকে, বুঝেছিলাম ভাগ বসাতে চাও।
দুজনেই হোহো করে হাসতে থাকল। কাজের মেয়েটা ছুটে এলো হাসি শুনে।
-দাদু-দিদা তোমাদের বৃষ্টি দেখে এত আনন্দ হয়েছে, হেসে গড়িয়ে পড়ছ।
শুভ্রা বসাল ওকে।
-আজ নাহয় শুধু খিচুড়ি রান্না করে দিস। এখন শোন তোকে একটি মজার গল্প বলি।
শুভ্রা শুরু করল পঁয়ত্রিশ বছর আগের সেই দিনের কথা। সুকল্যান একটু আপত্তি করলেও, স্মৃতিতে ডুব দিল সেও।
-এই যে শুনছেন, আপনাকে বলছি। ছাতা আছে তো চলুন না মেট্রো অব্দি দুজনে বেশ চলে যেতে পারব। বৃষ্টি তো খুব আস্তেই পড়ছে। আমার ট্রেনটা মিস হলে খুব অসুবিধায় পড়ব।
অগত্যা ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে এগিয়ে এলো সুকল্যান। শুভ্রা তাড়াতাড়ি ছাতাটি নিয়ে খুলতে খুলতেই রাস্তায় নেমে এলো। মাথায় ছাতা ধরেছে সুকল্যান। পুরোনো লগবগে ছাতা, হাওয়ায় দুলছে। কয়েকটা শিক থেকে কাপড় খুলে এসেছে। শুভ্রা এতক্ষণে বুঝল ছাতা থাকতেও লোকটার দাঁড়িয়ে থাকার কারণ। এমন একটা ছাতা নিয়ে বেরোনোর কী মানে আছে। চাকরিটাতো নেহাৎ খারাপ নয়। বেশ বড়সড় একটি ফুটোও আছে ছাতায়। সেটা দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকল কাঁধে। কোনমতে নিজেকে বাঁচিয়ে এগোতে থাকল দুজনে। হঠাৎ টং করে সুকল্যানের মাথায় কী একটা পড়ল। ছোট একটি শিল ছাতার ফুটো ভেদ করে ওর মাথায়। আর হাসি চাপতে পারল না শুভ্রা। ওর হাসি দেখে সুকল্যানও নিরুপায় হয়ে মুচকি একটা হাসি দিল। ওরা তখন প্রায় মেট্রোর কাছে পৌঁছে গেছে। বেশ হাওয়া দিচ্ছে। সুকল্যান প্রাণপণে শুভ্রার মাথায় ছাতাটা ধরে আছে। বারবার হেলে পড়ছে, শিকগুলো দুর্বল তাই বেশ কাঁপছে ছাতাটা। স্টেশনের মুখটার কাছে হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় ছাতা গেল উলটে। শুভ্রা তো এক লাফে স্টেশনের সুড়ঙ্গে ছুটে গিয়ে দাঁড়াল। সুকল্যান ঘটনার আকস্মিকতায় কী করবে দিশা না পেয়ে উলটানো ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজতে থাকল। ঘোর কাটল শুভ্রার চিৎকারে,
-দাঁড়িয়ে আছেন কেন? চলে আসুন, ভিজে যাচ্ছেন তো পুরো।
সেদিন মেট্রোতেই সুকল্যানও দমদম অবধি ফিরেছিল শুভ্রার সঙ্গে। সুকল্যানের সরল ভাবটা ভাল লেগেছিল শুভ্রার। যদিও অফিসে সবাই জেনে যাওয়ায় বহুদিন এই নিয়ে মজা করেছিল। সুকল্যানই বলেছিল বন্ধুমহলে ঘটনাটা। তারপর সেই ভাললাগা থেকেই এই চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবন।
মনিকাও শুনে হোহো করে হাসতে থাকল। বলল,
-দাদুকে তো খুব রাগী ভাবতাম, কী গম্ভীর! কিছু ভুল করলেই বকবে। কিন্তু দাদু ভারী ভাল মানুষ তো দিদা। তোমরা আরোও অনেকদিন এভাবেই ভাল থাকো।
~~000~~

No comments:
Post a Comment