বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
অর্পিতা দাস
আতঙ্ক
"সোমজা পেছনে শব্দ পেয়ে থমকে দাঁড়ায়, ধীরে ধীরে পেছনে তাকায়, না একটা কুকুর। ক্যারাটে ক্লাসটা মাথার মধ্যে চলতে থাকে। কান খাড়া করে দ্রুত পদে... কদমতলা মোড়ের দিকটা খুব অন্ধকার। রকবাজ ছোকরাদের আড্ডা সেখানে।"
আজ একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে।
রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান। সোমজা পিঠের ব্যাগটা সামনে এনে জোরকদমে এগিয়ে চলে। কাছেপিঠে
কোথাও একটা টোটোও চোখে পড়ছে না। রেলগেট পেরিয়ে কদমতলা মোড়, তার থেকে ডান দিকে কিছুটা এগোলেই সোমজাদের বাড়ি।
বাড়িতে হয়তো সবাই চিন্তা করছে। বাপির
শরীরটা আজকাল ভাল যাচ্ছে না। টিউশন থেকে অদ্রিজার জন্মদিনের পার্টিতে না গেলেই ভাল
হতো।
ঘড়ির কাঁটায় দশটা
বেজে পঁয়ত্রিশ মিনিট। অনিমেষ অস্হির ভাবে পায়চারি করতে থাকে। মাধুরী বরাবরই শান্ত
স্বভাবের কিন্তু সেও ধৈর্য রাখতে পারছে না। সত্যিই তো এতটা রাত করা ঠিক? সোমত্ত মেয়ে। সাতপাঁচ ভেবে মাথায় হাত দিয়ে
বসে পড়ে মাধুরী। অনিমেষ উদ্বিগ্ন কন্ঠে,
-কোনো অঘটন...
মাধুরী তার পরিচিত স্বভাব
থেকে বেরিয়ে এসে হিংস্র বাঘিনীর মতো চোখে চোখ রেখে,
-মেয়েকে লাই দিয়ে আরো মাথায় তোলো...
সোমজা পেছনে শব্দ পেয়ে থমকে
দাঁড়ায়, ধীরে ধীরে পেছনে তাকায়, না একটা কুকুর। ক্যারাটে ক্লাসটা মাথার মধ্যে চলতে থাকে।
কান খাড়া করে দ্রুত পদে...
কদমতলা মোড়ের দিকটা খুব
অন্ধকার। রকবাজ ছোকরাদের আড্ডা সেখানে। গেলবার কালীপুজোর সময় তমালীদির কী ভয়ানক
অবস্থা হয়েছিল। রক্তে ভেজা নগ্ন শরীরটার কথা মনে করেই গা শিউরে ওঠে সোমজার। উফ কী
বীভৎস সেই দৃশ্য!
-এই কে রে…
ধুকপুকানি শুরু হয় বুকে। এখনই
হয়তো ঝাঁপিয়ে পড়বে গায়ে, খুবলে খাওয়ার চেষ্টা
করবে পাষণ্ডগুলো। সোমজা মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছে। না, আর বিলম্ব নয়। হাত মুঠো করে পেছনে ঘুরতেই বিশুপাগলা হাততালি
দিয়ে নেচে ওঠে,
-ভয় পেয়েছে পেয়েছে,
কী
মজা...
ফেব্রুয়ারি মাসের মিষ্টি
আবহাওয়াতেও সোমজার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে যায়। মুখের ঘাম মুছে নিয়ে ধাতস্থ হয়ে
সামনের দিকে কয়েক পা দিতেই বুকের ধুকপুকানিটা কমে আসে। ওই তো সোমজাদের
বাড়ি দেখা যাচ্ছে। ব্যালকনির লাইট জ্বালানো রয়েছে। সেই আলোতে দেখা যাচ্ছে
পায়চারি করছে কেউ। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে আসে সেই ছবি। অনিমেষ, সোমজার বাপি।
~~000~~
No comments:
Post a Comment