প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, June 17, 2026

ভোটের দাগ | মাখনলাল প্রধান

বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন সংখ্যা/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | ছোটগল্প
মাখনলাল প্রধান
 
ভোটের দাগ

"ব্যাপারটা সবার ক্ষেত্রে কিন্তু হচ্ছে না। তাই কেউই তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না।‌ কিছুদিন পর দেখা গেল, দাগটা গভীর হয়ে ধীরে ধীরে চামড়ার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এক মাস পরে সেই আঙুল দিয়ে কেউ বই ধরতে পারছে না। কেমন ব্যথা ব্যথা করছে।"

 
ভোটের দিন বুথে নাম-টাম মিলিয়ে নেওয়ার পর আঙুল টেনে কালির দাগ দিয়ে দিল। আমাদের পাড়ার বয়স্ক মানুষ চিনা বিশ্বাস চেঁচিয়ে উঠল,
-এটা কী করলেন?
সরকারি কর্মকর্তা বলল,
-আপনি যে সরকার গঠনে সহায়তা করলেন, তার চিহ্ন।
 
কথাটা শুনে প্রথমে চিনা বিশ্বাস গর্ব অনুভব করল। সত্যি এতবড় দায়িত্ব পালনের জন্য তার কতবড় অবদান রইল। পথেঘাটে তার এখন মাথা উঁচু করে কথা বলতে ইচ্ছে করে। বাজারে, বাসে, অফিসে সবাই যখন আঙুল তুলে ছবি তুলল সেও আঙুলটা বাড়িয়ে দিল। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা গেল, দাগটা আর উঠছে না। ব্যাপারটা সবার ক্ষেত্রে কিন্তু হচ্ছে না। তাই কেউই তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না।‌ কিছুদিন পর দেখা গেল, দাগটা গভীর হয়ে ধীরে ধীরে চামড়ার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এক মাস পরে সেই আঙুল দিয়ে কেউ বই ধরতে পারছে না। কেমন ব্যথা ব্যথা করছে। কী যে হল, কেউ কিছু বলছেও না।
দু-মাস পরে দেখা গেল কলম ধরা অসম্ভব হয়ে গেছে। কলম কেন টাকা-ফাকা গোনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিন মাস পরে সন্তানদের মুখ ছোঁয়াও কষ্টকর হয়ে উঠল। অনেক নাগরিকের হাতে সেই কালির দাগ।
সরকার থেকে ঘোষণা করা হল— এ কালি মূলত যারা কথায় কথায় প্রশ্ন করে তাদের হাত থেকে মোছা যাবে না।
অনেকেই সন্দেহ করল, এটা নিছক ভয় দেখানো হচ্ছে। একজন সাইকো-রসায়নবিদ জানালেন— বিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের ব্লাডে রিঅ্যাকশন করে এই দাগ থেকে যেতে পারে। সেরকম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কালি তৈরি। এটা একটা সরকারি কৌশল বলতে দ্বিধা নেই।
 
দেশের মানুষ ভয় পেয়ে গেল। ওরা তো নিছক মজা করবে না। কিন্তু এখন তো দেখছি সরকারের রোষানলে পড়তে হবে। সত্যি সত্যি বিরোধীরা ভয় পেতে লাগল। চিনা বিশ্বাস মুখে খুব ফড়ফড় করত। সে এখন আর বাড়ি থেকে বেরোয় না। কিন্তু বাকি সকলেই হাত পকেটে ঢুকিয়ে হাঁটে। তারা প্রশ্ন করাও ভুলে গেল। বড় কথা কেউ আর কাউকে নিজের আঙুল দেখিয়ে কথা বলে না।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)