বাতায়ন/নাসির ওয়াদেন
সংখ্যা/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/৬ষ্ঠ সংখ্যা/২রা আষাঢ়, ১৪৩৩
নাসির ওয়াদেন সংখ্যা
| রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
প্রেয়সীর
ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-১
"আমি ইতস্তত করে ঘরে ঢুকেই দরজায় খিল দিয়ে ঘরে আমার প্ল্যান করে মজুত রাখা এক বালতি জল খাটের তলায় দিলাম ঢেলে, আর যাবে কোথায় কোঁ কোঁ করে আওয়াজ তুলে ধুতি গুটিয়ে পোঁ পোঁ করে দরজার খিল তুলে পালাল আমার জামাইবাবু।"
আরে না না যা ভাবছেন তা নয়
প্রেয়সী আমার লাইন মারা প্রেমিকা নয়, একেবারে ঘটক দিয়ে লাখ
কথা খরচ করে আমার বাবা-জ্যাঠা আর ওর বাপ-কাকা মিলেমিশে
শর্তানুযায়ী দেনাপাওনা মিটিয়ে,
ভুল
বুঝবেন না, এটা উভয়পক্ষের প্রযোজনায়
প্রথমে আইনি পরে ঘটের উপর হাতে হাত বসিয়ে,
আমার
মানে প্রাণকৃষ্ণের আঙুলের আঙটি দিয়ে সিঁথিতে সিঁদুর দান করে পাওয়া আমার বউ প্রেয়সী।
আমি খুব ছোট নই, তাও তিরিশ আর প্রেয়সী মাত্র বাইশ। রোগাটে চেহারা।
শ্যামবর্ণ। পাছা নামা চুল।
চকচকে লকলকে গঠন। ভীষণ জেদী
আর রাগী, না হলেও খুব দুষ্ট আর বাকি
সামান্যটুকুই মিষ্টি। আমার উপরে ওর বেশি অভিমান। কিছু ভুলভাল
হলেই রাগ। একেবারে আমাকে ধরে খামচাখামচি করে ছাড়ে। কীরকম আর কী বলব? এসব বলতে গেলে আমাদের
গুপ্তঘরে আপনাদের প্রবেশাধিকার অবাধ করতেই হয়।
ফুলশয্যার রাত্রির ঘটনা।
আমি ইতস্তত করে ঘরে ঢুকেই
দরজায় খিল দিয়ে ঘরে আমার প্ল্যান করে মজুত রাখা এক বালতি জল খাটের তলায় দিলাম ঢেলে, আর যাবে কোথায় কোঁ কোঁ করে আওয়াজ তুলে ধুতি গুটিয়ে পোঁ পোঁ
করে দরজার খিল তুলে পালাল আমার জামাইবাবু। বাইরে তুমুল আওয়াজে মহিলাদের উল্লাস
শুরু হল। তাদের উৎসাহে যেন ঘি ঢালা হল। আমি ভাবলেম প্রেয়সী বুঝি লজ্জা পাবে, কারণ ও বয়সে যে অনভিজ্ঞ। আরে কোথায় কী? আমাকে ইশারায় কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন,
-এই যে মশাই আপনি কী করে জানলেন যে কেউ খাটের তলায় আছে?
আমি মুচকি হেসে বললাম,
-এটাই তো...
-তার মানে আপনি আগেও অন্য কাউকে নিয়ে ফুলশয্যা করেছেন?
আমি তো অবাক। এ তো বাচ্চা নয়
চৌবাচ্চা।
-এটা একেবারে তুমি ঠিক ধরে ফেলেছ।
প্রেয়সীর চোখ বড় বড়,
-আমার ঘুম পেয়েছে।
-এইরাতে সব কুমারী মেয়েদেরই ঘুম পায়।
-ভীষণ অসভ্য তো আপনি?
-একটু পরে ভাল বুঝে যাবে।
-আমি কিন্তু খুব রেগে যাই।
-রাগী?
-হ্যাঁ।
-বাব্বা।
-তবে মাঝেমধ্যে ভাল লাগে, ভালওবাসি।
-আমাকেও?
-পারি। তবে আজ শুধু আমি যা চাইব তাই দেবে। রাজী হলে...
-কী?
-আজ মাত্র তিনশোটা চুমু খাবে, ব্যস।
-মাত্র?
-আর কিচ্ছুটি নয় কিন্তু? আবার কাল…
-তথাস্তু!
প্রেয়সী খুব সাহায্য করেছিল।
ও গুনছিল আঙুলে আর চোখ দিয়ে খুশি প্রকাশ করছিল আর আমি চুমু দিয়ে যাচ্ছিলাম যতটা
সম্ভব আদর দিয়ে নয়, নিয়েই, আর দুধের স্বাদ ঘলে মিটিয়েই!
ক্রমশ
No comments:
Post a Comment