প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

ইজ্জত আলীর কষ্ট [২য় পর্ব] | মমিনুল পথিক

বাতায়ন/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১১ম সংখ্যা/৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩
ধারাবাহিক গল্প
মমিনুল পথিক
ইজ্জত আলীর কষ্ট
[২য় পর্ব]

"কাজ প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ কী এক আনমনে হয়ে পড়ে ইজ্জত আলী। মেটাল টার্নিং চাকায় সার্টের একটি হাতা পেঁচিয়ে যায়। সাথে তার ডান হাতটিও চাকার ভেতর ঢুকে দুমড়ে মুচড়ে যায়।"

 
পূর্বানুবৃত্তি
 
সময়ের পরিক্রমায় দিন, মাস, বছর পেরিয়ে যায়। ইতোমধ্যে ইজ্জত আলী শিশু শ্রমিক এর অপবাদ কাটিয়ে উঠেছে। সে এখন হেডমিস্ত্রি হয়ে গেছে। বেতনও বেড়েছে মায়ের আর কোন কষ্ট হবে না। করিমা বেগম ভাঙা পা নিয়েই আবার কাজ করতে চায়। কিন্তু ছেলের একদম না। কোনমতেই মা’কে আর পরের বাড়িতে কষ্ট করতে দিবে না। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন, আর না। এখন সে যে মজুরি পায় তাতে মা ছেলের থাকা খাওয়ায় আর কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু মায়ের মন তো মানতে চায় না। ছেলে বড়ো হচ্ছে, বিয়ে দিতে হবে, ঘরে বউ আসবে, কত খরচ।
 
ইব্রাহিম মোল্লা মাঝে মাঝে কারখানা পরিদর্শন করেন। ইজ্জত আলীর কাজ দেখে তিনি খুবই খুশি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোও খুব নিখুঁতভাবে করতে পারে সে। সে-ই ছোট ইজ্জত আলী আজ অনেক বড় হয়েছে। এটা ভাবতেই ইব্রাহিম মোল্লার চোখ দিয়ে যেন আনন্দাশ্রু ঝরে। ভালো কাজে যে কী আনন্দ। মনে মনে ইজ্জত আলীর বিয়ে নিয়েও ভাবছেন তিনি। বিয়ে দিলে কাজেও আরো মনোযোগী হবে, তার মায়ের জন্যেও একটি সঙ্গী হবে।
ভাবতে ভাবতেই সত্যিই একদিন ইজ্জত আলীকে বিয়ে দিয়ে দিলেন ইব্রাহিম মোল্লা। মেয়েটি দেখতে শুনতে খুব ভালো। গরিব ঘরের মেয়ে। তার কারখানার সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করত। নবম শ্রেণিতে পড়ে। ইব্রাহিম মোল্লার নজরে একদিন পড়েছিল। তাকে ডেকে বাড়ি-ঘর ও মা-বাপের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারপর তিনি নিজেই তার মা-বাবার নিকট প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। পুত্রবধূ পেয়ে করিমা বেগম যার পর নাই খুশি হয়েছেন।
 
সেদিন সাইফুল নামের একজন মিস্ত্রি কাজে আসেনি। লেদ কারখানার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রটি সে চালাইতো। অনেক কাজের অর্ডার আছে। হেড মিস্ত্রি হিসেবে দায়িত্বটি ইজ্জত আলীর উপরই বর্তায়। তাইতো মেটাল টার্নিং লেদ মেশিনে কাজ করছে সে। একটু তাড়াহুড়াও আছে। বউকে দোকানে নিয়ে যাবে কেনাকাটা করার জন্যে। আগামীকাল থেকে কয়েকদিনের ছুটিতে যাবে সে। বউয়ের নানা বাড়ির সকল আত্মীয়-স্বজনরা দাওয়াত করেছে।
ইতোমধ্যে অনেক কাজ করা হয়েছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ কী এক আনমনে হয়ে পড়ে ইজ্জত আলী। মেটাল টার্নিং চাকায় সার্টের একটি হাতা পেঁচিয়ে যায়। সাথে তার ডান হাতটিও চাকার ভেতর ঢুকে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যেই লেদ মেশিনের চাকায় ইজ্জত আলীর একদিন ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছিল, সেই মেশিনই আজ তার দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
 
খবর পেয়ে ইব্রাহিম মোল্লা তাৎক্ষণিক এসে ইজ্জত আলীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখে জানান যে, তার ডান হাতটি কেটে ফেলতে হবে নইলে পচন ধরলে হয়তো শরীরের অন্য অংশেও জীবানু ছড়িয়ে যেতে পারে। অনেক টাকার প্রয়োজন। ইজ্জত আলীকে কিছুই জানানো হয়নি। ইব্রাহিম মোল্লা ডাক্তারকে অপারেশনের ব্যবস্থা করতে বলে ব্যাংকে চলে যান।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)