বাতায়ন/শারদীয়া/কষ্টিপাথর/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া | কষ্টিপাথর
আলোচক— সলিল মুখোপাধ্যায়
শারদীয়া | কষ্টিপাথর
আলোচক— সলিল মুখোপাধ্যায়
কবিতা—
প্রেম-বিরহ
কবি— শংকর ব্রহ্ম
[কবিতার
শিরোনাম, কবির
নাম ছাড়া শুধু কবিতা নিয়ে এই আলোকপাত]
[কবি ও কবিতার শিরোনাম বাংলায় লিখে ক্যাটাগরিতে সার্চ করলে আলোচ্য কবিতা পেয়ে যাবেন]
সম্ভাব্য শিরোনাম:
কবিতাটির মূল আকর্ষণ হলো— ভালবাসাকে সরাসরি পাওয়ার বা প্রকাশ করার আগে তাকে দূরত্ব, স্মৃতি ও কল্পনার মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করা। কবিতাটি যেন বলছে, কাউকে ভাল লাগা আর তার প্রতি সত্যিকারের ভালবাসা এক জিনিস নয়; মাঝখানে দরকার দূরত্বের পরীক্ষা।
প্রথম
স্তবকে কবি ভাললাগাকে কবিতায় রূপ দেওয়ার কথা বলেন। “ব্যঞ্জনা ও উপমা” দিয়ে প্রিয়
মানুষটির রূপ কতটা বদলে যায়— সেটা দেখার আহ্বান আসলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে
অনবদ্য করার বাসনা অর্থাৎ সৃজন স্পৃহা জাগে কিনা, যা ভালবাসার জনের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, তার পরীক্ষা। তবে কবি সঙ্গে
সঙ্গে বলেন, “কিছু না-ও করতে পার”—
অর্থাৎ ভালবাসাকে প্রকাশ করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
দ্বিতীয়
স্তবকে আসে আড়াল ও স্মৃতির পর্ব। “চোখের আড়ালে” রেখে মনে মনে তাকে ভাবা এবং “বুকের
বাগানে” বসানোর প্রস্তুতি— এখানে বাহ্যিক মানুষটি ধীরে ধীরে অন্তর্জগতের মানুষ হয়ে
ওঠে। “কোন জ্যোৎস্না ফোটে কিনা”— এই চিত্রকল্পটি সুন্দর; ভালবাসাকে এখানে ফুলের বদলে জ্যোৎস্না হিসেবে দেখা হয়েছে, যা অনুভূতিটির কোমলতা ও
রহস্যকে বাড়িয়েছে।
শেষ
স্তবকেই কবিতার দর্শনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। সত্যিই যদি ভাল লাগে, তবে দূরে চলে যাও। দূরত্বে
গিয়ে বোঝা যাবে, মানুষটিকে তুমি
সত্যিই ভালবাস, মনে হয়, "তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ
নাই, কিছু নাই গো..."
নাকি কেবল তার উপস্থিতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলে। তারপর তাকে “বুকের বাগানে” ফিরিয়ে
এনে যে ফুল ফোটে, সেটিই যেন সত্যিকারের
ভালবাসা। বিশেষভাবে লক্ষণীয়,
“বাগান”, “জ্যোৎস্না”, “ফুল”— এই তিনটি চিত্রকল্পের
মধ্য দিয়ে কবিতাটি একটি নিজস্ব আবেগের স্বর্গ তৈরি করেছে।
কবিতাটির
ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবেই সরল ও কথোপকথনধর্মী। কোথাও কোথাও “দেখ”, “তবে”, “কিনা”-র পুনরাবৃত্তি উপদেশের মতো শোনায়; আবার এই পুনরাবৃত্তিই কবিতার
নিজস্ব ছন্দ ও স্বর তৈরি করেছে। শেষের “তারপর মনে প্রাণে ভালবাস তাকে”— লাইনটি তাই
শুধু সমাপ্তি নয়, আগের সমস্ত পরীক্ষার
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সম্ভাব্য
শিরোনাম:
“ভালবাসার আগে”, "তারপর ভালবাস" বা "ভালবাসতে হলে"
এই তিনটির কোন একটি আমার মতে সবচেয়ে মানানসই। কারণ কবিতায় ভালবাসার আগে নিজের মনকে যাচাই করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি অসমাপ্ত শব্দবন্ধ এক রহস্যময়তা জাগায়, যার সমাধানে কবিতাটি পাঠের আকর্ষণ তৈরি হয়।
কবি— শংকর ব্রহ্ম
সম্ভাব্য শিরোনাম:
“ভালবাসার আগে”, "তারপর ভালবাস" বা "ভালবাসতে হলে"
কবিতাটির মূল আকর্ষণ হলো— ভালবাসাকে সরাসরি পাওয়ার বা প্রকাশ করার আগে তাকে দূরত্ব, স্মৃতি ও কল্পনার মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করা। কবিতাটি যেন বলছে, কাউকে ভাল লাগা আর তার প্রতি সত্যিকারের ভালবাসা এক জিনিস নয়; মাঝখানে দরকার দূরত্বের পরীক্ষা।
“ভালবাসার আগে”, "তারপর ভালবাস" বা "ভালবাসতে হলে"
এই তিনটির কোন একটি আমার মতে সবচেয়ে মানানসই। কারণ কবিতায় ভালবাসার আগে নিজের মনকে যাচাই করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি অসমাপ্ত শব্দবন্ধ এক রহস্যময়তা জাগায়, যার সমাধানে কবিতাটি পাঠের আকর্ষণ তৈরি হয়।

No comments:
Post a Comment