বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই
কার্ত্তিক,
১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-১০
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-১০
আহা এরকম করে কেন বল? এসবে কি আমার হাত আছে? তোমার ইচ্ছে-অনিচ্ছের মর্যাদা দিই বলেই না কোম্পানির কাছে বারবার দরবার করে ওদের মত বদলালাম। নাহলে আমার কি অসুবিধা ছিল? শুধু টাকাপয়সাই পাঠাতে পারিনি। তারপর জানি তোমার অনেক বন্ধুরা আছে, তারা তোমায় নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।
এটা যে হবে জানতাম। ক্রমাগত আমার সঙ্গে যোগাযোগহীন হয়ে আর কোন অর্থ না পেয়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিল প্রেয়সী। এবার ওখান থেকে ওর দাদা ওকে নিয়ে আমাদের এখানের অফিসে এসে পড়ে। বিয়ের পর কেউই মেয়ের দায়িত্ব নিতে চায় না।
লিফটে ওঠার সময়ে আমার কাছে খবর চলে আসে আর আমিও চেয়ার ছেড়ে ক্যান্টিনে গিয়ে বসে থাকি। ওরা যদি ম্যানেজারের ঘরে চলে যায় মুশকিল হবে তাই আমি দুজন কলিগ দিয়ে ওদেরকে নিয়ে কমন রুমে নিয়ে গিয়ে বসাতে বলি। ওদের বিষয়টি আগেই বলে রেখেছিলাম। ওর ভালই ম্যানেজ করে।
কলিগ বন্ধু দুজনকে চা পরিবেশন করিয়ে জানায়,
প্রেয়সীর দাদা,
-সে-তো হবেই। যাক বাড়িতে যান, ও ফিরেই বাড়ি যাবে।
প্রেয়সী সারা অফিস ঘুরে নেয়। ও খুব চালাক মেয়ে। আমিও কম যাই না।
ওরা বাড়ি ফিরলে আমি শান্তি পাই। আরো একদিন কাটিয়ে আমি বাড়ি ফিরি।
-আরে প্রেয়সী যে? কেমন আছ? এত বিমর্ষ লাগছে কেন তোমায়? কিছু হয়েছে না কি?
-আহা এরকম করে কেন বল? এসবে কি আমার হাত আছে? তোমার ইচ্ছে-অনিচ্ছের মর্যাদা দিই বলেই না কোম্পানির কাছে বারবার দরবার করে ওদের মত বদলালাম। নাহলে আমার কি অসুবিধা ছিল? শুধু টাকাপয়সাই পাঠাতে পারিনি। তারপর জানি তোমার অনেক বন্ধুরা আছে, তারা তোমায় নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।
-থাক আর ব্যাখ্যার দরকার নেই, পুরুষজাতের উপকার করা মানেই, ঘুরেফিরে সেই আদিম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।
-তাহলে?
-বাকি রইল কী?
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment