বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই
কার্ত্তিক,
১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
সঙ্ঘমিত্রা দাস
নীল দিঘি
নব প্রজন্ম জানে না তাদের স্বপ্নের তাজমহলের নীচে কত খুশি ফসিল হয়ে আছে। রাত বাড়ে, বারান্দায় দাঁড়ালে অট্টালিকার আলো ছাড়িয়ে দূরে কোথাও ভালবাসার জলাশয়টা এখনও হাতছানি দিয়ে ডাকে।
বাড়ির
উল্টোদিকে রাস্তার ওপারে বড় প্রিয় একটা জলাশয় ছিল। দুপাড় বিস্তীর্ণ ঘন নীল জল।
নাম ছিল নীল দীঘি। আমার ওই জলটুকু কেমন যেন একটু একটু করে করে হারিয়ে গেল চিরতরে।
চুরি হয়ে গেল একটা আস্ত পুকুর। কবে যে চুরি হল টের পেলাম না। চোখের সামনে থেকে
ধীরে ধীরে উধাও হয়ে গেল জলাশয়টা। পড়ে রইল এক বিরাট মাঠ। আজ সেখানে আকাশ ছোঁয়া
অট্টালিকা। কত মানুষের ভিড়। কংক্রিটের রাস্তা। বড় গেটের ভেতরে সারি সারি ঘর।
দুজন পেয়াদা পাহারায়, গেট খুলছে আর বন্ধ
করছে। গাড়ি ঢুকছে, বেরচ্ছে হুহু করে।
সবুজ কথাগুলো ওই চাকার নীচে পিষে চিরতরে চুপ হয়ে গেছে।
অথচ
একদিন কত পাখি এসে বসত পাড়ের গাছের ডালে। মাছরাঙা ঝপ করে মাছ তুলে নিত ঠোঁটে।
ছুটির দিনে আমিও ছিপ ফেলে অপেক্ষায় থাকতাম। মাছরাঙাটা আড় চোখে দেখত আমায়। পাখির
কিচিরমিচিরে ভালবাসার গান বাজত। ঘর বাঁধার স্বপ্ন বুনত ওরা। দুই ডানায় ভর করে
গুছিয়ে নিত নতুন প্রজন্মের আস্তানা। কোথায় হারিয়ে গেছে ওরা?
বৃষ্টির
দিনে তোলপাড় করা সাঁতারে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ভেসে চলা। কোঁচড় ভরে কুচো
চিংড়ি আনা। সিঁড়ির ওপর লাঠি হাতে মাকে আজও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। এখন সবই অতীত।
নব প্রজন্ম জানে না তাদের স্বপ্নের তাজমহলের নীচে কত খুশি ফসিল হয়ে আছে। রাত
বাড়ে, বারান্দায় দাঁড়ালে
অট্টালিকার আলো ছাড়িয়ে দূরে কোথাও ভালবাসার জলাশয়টা এখনও হাতছানি দিয়ে ডাকে।
~~000~~
No comments:
Post a Comment