বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক, ১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
অর্পিতা দাস
জঞ্জাল
এমএলএ আজ আবার এসেছেন নির্বাচনের প্রচারে। তাকে দেখেই বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে নিহারীকা-দেবীর। মাসিমা বলে এগিয়ে আসতেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে সদর দোরখানা বন্ধ করে মেঝেতে বসে পড়েন তিনি।
পাড়ার
রতন-মস্তান এখন এমএলএ।
শিক্ষিত অফিসারগুলো স্যার স্যার করে ঘুরে বেড়ায় ওর পিছন পিছন। নিহারীকা-দেবী বোবার মতো সব
দেখেন আর গা হাত পা নিশপিশ করে,
কিন্তু
কিছুই করতে পারেন না।
বাড়ির
সামনে কৃষ্ণচূড়া গাছটা ফুলে ভরে উঠেছে। বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে। ফুলে ভরে থাকা
গাছটার প্রতি ছোটবেলা থেকেই বাবানের সে কী আকর্ষণ। দৌড়ে এসে রান্নাঘর থেকে টেনে
নিয়ে যেত ফুল দেখানোর জন্য। কতদিন এমন হয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কোথায়
হারিয়ে যেতাম দু'জনে, ঘোর কাটত সুনন্দর কথায়, 'আজ বোধহয় না খেয়েই অফিস
যেতে হবে।' অমনি সাততাড়াতাড়ি
দৌড়ে আসা।
ছোট্ট
থেকেই বাবান পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী। ছবির হাতটাও ছিল অসাধারণ। বড় হয় আর্কিটেক্ট
হবে। তাই কখনো অযথা সময় নষ্ট করেনি। সেদিনের সকালটাও ছিল চমৎকার। রোদ ঝলমলে।
টুকটুকে লালে ছেয়ে আছে কৃষ্ণচূড়ার মাথা। রোদের ঝলকানিতে আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে।
স্কুল
থেকে ফেরার পথে তেমাথার কাছে ভিড় জমেছে। ভোলার সঙ্গে এগিয়ে যায় বাবান। নবারুণ-কাকাকে কারা যেন
মারছে। খুব ভাল মানুষ নবারুণ-কাকা। পাড়ার কারো সাথে কোনো বিবাদ নেই। বড়বাজারে তাদের
দুটো মুদির দোকান আছে। হঠাৎ পাড়ার মস্তান
রোগাপটকা রতন শাসাতে শাসাতে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় তার পেটে। লুটিয়ে পড়ে নবারুণ সরকার।
বাবান চেঁচিয়ে ওঠে, পুলিশকে বলে দেব সব।
ভিড়ের মধ্যেই কর্পূরের মতো উবে যায় বাবান। দু'দিন পর রাস্তার ধারে পড়ে থাকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহটা।
এমএলএ
আজ আবার এসেছেন নির্বাচনের প্রচারে। তাকে দেখেই বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে
নিহারীকা-দেবীর।
মাসিমা বলে এগিয়ে আসতেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে সদর দোরখানা বন্ধ করে মেঝেতে বসে পড়েন
তিনি। চোখে শ্রাবণের ধারা। বাবানের ছবির দিকে তাকিয়ে, পারেনি,
তোর মা
এই সমাজের জঞ্জাল সাফ করতে পারেনি, ক্ষমা করিস...
~~000~~
No comments:
Post a Comment