প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | সম্পাদকীয় | রাজতন্ত্র

বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক , ১৪৩৩ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা সম্পাদকীয়   রাজতন্ত্র ...

Saturday, October 24, 2026

কুয়াশার ওপারে | মাধুরী মিত্র

বাতায়ন/দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২০তম সংখ্যা/১০ই কার্ত্তিক, ১৪৩৩
দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু
মাধুরী মিত্র
কুয়াশার ওপারে

পরের এক ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেল নীলাভ বুঝতেই পারল না। তিস্তার পাহাড়ি গল্প, ছবি আঁকার নেশা আর চোখের গভীরতা— সব মিলিয়ে নীলাভ এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে ডুবে গেল। মনে হচ্ছিল, তিস্তাকে সে বহু জন্ম ধরে চেনে।

 
পাহাড়ি রাস্তা ধরে নীলাভর বাইকটা যখন এগোচ্ছিল, ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা। চেরাপুঞ্জির এই নির্জন পথে আচমকাই নেমে এলো ঘন কুয়াশা। হাত দেড়েক দূরের কিছুও আর দেখা যায় না। ঠিক তখনই একটা গোঙানি তুলে ইঞ্জিনটা বন্ধ হয়ে গেল। চারপাশে পিনপতন নিস্তব্ধতা।
 
পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে নীলাভ দেখল— নো নেটওয়ার্ক।
 
ঠিক সেই মুহূর্তে কুয়াশার বুক চিরে এক চিলতে মৃদু আলো চোখে পড়ল। একটু এগোতেই দেখল, কাঠের তৈরি ছোট্ট এক পাহাড়ি ক্যাফে। সাইনবোর্ডে আবছা অক্ষরে লেখা— "দি ওল্ড লণ্ঠন"। ভেতরে ঢুকতেই দরজার মাথায় ঝোলানো ঘণ্টাটা টুং করে বেজে উঠল।
 
কাঠের ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে এক তরুণী স্কেচবুকে কিছু আঁকছিল। নীলাভকে দেখে সে মুখ তুলে হাসল। কী অদ্ভুত মায়াবী সেই হাসি!
 
-বাইক খারাপ হয়েছে?
নীলাভ একটু অবাক হয়েই বলল,
-হ্যাঁ, আপনি জানলেন কী করে?
-এই আবহাওয়ায় এখানে যারা আসে, সবারই একই গল্প।
মেয়েটি এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি এগিয়ে দিয়ে বলল,
-আমি তিস্তা।
 
পরের এক ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেল নীলাভ বুঝতেই পারল না। তিস্তার পাহাড়ি গল্প, ছবি আঁকার নেশা আর চোখের গভীরতা— সব মিলিয়ে নীলাভ এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে ডুবে গেল। মনে হচ্ছিল, তিস্তাকে সে বহু জন্ম ধরে চেনে।
 
কফি শেষ করে নীলাভ বলল,
-বাইকটা এবার দেখতে হয়।
তিস্তা মিষ্টি হেসে বলল,
-বাইক ঠিকই আছে, একবার স্টার্ট দিয়ে দেখুন।
 
বাইরে এসে নীলাভ অবাক। কোথায় কুয়াশা? আকাশ জুড়ে ঝকঝকে জোছনা খিলখিলিয়ে হাসছে। আর মিরাকল— বাইকটা এক চান্সেই স্টার্ট নিয়ে নিল। কৃতজ্ঞতায় তিস্তাকে ধন্যবাদ জানাতে ও পিছন ফিরল।
 
কিন্তু এ কী!
 
কোথায় ক্যাফে? সেখানে পড়ে আছে শুধু একটা ভাঙা, বহু পুরনো কাঠের চালাঘর আর একটা মরচে ধরা লণ্ঠন। চারপাশ জনমানবহীন। ভয়ে নীলাভর গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল।
 
অজান্তেই পকেটে হাত দিতেই ও চমকে উঠল— তিস্তার দেওয়া কফির কোস্টারটা এখনও ওর পকেটে রয়ে গেছে। তাতে নিখুঁত পেন্সিলে আঁকা নীলাভর একটা স্কেচ, আর নীচে ছোট্ট করে লেখা—
-আবার দেখা হবে।
 
ভয়টা নিমেষেই এক অদ্ভুত ভাল লাগায় বদলে গেল। পাহাড়ি হাওয়া ফিসফিস করে বলে গেল, কিছু রোমাঞ্চকর গল্পের শুরুটা এভাবেই হয়।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)