বাতায়ন/পরকীয়া/গদ্য/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০
পরকীয়া | গদ্য
পুষ্প সাঁতরা
অভিসার
মহাভারতে পরকীয়া অনিন্দিত নয়; কিন্তু সেখানে পরদার
গমনের বহু নিদর্শন আছে। অর্জুন যখন ব্রহ্মচর্য ও বনবাসের শাস্তি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন,
তখন তিনি পরস্ত্রী ঊলুপীর সঙ্গে অনেক দিন বসবাস করেন এবং তার গর্ভ থেকেই 'ইরাবান' নামক
পুত্রের জন্ম। ঊলুপীর স্বামী তখন সূপর্ণ নামক নাগের কাছে বন্দি ছিলেন। ইন্দ্র অহল্যার
কথা সর্বজনবিদিত। চন্দ্র— দেবগুরু বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে অপহরণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে
বহুদিন কাটান। তাঁদের পুত্রের নাম বুধ, পরে তেল জল দিয়ে ফিরে পান— ভাবুন পরকীয়া ব্যাপারটা,
তখন ছিল, এখন আর দোষটা কোথায়?
শাস্ত্র মতে পরকীয়া হল স্ত্রীসংগ্রহন। বিবাহিতা স্ত্রী
অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হলে তা স্ত্রীসংগ্রহন নামে বিবেচিত হয়। শ্রুতি
স্মৃতি শাস্ত্র পুরাণ ও দর্শনে পরকীয়া সম্পর্কে নানা মত। ঋগ্বেদে পরকীয়াকে পাপ আখ্যা
দেওয়া হয়েছে, তবে সেই পাপ হল নৈতিক। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে পরকীয়া দণ্ডনীয় অপরাধ!
পরস্ত্রীতে উৎপাদিত পুত্ররা কুন্ড বা গোলক নামে পরিচিত। গৌতম সংহিতায় বলা হয়েছে—
পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি শাস্তির নিদান আছে। আবার নারদ স্মৃতিতে বলা হয়েছে বিবাহিত
নারী-পুরুষের যৌনতা যদি পারস্পরিক সম্মতিতে হয়, তাকে অন্যায় বলা যাবে না।
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থে— 'কামসূত্রতে পরকীয়াকে
অপরাধ বলা হয়নি। পরকীয়া শুধু যে দেহেই সীমাবদ্ধ থাকে এমনটা নয়, শরীর থেকে উত্তরণের
কথাও পরকীয়াতে পাওয়া যায়। বৈষ্ণব দর্শনে আয়ান-রাধার সৃষ্টি সচ্চিদানন্দ ভগবানের
লীলাবিলাস অনুভবের নিমিত্ত। জীব স্বকীয়তা ভুলে পরাধীন। সেই জীব ভগবানের ডাকে সাড়া
দিলে, তার নাম হয় 'পরকীয়া অভিসার'। ভারতীয় ভাবাবেগের ক্ষেত্রে পরকীয়া দোষের নয়!
সুতরাং পরকীয়া চলুক!সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment