বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম
বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০
পরকীয়া | ছোটগল্প
বিরথ চন্দ্র মণ্ডল
পরকীয়া
শ্রাবণের বৃষ্টি। একদম মুষলধারে। গাছপালা ভেঙে
ফেলার মতো উপক্রম, এমন বাতাস! অফিস ফিরতি পথে কোথাও দাঁড়িয়ে পড়ার জো ছিল না
অনীশের। পুরোদস্তুর ভিজে গেল।
সেই একই ঝড় সমানে বয়ে চলেছে অনীশের বুকের ভেতর।
তাই তো, অফিস ছুটির পরও স্বেচ্ছায় এত রাত করে বাড়ি ফেরা।
এক এক পা করে ঘরে ঢুকল অনীশ। ঘরে ঢুকে দেখল—
ঐন্দ্রিলা ফোনে অন্যের সাথে কথা বলছে, ‘ভালই করেছ ইন্দ্র। তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরেছ।
তা না হলে বৃষ্টিতে ভিজে অসুখ বাধাতে। আগে ফ্রেশ হও। তার পর…’
শুনে অনীশ একান্তে ভাবে— কাছে থাকা মানুষটার কথা
একবার ভেবেছ কী? ভাবলে, সংসারের এই হাল হোত না!
সেদিন তর্কবিতর্কে ঐন্দ্রিলা বলেই ফেলল, ‘সংসার
করেছি মানে বিক্রি হয়ে যাইনি। ওর সাথে কথা বলা নিয়ে তুমি বেশি ঘাঁটাবে না তো! যত
নিষেধ করবে, আরো বেশি করে কথা বলব। দেখি, তুমি কী কর!’অনীশ কখন এসে শুয়ে পড়েছে, বুঝতেই পারেনি ঐন্দ্রিলা। রাতের খাবার বেড়ে হাঁক দিল, ‘শোনো, থালায় ভাত তরকারি বাড়া থাকল। খেয়ে নেবে।’ অনীশ বোঝে, ঐন্দ্রিলা যা করছে চরম ভুল। এই অশান্তির কথা কাকে বলবে? বললে শুধু নিজের মানসম্মানটাই যাবে। এই নিয়ে দিনরাত ভেবে ভেবে কষ্ট পায়। বেশির ভাগ দিন ঘুম হয় না। চিন্তায় খাওয়াদাওয়াও ঠিক মতো করে না।
ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত তিনটে বাজে। এত রাতে ফোনে যেন কেউ কথা বলছে। চুপিচুপি খাট থেকে নেমে দেখল, ভিডিও কলে কথা বলছে তার বউ। কথার তারতম্যে বুঝল, ওই— সেই প্রেমিক।
ঝড়টা এখনো থামেনি। কড়কড় শব্দে আর একটা বাজ পড়ল। একদমই বুকের ভেতরটায়। কলিজা ছিঁড়ে যেন খানখান হয়ে যাচ্ছে তার। আর দাঁড়াতে পারে না। তার নিজের খাটে এসে কোন রকমে বসে পড়ে। বলতে থাকে, হে ঈশ্বর। হে ভগবান। এ কষ্ট আর সইতে পারছি না। কী করব ঠাকুর। বলে দাও… না হলে আমার আমার মৃত্যু দাও ঠাকুর…
সমাপ্ত

ভালো লাগলো।
ReplyDelete