লক ডাউন
সৌখিন বেশভূষা
আর লাল ঠোঁটের
মেদুরতাপূর্ণ উষ্ণ হাসিতে সহজেই সুতপা সবার মনকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানায়।
আজকাল সুতপা অফিসে এলেই কলিগরাও বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তার সাথে কথা বলতে।
পলাশই যায় কোথায়, অফিসের
বস হওয়াতে সেও পড়ল সুতপার ঘেরাটোপে। কারণে অকারণে মাঝেমধ্যেই নিজের কেবিনে ডেকে
পাঠায়। গোঁফের ফাঁকে দুষ্টু মিষ্টি হাসিতে চিরসবুজ ভালোবাসার উষ্ণতা মনের কোটর
থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে ধীরে ধীরে। সুতপার সাথে বদ্ধ কেবিনের অন্তরালে কাজের সাথে
চলে নতুন কথোপকথনের এক উজান স্রোত। কখনো ডিকটেশন দেওয়া বা কখনো স্বাভাবিক
গালগল্পে ধরা দিতে থাকে রঙিন বসন্ত। সুতপাও তা আন্দাজ করছে এবং পলাশের পরিবার
সম্পর্কে বেশ ওয়াকিবহালও বটে। তবুও সুতপা কোনো রকম কমা-দাঁড়ির সিন্ডিকেট না
দাঁড় করিয়ে প্রশ্রয় দিয়ে চলে নির্বিকার ভাবে।
সময়ের সাথে
সাথে তাদের দেদার কথাবার্তা আর মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কোমল অনুভূতিগুলো
নিঃসন্দেহে মনোগ্রাহী হয়ে উঠছে পরস্পরের। অফিস থেকে একটু আগে ছুটি নিয়ে কখনো
ভিক্টোরিয়ায়, গড়ের
মাঠে, বোটানিক্যাল
গার্ডেন, সিনেমা, রেস্টুরেন্ট যাওয়া আসার মধ্যে ব্যবধান ক্রমশ
কমতে থাকে পরস্পরের। আজকাল অফিসে একটা মৃদু কানাকানির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে স্টাফদের
মধ্যে। সুতপা আর পলাশের ভালবাসার নতুন কেমিস্ট্রি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে শেষ
অব্দি! প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও অল্প বিস্তর রসিকতার উত্তরণ বাতাসে ভাসিয়ে
দেয় বত্রিশপাটি দাঁতের প্রকাশ্য প্রাঙ্গণে।
পলাশের আজকাল
পোশাক, চুলের
স্টাইল, ঘন ঘন
আয়নায় নিজেকে মেলে ধরা— এসব
দেখে একদিন স্ত্রী রমলা মুখ বাঁকিয়ে বলেই ওঠে— ‘উঃ! বয়স বাড়ছে, দুই ছেলেমেয়ে বড় হতে চলেছে আর ওনাকে দেখো!
সাজগোজ, চুলে
কালি, বডি
স্প্রেতে যেন দিন দিন ইয়ং হতে চলেছে। আবার ভুঁড়ি হবার ভয়ে ডায়েটও করছে! তা
তুমি কি অফিসে আবার প্রেমট্রেম করছো নাকি! এই বুড়ো বয়সে তোমার এতো সাজের বাতিক
উঠল যে!’
পলাশ বেশ
রোয়াব নিয়েই বলে ওঠে—
‘কী বলছ কী? মুখে
যা আসছে বলে যাচ্ছ। আমার দিকে নজর না দিয়ে বাবাই আর টুম্পার দিকে একটু নজর দাও
বেশি করে। সামনে ওদের পরীক্ষা৷’
রমলা অগত্যা
ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে— ‘তা
তুমিও তো পার? সবসময়
আমাকে ঠেলে দাও! আর তোমাকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি! আমাকে যখন ফুঁসলিয়ে প্রেম
করেছিলে মনে আছে। তখন তো কত চমক, চটকদারী ব্যাপার। হঠাৎ করে বিয়ের এতগুলো বছর পর
আগের মতো ঠিক এখনো তো সেই রকম রসের গন্ধ পাচ্ছি! তা বলি কী কারোর সাথে...’
কথাটা মুখ থেকে
কেড়ে নিয়ে পলাশ একগাল হেসে হেসে বলে— ‘হ্যাঁ করছি! তাতে হয়েছেটা কী!
তা তুমিও পারলে করো৷’
রমলা আরো বলে
চলে— “তুমি
তো বাপু ঘুমকাতুরে লোক। তা এখন দেখছি ভোর পাঁচটা বাজতে না বাজতেই বেরিয়ে পড়ছ
মর্নিংওয়াকে। আমার বারো বছর বিয়ে হল তা এমন ঘটা করে সাজ বা মর্নিংওয়াক এসব তো
আগে চোখে পড়েনি।
পলাশ বলে— ‘তোমার যতসব
বাজে বাজে চিন্তাভাবনা। জানো তো অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডা। মন পরিষ্কার করো।
জানো তো ভোরের নির্মল বাতাস মনকে একটা আলাদা ফুরফুরে আমেজ এনে দেয়। সুস্থতার
চাবিকাঠি হল মর্নিংওয়াক।’
রমলা গালে হাত দিয়ে
বসে পড়ে সোফায়। বলে—
‘বা-বা, তোমার এই বুড়ো
বয়সে ‘মর্নিংওয়াক মর্নিংওয়াক’ বাতিক উঠল হঠাৎ
করে। কারোর প্রেমেট্রেমে পড়েছ নিশ্চয়ই। তোমাকে আমার চিনতে কি বাকি আছে? সুন্দরী মহিলা দেখলেই ছুঁক্-ছুঁক্ বাতিক।’
পলাশ রীতিমতো
গর্জে ওঠে। রাগত স্বরে বলে—
‘অতই যখন সন্দেহ, তখন
ভোরে আমার সাথে গেলেই তো হয় মর্নিংওয়াক করতে।’
এভাবে দুজনের
অনর্গল কথাবার্তায় একটা বেশ গরম আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভেসে আসে
থালাবাসনগুলির ঝনঝন করে পড়ার শব্দ।
পরের দিন আবার
যে কে সেই! পলাশ সেজেগুজে টিপটপ হয়ে আয়নায় বার কয়েক পারফরমেন্স দিয়ে অফিস
চলল। বলল— ‘তোমার
কোনো চিন্তা নেই, আমাকে
নিয়ে। মিছিমিছি সন্দেহ করাটা এবার একটু বাদ দাও দেখিনি।’
এদিকে সুতপা
বাড়িতে নিজের আয়নার সম্মুখে; প্রতিচ্ছবি
কথা বলে, প্রশ্ন
করে দেদার— কোথায়
এর শেষ পরিণতি! সমাজকেই বা সে কী জবাব দেবে? মনের
ইতস্তত ভালবাসার চোরাবালি ঢাকা পড়তে থাকে রাতের নিস্তব্ধতায়। আকাশ বেশ ভয়ংকর
মনে হয়। বিপদসঙ্কুল আতঙ্কগ্রস্ত বেদুইন মন তখন দিশাহীন। ছোট্ট তৃষাকে জড়িয়ে
প্রাণপণ চেষ্টা করে ঘুমোতে। কিন্তু ঘুম! রাতের অন্তহীন তারাদের সাথে চলে রাতজাগা।
পরদিন মেয়েকে
স্কুলে পাঠিয়ে মাকে আসছি বলে বেরিয়ে পড়ে সুতপা। মা জিজ্ঞেস করাতে সুতপা বলে— ‘অফিসের বড্ড
চাপ আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। আমি অফিস ক্যান্টিনে খেয়ে নেব খন। তুমি চিন্তা
কোরো না।’
ঘড়ির কাঁটা
দশটা ছুঁই ছুঁই।
অফিসের সামনের মোড় থেকে সুতপা পাকড়াও করে পলাশকে বলে— ‘আজ অফিসে যেতে
হবে না। তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে। চলো ভিক্টোরিয়া কিংবা গড়ের মাঠের ওদিকে।’
পলাশ বলে— ‘তা অফিস করে
গেলেই তো হোতো! একটু আগেই বেরবো না-হয়! তুমি বুঝতে পারছে না আমার কী চাপ? মাসের শেষ সপ্তাহে সমস্ত ডকুমেন্টারি
ফাইলগুলি আপটুডেট করতে হবে। তারপর আবার বেশ কিছু ফাইল পাইলিং হয়ে পড়ে আছে।
সেগুলি সইসাবুদ করতে হবে ভাল করে দেখে।’
সুতপা বড় বড়
চোখ করে বেশ ঝাঁঝিয়ে ওঠে। বলে— ‘তুমি তো কোনো প্রায়োরিটি দাও না আমায়। আমি একটি মেয়ে। এই
সমাজে আমাদের ভালবাসার কোনো মূল্য আছে কি?’
পলাশ কিছু বুঝে
ওঠার আগেই সুতপা এবার বেশ নরম গলায় বলে— ‘ওগুলো আমি কিছুটা চেক করে দেবো’খন। তা তুমি কি যাবে এখন
আমার সাথে! আমার বেশ কিছু কথা মেমারিতে জমা পড়ে আছে। ওগুলো মন থেকে ডিলিট হওয়ার
আগেই তোমার সাথে শেয়ার করতে চাই। আর অফিস হয়তো আজ কারোর যাওয়া হবে না।’
অগত্যা
পলাশ কোনো উত্তর না দিয়ে পা বাড়ায় সুতপার সাথে। কারণ পলাশ যে মনের দক্ষিণদ্বারে
আবদ্ধ করে ফেলেছে তার ভালবাসার সুতপাকে।
দুজনার ভালবাসার
শেষ ধারাপাত কী হবে, কী হতে
চলেছে এ গল্পের ক্ল্যাইম্যাক্স সেটি নিজেরাই বুঝে পায় না। সহজিয়া
বাঁধভাঙা নির্লিপ্ত ভালবাসার দহন যে দুজনের মনের অন্তরালে কঠিন ব্যাধির সৃষ্টি
করেছে তাতে বড় প্রশ্নের মধ্যে পড়তে হয়েছে দুজনকে।
এদিকে সুতপার
বাড়িতেও পলাশ বেশ কয়েকবার গিয়েছে, তার
মায়ের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে নেতিবাচক জবাবদিহিতে। ছোট্ট তৃষার সঙ্গে বেশ
গাঢ় বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে পলাশের।
তা বসন্তের
পলাশ কী এই মধ্য বয়সেও ধরা দেবে আরেকটি রঙিন জীবনে! মল্লিকা, কাঞ্চনবাগানে
ফুলের সুরভিত গন্ধ আর রবি ঠাকুরের প্রেমের আবহসঙ্গীত কেমন যেন গুনগুন করে উঠতে
শুরু করেছে সবুজ মিঠেল রোদের বনানীপ্রাঙ্গণে। আরেকটি ভালবাসার সম্পর্ক অনাবিল, নির্মেদ
সম্পর্কের ভাষা অনির্বাণ আলোয় প্রস্ফুটিত হবে তো! কারণ পলাশ তার সুখের সংসারের
কোনোরকম ক্ষতি চায় না। চায় না তার ভালবাসার রমলা যেন তার থেকে দূরে সরে যায়।
রমলার মনের ভালবাসার যে আত্ম উত্তরণের পথরেখার সন্ধান পেয়েছে অনির্বাণ আলোয় তা
যেন কিছুতেই ভেঙে না যায়।
এদিকে পলাশ
সুতপাকেও কথা দিয়েছে যে,
সে সুতপাকে বিন্দুমাত্র ঠকাবে না। নির্ভেজাল প্রেমের এক অমূল্য নথি যে তৈরি
হয়েছে মনের অন্তর্গহনে তা এখন ডিলিট করা খুবই দুষ্কর। এক পরম প্রশান্তিতে
উত্তরণের পথরেখা খোঁজার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে পলাশ। পরিবর্তনের
হাওয়ার শেষ পরিণতি যে এমন বিষবৃক্ষে পরিণত হবে তা পলাশ তার অর্জিত ধারণার চশমায়
উপলব্ধি করতে পারছে বেশ। দেখতে পাচ্ছে রমলা আর সুতপার চোখ দিয়ে অনাবিল, নির্মেদ ভাষা
বইছে ভালবাসার স্রোতের মাঝে। যে সরলতায় রূপান্তরিত জীবনের দহন খুশির ফাঁক গলিয়ে
মধুর বিষণ্ণতার ছায়া মেলে ধরবে সুতপা আর পলাশের এক আত্ম উত্তরণের পথরেখায়, মধুর ক্লান্তি
তাদের স্বতন্ত্র ইচ্ছাগুলিকে যে ক্রমাগত জটিল আবর্তের মেঘে পরিণতি দিতে চলেছে, তা বেশ ভালভাবেই
তারা উপলব্ধি করতে পারছে।
ইদানিং পলাশের
অফিসের কাজের খুব চাপ বেড়েছে। সাপ্লাইয়ের ফাইল এবং প্রোডাক্ট দুই-ই দেখাতে হবে
দিন কয়েকের মধ্যেই। ফাইল দেখে সইসাবুদ করতে বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছে আজকাল। বাড়ি
ফিরতেও রাত হচ্ছে। এরকমটি আগেও বহুবার হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে রমলা কোনো প্রশ্নই
করে না। বরং রমলাই বলে—
‘এত রাত করে বাড়ি আসতে হবে না। দিনকালের অবস্থা ভাল নয়। তোমার দেরি হলে
বেলেঘাটা ট্যাংরায় তোমার দিদির বাড়ি চলে যাবে।’ ঘাড়
নেড়ে সম্মতি জানায় পলাশ।
হলও তাই। একদিন
বাড়িতে ফোন। রমলা ফোনটি তুলতেই পলাশ অনর্গল বলে চলে— ‘পরশুদিন সমস্ত
ডকুমেন্টারি ফাইল সাবমিট করতে হবে। আমি এই দুদিন বাড়িতে যেতে পারছি না। দিদির
বাড়িও মনে হয় যাওয়া হয়ে উঠবে না। আর ওখানে গিয়ে ঝামেলা বাড়াতে চাই না।
অফিসের গেস্ট হাউসেই থাকব,
ক্যান্টিনেই খেয়ে নেব। তুমি চিন্তা কোরো না। বাবাই আর মামনিকে চোখে চোখে রেখো।’
রমলা অগত্যা
বলে— ‘ঠিক আছে। তুমি সাবধানে থেকো।’
ফোনটা রাখতেই
পলাশের চোখ পড়ে সুতপার দিকে। সে কেবিনের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত কথা শুনছে। হঠাৎই
ভিতরে প্রবেশ করে সুতপা। পলাশের টেবিল থেকে রিসিভারটা তুলে ফোন করে বাড়িতে। মাকে
বলে— ‘মা, তুমি রাতের ডিনারে আরেকটি মিল বাড়িয়ে দিও।
পলাশ দু’দিন
আমাদের বাড়িতেই থাকবে। অফিসের খুব চাপ। আমার সঙ্গেই বাড়ি যাবে ও।’
সুতপার কথা শেষ
হতে না হতেই, পলাশ
বলে ওঠে— ‘এটা কী
হলো, আমার
পারমিশন না নিয়েই তুমি বাড়িতে জানিয়ে দিলে। আমি যে এদিকে একটা...’
সুতপা একধাপ
এগিয়ে পলাশের কাছে এসে বুকের টাইটা ধরে বলে— ‘মনের শিকড় সন্ধানে ভালবাসার বীজ বুনতে তখন তো পারমিশন
নাওনি সোনা...’ কথাগুলি
বলতে বলতে দুজনের দুই চোখে যেন একরাশ ভালবাসার খিদে ভর করে ওঠে।
বাড়ি যাওয়ার
আগের দিন ঘটে যায় বিপত্তি। হঠাৎই সরকার আজ দুপুরেই ঘোষণা করে দিয়েছে লক ডাউনের
কথা। এক ভয়াবহ ভাইরাসের কবলে দেশ। করোনা ভাইরাস। করোনা আতঙ্কে শুধু রাজ্য কেন
পুরো দেশ নাকি আগামী পনেরো দিন লক ডাউন থাকবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী
সকলেই সহমত পোষণ করেছেন। সবাই এখন তটস্থ, মহামারী আতঙ্কে বিশ্ববাসী প্রমাদ গুনছে। তার পদচ্ছায়া
ভারতেও এসে পড়েছে। প্যানডেমিক সিচ্যুয়েশনে অগত্যা ট্রেন, বাস সবই বন্ধ।
যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
টিভিতে খবর
শুনে রমলা অগত্যা ফোন করে পলাশকে। বলে— ‘তুমি এখন আর কী করে আসবে। সাবধানে থেকো। এখন আর বাইরে বেরিয়ো
না। অফিসের মধ্যে আউটহাউসে থেকো। আর ওখানে কষ্ট হলে দিদির বাড়ি চলে যেও।’ আরও বলে— ‘সোশ্যাল
ডিসটেন্স বজায় রাখার চেষ্টা কোরো সবার সাথে এটা কিন্তু সবসময় মাথায় রেখো। আর
মাস্ক অলয়েজ ইয়ুজ করবে,
বি কেয়ারফুল।’
একনিঃশ্বাসে
কথাগুলো বলে রমলা ফোনটা রেখে দেয়। অগত্যা পলাশ কোনো উপায়ান্তর না দেখে পা মেলায়
সুতপার সঙ্গে।
একই ছাদের
তলায় দিনের পর দিন পলাশ আর সুতপা তৈরি করে ফেলে ঘরের মধ্যে আরেকটি ঘর। ভালবাসার
উত্তরণের পথরেখা দুজনের যেন সমমুখী। মনের মধ্যে ঘর আর বাইরের ঘরে যেটুকু বিস্তর
ফারাক ছিল তা দুজনার অজান্তেই আবর্তিত হয় সুখের চাবিকাঠির নতুন পরিখায়।
এদিকে লক ডাউন
ভাঙার মুখে আবার ঘোষিত হয় আরো চোদ্দো দিনের লক ডাউন।
এক অনাবিল
দুষ্টু মিষ্টি হাসি খেলে যায় সুতপার লাল ঠোঁটের পারিজাত বারান্দায়। ঢাকা পড়ে
যায় রাতের স্নিগ্ধ চাঁদখানি।
অবশেষে দুমাস
পরে লক ডাউন ওঠে। পলাশ বাড়ি যায়। পলাশকে পেয়ে ভরা শ্রাবণে রমলার চোখেমুখে যেন
খুশির জোয়ার বইতে থাকে। তার সংসার-বাগান রুক্ষ্মতা কাটিয়ে সতেজ হয়ে ওঠে।
স্ত্রীর চাপে
পড়ে পলাশ এবার বেশ কিছুদিন অফিস থেকে ছুটি নিতে বাধ্য হয়। স্বাভাবিক জীবন এমনই
ছন্দে বইতে শুরু করে।
হঠাৎই একদিন
ফোন আসে সুতপার। পলাশ বলে—
‘আমি তো বেশ কিছুদিন ছুটিতে বাড়িতেই আছি, তাই তোমার সাথে দেখা বা ফোন করা হয়ে ওঠেনি। আগামী সপ্তাহে
অফিস যাব। তখন কথা হবে।’
ওপাশ থেকে
সুতপা বলে— ‘ঠিক
আছে। তবে আমি ফোন করেছিলাম কারণ একটা খবর আছে। সেটা ভাল না মন্দ তা তুমিই জানো।’
পলাশ একটু
কিন্তু কিন্তু করে বলে ওঠে—
‘কী বলছ? কীসের
খবর? তাড়াতাড়ি
বলো।’
সুতপা বলে— ‘আই অ্যাম
প্রেগন্যান্ট। তুমি বাবা হতে চলেছ, বুঝলে মশাই!’
পলাশ সিগারেটটা
ধরিয়ে বাড়ির ছাদে আকাশটাকে দেখে চলেছে। রাতের আকাশটা বেশ গুরুগম্ভীর হয়ে আছে।
ইতস্তত মেঘগুলি ছোটাছুটি করছে দিশাহীন ভাবে। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে।
সমাপ্ত

খুব ভালো হয়েছে।
ReplyDeleteদারুণ দারুণ
ReplyDelete