প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, December 9, 2023

পরকীয়া | শক | ভুবনেশ্বর মন্ডল

বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০

পরকীয়া | ছোটগল্প
ভুবনেশ্বর মন্ডল

শক


স্বদেশের সারারাত ঘুম নেই। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছে। অথচ সোহিনী কী নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। দেখে রাগ ও হিংসে দুটোই হচ্ছে স্বদেশের। ওদিকে পাশের ঘরে শুয়ে আছে অনিমেষ ও রাকা। অনিমেষ স্বদেশের মামাতো দাদা। রাকা ওর স্ত্রী। ওরা থাকে কানাডায়। অনিমেষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ওদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে। রাকা ছিল স্বদেশের ক্লাসমেট। ওদের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক। সেসব স্মৃতি এখনো হয়তো গাঁথা আছে দুজনের মনের গভীরে।

কিন্তু বাইরে কোন প্রকাশ নেই। স্বদেশ তখন বেকার, চাকরি পায়নি। তাই রাকার বাবা তড়িঘড়ি অনিমেষের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন রাকার। এক বুক কান্না নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে কানাডা চলে যায় রাকা। স্বদেশ তখন পাল ছেঁড়া হাল ভাঙা নৌকা। আজ দুদিন হল অনিমেষ রাকাকে নিয়ে দেশে ফিরেছে। উঠেছে স্বদেশদের বাড়িতে। স্বদেশের কাকার ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে এক সপ্তাহের জন্য এদেশে এসেছে অনিমেষ। রাকার কোলে দু বছরের ফুটফুটে এক শিশু কন্যা। রাকা এখন মা । স্বদেশের বাড়িতে সারাদিন ব্যস্ততা হই হুল্লোড়। স্বদেশের বউ সোহিনী সাধ্যমতো আপ্যায়ন করেছে অনিমেষ ও রাকাদের। সোহিনী বড় শান্তশিষ্ট নম্র ও কোমল প্রকৃতির।

রাকার চোখে এই দুদিনে বেশ কয়েকবার চোখ পড়েছে স্বদেশের। দুজনের দৃষ্টি কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেছে কোন এক অতলে। রাকার চোখে কেমন যেন একটা আকুতি, রহস্যের ছায়া, অব্যক্ত ভাষা পড়েছে স্বদেশ। জিনিস দেওয়া-নেওয়ার অছিলায় বার কয়েক রাকা স্পর্শ করেছে স্বদেশের হাত। স্বদেশের সারা শরীরে কেমন একটা হিম শীতল শিহরণ বয়ে গেছে। রাকারও নিশ্চয়ই এমন শিহরণ হয়েছে।
এখন রাত প্রায় ১টা। বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। সোহিনী নির্বিকার ভাবে ঘুমোচ্ছে। ওর বুকের পাশে শুয়ে আছে স্বদেশের দেড় বছরের ছেলে সোহম। সোহিনীর একটা হাত সোহমের পিঠে। সোহিনীর মুখটা বড় নিষ্পাপ। ওর মুখের দিকে বার কয়েক তাকাল স্বদেশ। স্বদেশের আজ ঘুম আসছে না। শুধু ছটফট করছে। উঠে একবার বাথরুমে গেল। তিন ফুট দূরে পাশের ঘরে শুয়ে আছে রাকা ও অনিমেষ। ঘরে আলো জ্বলছে। চুড়ির টুংটাং শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কী রাকা এখনও ঘুমোয়নি। অনিমেষের নাসিকা গর্জনের একটা চাপা শব্দ আসছে। বাথরুম থেকে ফিরে স্বদেশ রাকাদের বেডরুমের দরজার সামনে দাঁড়াল। হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে। গা-হাত-পা কাঁপছে। দরজায় একবার টোকা দিতে ইচ্ছে করল। অনিমেষ তো ঘুমোচ্ছে। ওদিকে সোহিনীও ঘুমোচ্ছে। এই তো সুযোগ রাকাকে একবার ছোঁয়ার। রাকা যে চুম্বকের মতো টানছে। এমন সুযোগ তো জীবনেও আর আসবে না। পা টিপে টিপে একেবারে দরজার কাছে এল স্বদেশ। দরজায় টোকা দেওয়ার জন্য যেই আঙুল তুলেছে, আর ঠিক তখনই ও ঘরে সোহম কেঁদে উঠল। সোহিনী বলে উঠল কোথায় গেলে গো, তাড়াতাড়ি এসো। ছেলেটার গা যে পুড়ে যাচ্ছে। ঠকঠক করে কাঁপছে। ওকে এখনই এক ডোজ প্যারাসিটামল দিতে হবে। স্বদেশ আচমকা বিদ্যুতের একটা শক খেয়ে ছুটে এল সোহিনী ও সোহমের কাছে।

 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)