শক
রাকার চোখে এই দুদিনে বেশ কয়েকবার চোখ পড়েছে স্বদেশের। দুজনের দৃষ্টি কয়েক
মুহূর্তের জন্য থেমে গেছে কোন এক অতলে। রাকার চোখে কেমন যেন একটা আকুতি, রহস্যের
ছায়া, অব্যক্ত ভাষা পড়েছে স্বদেশ। জিনিস দেওয়া-নেওয়ার অছিলায় বার কয়েক রাকা
স্পর্শ করেছে স্বদেশের হাত। স্বদেশের সারা শরীরে কেমন একটা হিম শীতল শিহরণ বয়ে
গেছে। রাকারও নিশ্চয়ই এমন শিহরণ হয়েছে।
এখন রাত প্রায় ১টা। বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। সোহিনী নির্বিকার ভাবে ঘুমোচ্ছে।
ওর বুকের পাশে শুয়ে আছে স্বদেশের দেড় বছরের ছেলে সোহম। সোহিনীর একটা হাত সোহমের
পিঠে। সোহিনীর মুখটা বড় নিষ্পাপ। ওর মুখের দিকে বার কয়েক তাকাল স্বদেশ। স্বদেশের
আজ ঘুম আসছে না। শুধু ছটফট করছে। উঠে একবার বাথরুমে গেল। তিন ফুট দূরে পাশের ঘরে
শুয়ে আছে রাকা ও অনিমেষ। ঘরে আলো জ্বলছে। চুড়ির টুংটাং শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
তাহলে কী রাকা এখনও ঘুমোয়নি। অনিমেষের নাসিকা গর্জনের একটা চাপা শব্দ আসছে।
বাথরুম থেকে ফিরে স্বদেশ রাকাদের বেডরুমের দরজার সামনে দাঁড়াল। হৃৎস্পন্দন বেড়ে
গেছে। গা-হাত-পা কাঁপছে। দরজায় একবার টোকা দিতে ইচ্ছে করল। অনিমেষ তো ঘুমোচ্ছে।
ওদিকে সোহিনীও ঘুমোচ্ছে। এই তো সুযোগ রাকাকে একবার ছোঁয়ার। রাকা যে চুম্বকের মতো
টানছে। এমন সুযোগ তো জীবনেও আর আসবে না। পা টিপে টিপে একেবারে দরজার কাছে এল
স্বদেশ। দরজায় টোকা দেওয়ার জন্য যেই আঙুল তুলেছে, আর ঠিক তখনই ও ঘরে সোহম কেঁদে
উঠল। সোহিনী বলে উঠল কোথায় গেলে গো, তাড়াতাড়ি এসো। ছেলেটার গা যে পুড়ে যাচ্ছে।
ঠকঠক করে কাঁপছে। ওকে এখনই এক ডোজ প্যারাসিটামল দিতে হবে। স্বদেশ আচমকা বিদ্যুতের
একটা শক খেয়ে ছুটে এল সোহিনী ও সোহমের কাছে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment