বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ,
১৪৩০
পরকীয়া
| ছোটগল্প
মুনমুন মুখার্জি
অপূর্ণতা
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে আশাবরী গড়িয়াহাট বাস স্টপেজে, আজ
অনুরণ এলে তাকে সে জড়িয়ে থাকবে কিছুক্ষণ। এক অদ্ভুত ভাল লাগা কাজ করে অনুরণকে
কাছে পেলেই। তাদের এই পরিচয়টা নেহাৎই কাকতালীয় ভাবে ঘটেছিল। তারপর প্রায়ই দুজনের
অফিস ফেরত দেখা হত। দেখাসাক্ষাৎ ক্রমে আরও নিবিড় হল।
আশাবরী জানে অনুরণ তার হবে
না কোনদিন, কিংবা সেও অনুরণকে পুরোপুরি নিজেকে উজাড় করে দিতে পারবে না কখনও।
দুজনেই দুই ভিন্ন স্থায়ী ঠিকানার মানুষ। তবু তারা দুজন কাছে এলে, পরস্পরকে একে
অন্যের মনের কথা আদানপ্রদান করলে এক অদ্ভুত তরঙ্গ তৈরি হয় দুজনের। অনুরণ যেন
আশাবরীর অনুভবে ভেসে আসা কোন চেনা সুর। এমন সময় আশাবরীর মোবাইলে ম্যাসেজ আসে, -
'অনুরণের মেয়ে ঝিলমিলের খুব জ্বর, অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছে মেয়েকে নিয়ে
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। প্লিজ, আশাবরী তুমি কিছু মনে কোর না, আমি আজ যেতে পারছি
না তোমার কাছে।' আশাবরী উত্তর দেয় ম্যাসেজ করে - 'ঠিক আছে, চিন্তা কোর না, ঝিলমিল
ঠিক হয়ে যাবে।'
ভালবাসায় সবসময় সব চাহিদা মেটে না। অনেকটাই অপূর্ণ রয়ে যায়।
সেটাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলাটাই স্বাভাবিক। সে ও অনুরণ দুজনেরই একে অন্যের প্রতি
ভাল লাগা কাজ করলেও দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য এড়িয়ে তো নয়। আকাশে বেশ মেঘ জমেছে
দেখল আশাবরী। শিগগির হয়তো বৃষ্টি নামবে। একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখে ছাতাটা ব্যাগ
থেকে বার করে বাড়ির দিকে পা বাড়াল আশাবরী।
সমাপ্ত

এটাই পূর্ণতা
ReplyDelete