প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Friday, December 8, 2023

পরকীয়া | হঠাৎ দেখা | নির্মল ভানু গুপ্ত

বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০

পরকীয়া | ছোটগল্প
নির্মল ভানু গুপ্ত

হঠাৎ দেখা


বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। সৃঞ্জন আর কাজল দিঘা বেড়াতে এসেছে কাল, বুধবার। পৌঁছোতে পৌঁছোতে কাল সন্ধে রাত্রি হয়ে গেছিল। সপ্তাহের মাঝখানে বলে সৃঞ্জন বুধবার অফিস কামাই করেনি। বসকে বলে একটু আগে বেরিয়ে কাজলকে ঘর থেকে তুলে, নিজের গাড়ি নিয়ে সোজা দিঘা।

কোলাঘাট পার হবার পর থেকে রাস্তার দুপাশে বড় বড় গাছ মাথা ঝুঁকিয়ে যেন সেলাম করছে। এপাশের গাছের শাখাপ্রশাখা অন্য পাশের সাথে ছুঁয়ে আছে। যেন লম্বা টানেল। দুপাশে গাছের ফাঁক দিয়ে কোথাও দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ ধানক্ষেত কোথাও নীল জলরাশি আর শাপলা - পদ্মের সৌন্দর্য নিয়ে বড় বড় দিঘি। দেখতে দেখতে এক সময়, সব ফুরিয়ে এল বাম দিকে হলুদ - নীল জলরাশি নিয়ে আদিগন্ত বারিধি, আর ডান দিকে সবুজ গাছের সারি নিয়ে সুন্দরী দিঘা।

গতকাল এসে থাকলেও আগামীকাল মানে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে আবার ফেরত যেতে হবে, কাজলের জন্য। কাল হোটেলে ঢুকে ডিনার সেরে দরজায় ডু নট ডিস্টার্ব ঝুলিয়ে রেখে ছিল। সারারাত দুজনে যা খুনশুটি করেছে, তা বলার নয়। দুজনেই পাগল হয়ে গেছিল। ভোর রাত্রে ক্লান্ত হয়ে সাড়ে চারটের সময় ঘুমিয়েছে। এগারোটার সময় ঘুম থেকে উঠে চা আর ব্রেকফাস্ট খেয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ে ঘন্টাখানেক ঝাঁপাঝাঁপি করে এসে দুজনে হোটেলের সুইমিং পুলের শান্ত জলে গা এলিয়ে রেস্ট নিচ্ছিল।

সিগারেট খেতে সৃঞ্জন জল থেকে উঠে এসে ব্যাগ থেকে সিগারেট বের করে দেখে লাইটার আনতে ভুলে গেছে।

পুলের আশেপাশে কেউ ধূমপান করছে না দেখে টাওয়েলটা গায়ে জড়িয়ে একটু এগিয়ে গেল। সামনে একদল লোক শ্যুটিং গোছের কিছু একটা করছে। সৃঞ্জনের দিকে পিছন ফিরে একজন চেয়ারে বসে সিগারেট টানছে আর হাতের দূরবিনটা দিয়ে ক্যামেরার সামনে যে মহিলা আছে তাকে মাঝে মাঝে দেখছে আর পাশের লোকটাকে কানে কানে কিছু বলছে। সেই লোকটা আবার ছুটে গিয়ে ক্যামেরাম্যানকে সেটা বলে আবার চেয়ারে বসা লোকটার কাছে ফিরে আসছে। সৃঞ্জন জানে 'কাট' না বললে এর মাঝে ঢোকা যাবে না। এবার 'কাট' বলতেই সৃঞ্জন চেয়ারে বসা লোকটার সামনে দিকে এগিয়ে গেল।

- আরে দীপু না?
- তুই সিজু না?
- কতদিন পরে দেখা বল তো?
- তা প্রায় বছরপাঁচেক হল।
দুজনে একসাথে সিগারেট ধরিয়ে সুখটান দিল। সৃঞ্জন বলল, ‘তুই বিয়ে করেছিস?’
দীপঙ্কর বলল, ‘বছর চারেক হল।’
- ছেলে মেয়ে?
- হয়নি।
- তোর বেটার হাফ কোথায়? বাড়িতে?
- না। ও এনজিওর কাজে মুর্শিদাবাদ গেছে।
- তুই এখানে কী করছিস?
- আমি তো এখন একটা বিজ্ঞাপন কোম্পানির ফিল্ড ম্যানেজার। আমায় ওই আউটডোর শুটিংগুলো কভার করতে হয়। আসলে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল, পুরী। সিইও হঠাৎ চেঞ্জ করে দিঘা করে দিল।
- ভাগ্যিস চেঞ্জ করল, তাই তোর সাথে দেখা হয়ে গেল।
- তোর বিয়ে হয়েছে?
- হ্যাঁ। ছমাস হল। বউ নিয়ে এসেছি।
- কোথায়?
- ওই তো সুইমিং পুলের পাশে লাল টাওয়েল গায়ে বসে আছে।
দীপঙ্কর দূরবিন দিয়ে দেখে বলল, ‘ওখানে এক জনই লাল টাওয়েল গায়ে দিয়ে বসে আছে। শিয়োর ওটাই তোর বউ তো?’ দূরবিনটা দীপঙ্করের হাত থেকে নিয়ে সৃঞ্জন দেখে বলল, ‘হ্যাঁ। কেন তোর বিশ্বাস হচ্ছে না? চল আলাপ করিয়ে দিই।’ দীপঙ্কর হো হো হো করে বিকট হেসে বলল,
- তার দরকার নেই। তুই বরং তোদের বিয়ের ফটো তোর ফোনে থাকলে দেখা, আমি বিশ্বাস করব।
- মোবাইলে কি সব ফটো থাকে? আমার কাছে নেই।
- বেশ তাহলে আমার বিয়ের ফটো তুই দেখ। আমার মোবাইলে আছে।
তর্ক ছেড়ে সৃঞ্জন উৎসাহের সঙ্গে দীপঙ্করের বউয়ের থুড়ি বিয়ের ফটোগুলো দেখল। দেখে চুপ করে খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে বসে রইল। দীপঙ্কর বলল,
- এবার বুঝলি কেন তোর বিয়ের ছবি দেখতে চাইলাম। কারণ তুই যাকে দেখালি, সে হল আমার বউ কাজল। এখানে তোর সাথে সমাজসেবা করছে। তোর নিজের বউ কোথায়?
- আমি বিয়ে করিনি।
- তাহলে তুই কাজলকে কিছু বলিস না। আমারই দোষ আমি ওকে সঙ্গ দিতে পারি না।

 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)