বাতায়ন/পরকীয়া/ছোটগল্প/১ম
বর্ষ/২৬তম সংখ্যা/২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০
পরকীয়া | ছোটগল্প
অভিজিৎ দাস কর্মকার
একদিন ডুবতেই হবে
আকাশ ঘন কুয়াশায়
আচ্ছন্ন। ভোর বলাই ভাল হবে হয়তো। ঢাকাটা আরো জড়িয়ে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করতেই ফোনটা
রিং হোলো। ৫টা বেজে মাত্র ৩৪ মিনিট। ওপার থেকে সুকণ্ঠি স্বরে…
— আরে না না বলো। এমন
কী হলো?
— আমি তোমাকে প্রচণ্ড ভালবেসে ফেলেছি অভি। আমি প্রচুর ভাবলাম। তুমি কখনো বলোনি, আমাকে তোমার কেমন লাগে। আমিও বন্ধুর মতোই মিশতাম। ভাল বন্ধু। তোমার সাপোর্ট। আমার সমস্ত বাজে সময়ে তোমাকে সবসময় পাশে পাওয়া, কেয়ারফুলনেশ, তোমার লেখাতে নিজেকেই খুঁজে পাওয়া। আমাকে নাড়িয়ে তুলল।
— নীলা! সত্যি বলছ? আমি তো বলতেই পারতাম না। ভাল তো লাগেই। তোমার নির্ভরতা, বিশ্বাস করা। একটা আশ্রয়। তবে একটা কথা বেশ ভাবাত, এখন তো আরো বেশি ভাবাচ্ছে।
— কী কথা অভি?
— কীভাবে আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব? আজীবন ধরে রাখব?
— খুব পারব। সবসময় ফোন করে ভালবাসি বলব না। চ্যাটেও লিখব না। শুধু সাধারণ কথাবার্তা। কবিতা শোনাবে। আমি সে কবিতাই আবৃত্তি করে শোনাব। লুকিয়ে রাখব তোমায় আমার হৃদশব্দে, প্রশ্বাসে, স্বপ্নে। আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারছি না অভি।
— নীলা। সবই ঠিক আছে। তবে দেখো, সম্পর্কে তুমি প্রথম নক্ করলে। সকাল বেলা। এখনো দুয়ারে মাড়ুলি পড়েনি। ব্রাশ করিনি তুমি, আমি। ভুলে যাওয়া, যদিও হর্মোনাল অভিব্যক্তি এবং এটাই স্বাভাবিক। তাই, এগুলো করার আগে আরো কিছুক্ষণ বা কয়েকদিন ভাবো, তারপর না-হয়…
— ভেবেই বলেছি। আমি আর পিছিয়ে যেতে পারি না।
— তোমাকে কতটা পর্যন্ত পেতে পারি নীলা? কতটা অব্দি ভালবাসতে পারি? গোদা বাংলায় কতদূর তোমাকে ছোঁয়ার অধিকার থাকছে?
— আমি তোমারই হতে চাই। সম্পূর্ণ তোমারই। আমি তোমার থেকে বয়সে সামান্য বড়ো। তবুও আমিই চাই তোমার, আমার মনের নির্জনতায় ঘাস গজিয়ে উঠুক। আমাদের আরো উজ্জ্বল নীলাভ করুক। কেটে যাক কুয়াশা।
এখনো ঠান্ডা তেমন পড়েনি। চারিদিকে কেমন একটা প্রশান্তির বাতাবরণ। মেঠো পথ ধরে গোরুদের মাঠে যাবার আগে, কচি বকনার দুধের বাঁট ধরে আরো একটু বেশি খিদে মেটানো। বাঁশ পাতার নির্জন শাখায় হাওয়ার দোলা। চামড়ায় চড়চড়ে ভাব। বহুদিন ভাবছে নীলা। বহুকিছু ভেবেছে নীলা। প্রচুর ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বোধহয় পারিবারিক খুটিনাটিতে। একবার লিখেছিলাম হোয়াটসঅ্যাপে…
— কী খবর? ব্যস্ত নাকি? সিন করার পরও উত্তর আসেনি।
প্রায় সাড়ে সাতমাস পর, ফোন…
— কেমন আছ? আসলে ব্যস্ত ছিলাম। তারপর হ্যানাত্যানা নিয়ে এত ঘেঁটেছিলাম। ফোন করা হয়নি।
— নীলা, তোমাকে শারীরিক ভাবে পেতে চাই। এটা কী সম্ভব?
— কবে বলো? কোথায় দেখা হবে আমাদের। আমার আপত্তি নাই।
— কলকাতা। আমার পরিচিতর ফ্ল্যাটে। সারাদিন কাটাবো।
— হুম। রাজি। (১৯ দিন কেটে গেলো)
— নীলা, ১৮ তারিখ আসছি। আসবে?
—নিশ্চয়ই।
তাহলে তোমাকে নিয়ে সারাটাদিন কাটাতে চাই। সময় নিয়ে আসো।
— তোমার কী আমার, শরীরের প্রতিই সবথেকে বেশি আকর্ষণ! নাকি আমার সাথে দেখা করা।
— প্রথমত, তোমার সাথে এই প্রথম দেখা হবে, একটা তীব্র এক্সাইটমেন্ট। প্যাকেট ভর্তি ফুচকা। কয়েকটা আনকমন কালারের নেলপলিশ। তার সাথে তোমার শরীরের আকর্ষণ। হ্যাঁ এটা তো স্বাভাবিক। ভালবাসি। শরীর বাদে ভালবাসা, কতদিন টেকে?
— আমার তো মনে হচ্ছে এখন তোমার কাছে নীলার শরীরকে উপভোগ করার তীব্র কামনা। হা হা হা… আমি তো ভাবিইনি, তুমিও বাকিদের মতোই হবে।
— আরে পাগলি…
কত আর উপরে উপরে ভাসা যায়!
একদিন ডুবতেই হবে,
অক্ষরে স্বপ্ন লিখে রাখি,
অপেক্ষার অবসান কবে?
— কবিতাটা পোড়ো নীলা।
ভাল থেকো…
— আমি তোমাকে প্রচণ্ড ভালবেসে ফেলেছি অভি। আমি প্রচুর ভাবলাম। তুমি কখনো বলোনি, আমাকে তোমার কেমন লাগে। আমিও বন্ধুর মতোই মিশতাম। ভাল বন্ধু। তোমার সাপোর্ট। আমার সমস্ত বাজে সময়ে তোমাকে সবসময় পাশে পাওয়া, কেয়ারফুলনেশ, তোমার লেখাতে নিজেকেই খুঁজে পাওয়া। আমাকে নাড়িয়ে তুলল।
— নীলা! সত্যি বলছ? আমি তো বলতেই পারতাম না। ভাল তো লাগেই। তোমার নির্ভরতা, বিশ্বাস করা। একটা আশ্রয়। তবে একটা কথা বেশ ভাবাত, এখন তো আরো বেশি ভাবাচ্ছে।
— কী কথা অভি?
— কীভাবে আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাব? আজীবন ধরে রাখব?
— খুব পারব। সবসময় ফোন করে ভালবাসি বলব না। চ্যাটেও লিখব না। শুধু সাধারণ কথাবার্তা। কবিতা শোনাবে। আমি সে কবিতাই আবৃত্তি করে শোনাব। লুকিয়ে রাখব তোমায় আমার হৃদশব্দে, প্রশ্বাসে, স্বপ্নে। আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারছি না অভি।
— নীলা। সবই ঠিক আছে। তবে দেখো, সম্পর্কে তুমি প্রথম নক্ করলে। সকাল বেলা। এখনো দুয়ারে মাড়ুলি পড়েনি। ব্রাশ করিনি তুমি, আমি। ভুলে যাওয়া, যদিও হর্মোনাল অভিব্যক্তি এবং এটাই স্বাভাবিক। তাই, এগুলো করার আগে আরো কিছুক্ষণ বা কয়েকদিন ভাবো, তারপর না-হয়…
— ভেবেই বলেছি। আমি আর পিছিয়ে যেতে পারি না।
— তোমাকে কতটা পর্যন্ত পেতে পারি নীলা? কতটা অব্দি ভালবাসতে পারি? গোদা বাংলায় কতদূর তোমাকে ছোঁয়ার অধিকার থাকছে?
— আমি তোমারই হতে চাই। সম্পূর্ণ তোমারই। আমি তোমার থেকে বয়সে সামান্য বড়ো। তবুও আমিই চাই তোমার, আমার মনের নির্জনতায় ঘাস গজিয়ে উঠুক। আমাদের আরো উজ্জ্বল নীলাভ করুক। কেটে যাক কুয়াশা।
এখনো ঠান্ডা তেমন পড়েনি। চারিদিকে কেমন একটা প্রশান্তির বাতাবরণ। মেঠো পথ ধরে গোরুদের মাঠে যাবার আগে, কচি বকনার দুধের বাঁট ধরে আরো একটু বেশি খিদে মেটানো। বাঁশ পাতার নির্জন শাখায় হাওয়ার দোলা। চামড়ায় চড়চড়ে ভাব। বহুদিন ভাবছে নীলা। বহুকিছু ভেবেছে নীলা। প্রচুর ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বোধহয় পারিবারিক খুটিনাটিতে। একবার লিখেছিলাম হোয়াটসঅ্যাপে…
— কী খবর? ব্যস্ত নাকি? সিন করার পরও উত্তর আসেনি।
প্রায় সাড়ে সাতমাস পর, ফোন…
— কেমন আছ? আসলে ব্যস্ত ছিলাম। তারপর হ্যানাত্যানা নিয়ে এত ঘেঁটেছিলাম। ফোন করা হয়নি।
— নীলা, তোমাকে শারীরিক ভাবে পেতে চাই। এটা কী সম্ভব?
— কবে বলো? কোথায় দেখা হবে আমাদের। আমার আপত্তি নাই।
— কলকাতা। আমার পরিচিতর ফ্ল্যাটে। সারাদিন কাটাবো।
— হুম। রাজি। (১৯ দিন কেটে গেলো)
— নীলা, ১৮ তারিখ আসছি। আসবে?
—নিশ্চয়ই।
তাহলে তোমাকে নিয়ে সারাটাদিন কাটাতে চাই। সময় নিয়ে আসো।
— তোমার কী আমার, শরীরের প্রতিই সবথেকে বেশি আকর্ষণ! নাকি আমার সাথে দেখা করা।
— প্রথমত, তোমার সাথে এই প্রথম দেখা হবে, একটা তীব্র এক্সাইটমেন্ট। প্যাকেট ভর্তি ফুচকা। কয়েকটা আনকমন কালারের নেলপলিশ। তার সাথে তোমার শরীরের আকর্ষণ। হ্যাঁ এটা তো স্বাভাবিক। ভালবাসি। শরীর বাদে ভালবাসা, কতদিন টেকে?
— আমার তো মনে হচ্ছে এখন তোমার কাছে নীলার শরীরকে উপভোগ করার তীব্র কামনা। হা হা হা… আমি তো ভাবিইনি, তুমিও বাকিদের মতোই হবে।
— আরে পাগলি…
কত আর উপরে উপরে ভাসা যায়!
একদিন ডুবতেই হবে,
অক্ষরে স্বপ্ন লিখে রাখি,
অপেক্ষার অবসান কবে?
সমাপ্ত

মোক্ষম গল্পটি !!
ReplyDeleteবেশ লাগলো 👌
ReplyDeleteবেশ লিখেছো ।
ReplyDeleteকতটা অব্দি ভালবাসতে পারি? গোদা বাংলায় কতদূর তোমাকে ছোঁয়ার অধিকার থাকছে?–-এই রহস্য মুগ্ধতার😊
ReplyDelete