প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, February 10, 2024

সমন্বয় | মৌসুমী সাহা | নাটক

 

বাতায়ন/শিল্প-সংস্কৃতি/১ম বর্ষ/২৯তম সংখ্যা/২৬শে মাঘ, ১৪৩০

শিল্প-সংস্কৃতি | নাটক
মৌসুমী সাহা

সমন্বয়

[চরিত্রঃ অমিত, মুখার্জীদা, মেঘা, ঘোষক।]


[প্রেক্ষাপট: জীবনের রঙ্গমঞ্চ বড়ই বিচিত্র। বৈচিত্র্যে ভরপুর তার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি মোড়। চর্মচক্ষু বা তাৎক্ষণিক দৃশ্যপট যে চালচিত্রের রচনা করে, সবসময়ে তা ধ্রুবসত্য বা চরম সত্য অনুভব, নাও হতে পারে। চাই একজন সমন্বয়কের। তেমনই চিরাচরিত বিতর্কিত সমস্যার প্রেক্ষাপটে শ্রুতিনাটক সমন্বয়।]

অমিত:          আজকেই এলার্মটা গণ্ডগোল হতে হল, যত্তসব! ভেবেছিলাম, অফিসের কাজটা সেরে সরাসরি                             ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে চলে যাব। ‘প্রতিভাত’-র আজকের ডিবেট ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার                         কম্পিটিশনটা বিকেল তিনটেয় শুরু হলেও, পৌঁছতে হবে দুটোর মধ্যে। মুখার্জীদা এই ব্যাপারে খুব                     কড়া। পাঁচ বছর ধরে মুখার্জীদার বাচিক কলা কেন্দ্র, "সমন্বয়"-এর হয়ে ডিবেটে ফার্স্ট প্রাইজ এনেছি।                 তাই আমার ওপর আস্থাটা একটু হলেও বেশি। জিততে আমায় হবেই। যাইহোক, খাওয়ারও সময় নেই।                 অফিস গেলে দেরি হবে। বরং অনলাইনে প্রজেক্টের ডকুমেন্ট ফাইলটা পাঠিয়ে রেখে দিই, কাল গিয়ে                     ডেমোন্সট্রেট করলেই হবে।

[হলে প্রবেশ]

মুখার্জীদা:        কী ব্যাপার অমিত? তৈরি তো? এবারে ডিবেটের টপিক কী, মনে আছে তো? আর, তাৎক্ষণিক                         বক্তৃতায় মাথা ঠান্ডা রেখে টপিকটার ওপর হাইলাইট করে, যুক্তি দিয়ে বলবে। জানি তুমি পারবে,                         তবুও... ওই আর কী, বোঝই তো, একটু টেনশন হয় বই-কি! অল দ্যা বেস্ট। 

অমিত:          চিন্তা করবেন না দাদা, আমি সমন্বয়-এর মান রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আশীর্বাদ করুন শুধু। আমি বরং ওই ফাঁকা জায়গাটায় বসে, একটু নিজেকে প্রস্তুত করি। আপনি অন্যদের দেখুন।

 

[যথা সময়ে ডিবেট শুরু হয়েছে। তিনজনের পর অমিতের নাম ঘোষণা হলে, মঞ্চের ডায়াসে দাঁড়ায় অমিত।] 

 

অমিত:          আজকের বিতর্কের বিষয়: "সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।" আমি বিপক্ষে বলব। সংসার হোক, বা সমাজ, রমণী অর্থাৎ নারীর গুণের ওপর ভিত্তি করে কখনোই সুখের হয় না। পুরুষ, একটা পরিবারের, একটা সংসারের, মেরুদণ্ড। পুরুষের রোজগার, বুদ্ধিমত্তা, পরিশ্রম, সহনশীলতা একটা সংসারের প্রধান কাঠামো। দ্বিতীয়ত, নারী, সংসারের সুখের জন্য নয়, তাদের ধর্মই সংসার তৈরি করা। তারা জন্মেছেই পরের জন্য, অর্থাৎ, যেখানে থাকবে, যে প্রতিপালন করবে,  সবসময় তার জন্যই সে নিবেদিতা। জন্মদাতা বা দাত্রী, কন্যা সন্তান হলে জানেনই, তাকে বিদায় দিতে হবে অন্যের ঘরে। তাই ঘরকন্যার কাজ শিখিয়েই পাঠান। কিন্তু, কখনও দেখা যায়, নারী সেই সংসারকে অবহেলা করে নিজের ভাল লাগার জন্য চাকরি বা যে কোন রোজগারের নাম করে বাইরে বের হয়। তার ফলাফল;  সন্তান, বাড়ির বয়স্কদের অবহেলা। সুখ তো দূর, অসুখের বীজ দানা বাঁধে সংসারে, মননে।

 

[ঘোষক: সময় শেষ। পরের প্রতিযোগিনী মেঘা অধিকারী।]

 

মেঘা:           "সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে"। আমি এই বিষয়ের পক্ষেই বলব। একজন নারী সত্যিই পারে, সংসারকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। এটা নারীর গুণ বই-কি! আমার আগের বক্তা বলছিলেন, "পুরুষ সংসারের মেরুদণ্ড।" তাদের সম্বন্ধে বিশেষ বিশেষ বিশেষণ ছাড়াও আরও অনেক বিশেষণ আছে, যা কিনা সংসারের মূল কাঠামো নয়। সব পুরুষ না হলেও, বেশির ভাগই রোজগারটুকু ছাড়া আর কিছুরই দায়িত্ব নিতে নারাজ। নিদেন, মা, স্ত্রী, কন্যার খাওয়া হলো কিনা, খাবার আছে কিনা তার খোঁজই রাখে না। নিজেরটুকু পেলেই চোখ বন্ধ করে থাকে, পাছে কিছু নজরে পড়ে। নারী কখনোই তা পারে না। সংসারে সবাইকে খাইয়ে, শেষে থাকলে খেলো, নয়তো জল খেয়েই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে প্রথম ঝাঁপায় নারীই। এই সময় পুরুষ নার্ভাস হওয়া ছাড়া কিছুই পারে না। এবার আসি নারীর রোজগারের প্রসঙ্গে। আগের বক্তা বললেন, "নারী জন্মেছেই পরের জন্য। রোজগার করতে বের হয় নিজের ফূর্তির জন্য।" খুব হাসি পেল। নিজেদের সেফ রাখতে এই কথা। যুক্তি নেই। একজন নারী ঘরের কাজ সামলেও বাইরের কাজে সমান পারদর্শী। অফিস বা যে কোন রোজগারের জন্য বাইরে বেরোলেও সংসারকে অবহেলা করে নয়। সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কষ্টকর কাজ যে সম্পন্ন করতে পারে, সে সব পারে। সন্তান, বাড়ির বয়স্কদের জন্য চিন্তা ও উপায় বের করেই তারা কাজ করে। মাসান্তে গর্ভবতী ব্যাংকের বইটা নারীর চেয়েও বেশি সুখী করে সংসারকে। 


[ঘোষকের ইঙ্গিতে থামতে হয় মেঘাকে। মেঘা নিজের চেয়ারে বসার মুহূর্তে লক্ষ্য করে, আগের বক্তা অমিত যেন রাগে ফুঁসছে। বেশ উদ্ধত ভঙ্গিতে শেষ রাউন্ডে বিপক্ষের বক্তব্য রাখতে নাম ঘোষণার আগেই এগিয়ে যায় ডায়াসে।]

 

অমিত:          আগের বক্তার বক্তব্যে পুরুষবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। নারীর গুণের শেষ নেই, জানি। নারী, রান্নাঘর, আর বাচ্চা সামলেই নিজেকে গুণী মনে করেন। একবার ভেবে দেখুন, সাংসারিক জটিলতা শুরু হয় তাদের কথার জন্যই। ঘরে ঘরে দেখা যায়; শাশুড়ি বৌমার বাকযুদ্ধ, ঠান্ডা লড়াই চলতেই থাকে। তার ফলে বাড়ির পুরুষ মানুষদের ‘শাঁখের করাত’ দশা হয়। ‘শ্যাম রাখি, না কূল রাখি’ ভাবতে ভাবতেই ডিভোর্স, সংসারের ভাঙন। সুখ তো দূর, শান্তি মেলে না জীবনে। হ্যাঁ, মানছি, নারীরা হস্তশিল্পে, রন্ধনে পারদর্শী, এই গুণ দিয়ে সংসারের কোন সুখ আসে, তা অবশ্য আমার জানা নেই। নারী স্বাধীনতার বুলি আউড়ে সংসারে সুখ আনা যায় না। সংসারের প্রধান যিনি, অর্থাৎ পরিবারের কর্তা, বৈষয়িক ব্যাপারস্যাপার বোঝেন বলেই, শাসনে বারণে রাখে সংসারকে। তাতেই মঙ্গল হয়, তাতেই সুখ আসে সংসারে। আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।

 

[ঘোষক: পক্ষের বক্তা মেঘাকে ডেকে নিচ্ছি ডায়াসে।]

 

মেঘা:           'সুখ' শব্দটা বড্ড গোলমেলে। পুরুষ ও নারীর সুখের ভিন্ন রূপ। একজন পুরুষের কাছে একটা বিড়ির সুখটানও যেমন সুখ, পা এর ওপর পা তুলে, বসে একের পর এক হুকুম করে নিজের কাজ মিটিয়ে নেওয়াও সুখ। আবার, পরিবারের মা, কাকিমা, মেয়ের সুবিধা অসুবিধা নজর করে তাদের মানসিক তৃপ্তি দেওয়াতেই সুখ। ঝগড়া অশান্তি নারী বর্জিত স্থানে কি হয় না? ওটা নির্ভর করে মানসিকতার ওপর। আমরা বিষয়বস্তু থেকে সরে না গিয়ে বলতে পারি, একটা সংসারের সুখ বজায় থাকে প্রত্যেকের সমান এবং সমানুপাতিক সমঝোতা থাকলে। একজন নারীই যদি পারে অপর নারীকে, যেমন বউমা, কন্যা, জা, শাশুড়িকে যথাযথ স্থানে সম্মান দিয়ে, গুরুত্ব দিয়ে, বিপদে আপদে পাশে থেকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতে, তবে সংসারের পুরুষরাও শান্তিতে ও সুখে থাকবে, কারণ ওই আপন দুই পক্ষের ঝগড়ার মতো কঠিন কাজটা সামলাতে হয় না। তাহলে, নারীর এইরকম গুণ না থাকলে পুরুষরা হাজার চেষ্টাতেও পারবে কী, সংসারকে সুখী করতে? ব্যস, এইটুকুই বক্তব্য আমার। শেষে বলি, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।

 

[ঘোষক: আজকের বিতর্ক এখানেই শেষ হল। ফলাফল পরে জানানো হবে, পরের অনুষ্ঠানে।]

 

মুখার্জীদা:        কী ব্যাপার বলো তো অমিত! কাল অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর থেকেই দেখছি; কেমন থম মেরে রয়েছ! হল কী? আর তাছাড়া তুমি এত ভাল বক্তা, অথচ বিতর্কে কাল যথোপযুক্ত অকাট্য যুক্তি খাড়া করতে পারলে না তেমন ভাবে, কেমন যেন উত্তেজিত হয়ে পড়ছিলে। কেমন যেন একটা ঝগড়ার সুরে কথাগুলো তোমার অজান্তেই বেরিয়ে আসছিল, যা কিনা আমাকে কিঞ্চিত হতাশ করেছিল। এমন তো হয়নি আগে! যাক গে, যা হবার হয়ে গেছে, পরের বার জিতবেই। তুমি কোন কারণে কি মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত? 

অমিত:          আমাকে মার্জনা করবেন দাদা। এই বারের টপিকটাই আমাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। সেই সংসার, সেই রমণী, সেই সুখ-অসুখের ঝগড়া। আমার শৈশব, কৈশোর থেকে, যৌবনের প্রারম্ভ, মা-বাবার ঝগড়া থেকে শুরু করে ডিভোর্স, সবটাই আমার এই মনটাকে বিষিয়ে দিয়েছে। মা, আমার আর বাবার কথা না ভেবেই চলে গেল নিজের সুখের জন্য। হ্যাঁ, মানছি, বাবা একটু রগচটা ছিলেন, তাই বলে মা পারল, সংসার ছেড়ে চলে যেতে? পরে জেনেছি, মা আবার বিয়ে করেছে। সেই থেকে মহিলাদের সহ্য করতে পারি না। আর জানেন? আমার জ্যেঠতুতো দাদার বউটা, মানে বউদি তো জেঠিমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে চেয়েছিল। আমার কলেজের বান্ধবীদের নানা ছলাকলা দেখেছি। প্রেম করল একজনের সাথে, বিয়ে করল বাড়ি থেকে পছন্দের পাত্রকে। এসব কোন ধরনের গুণ নারীর, বলতে পারেন? নারীবাদী, নারী স্বাধীনতার যদি এই রূপ হয়, তবে তা ঘেন্না করি।

মুখার্জীদা:        শান্ত হও অমিত। যা বুঝলাম, তাতে মনে হচ্ছে, তুমি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছ। একজনকে দিয়ে এমন বিচার কখনো ঠিক নয়। হয়তো সাদা চোখে যা দেখেছ, জেনেছ সেই সময় তা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। হতে পারে, ওনাদের দাম্পত্যে এমন কোন সমস্যা হয়েছিল যা অলক্ষ্যেই থেকে গেছে! হতে পারে, তোমাকে মায়ের সম্পর্কে ভুল বোঝানো হয়েছে। যাইহোক, পক্ষের বক্তার প্রতিটা কথা একদম সঠিক। একটা পরিবারের জন্য মহিলাদের আত্মদান, পরিশ্রমের কোন মূল্যায়ন হয় না। তাদের মানসিক সহযোগিতা পুরুষ যদি না করে, সুখ আসে না। তোমার বাবা, সম্পর্কের যত্ন নিলে হয়তো তুমি একলা হতে না, আর, এই ধরনের নারীবিদ্বেষীও হতে না।

অমিত:          আমি নারীবিদ্বেষী নই, বিশ্বাস করুন। ঠিক বোঝাতে পারছি না। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিফলন বলতে পারেন, মাতৃসুখ থেকে বঞ্চিত ছিলাম বলেই হয়তো সঠিক উপলব্ধিটা করতে পারিনি।

মুখার্জীদা:        একটা কথা জেনে রেখো অমিত, রমণীই কিন্তু আসলে স্রষ্টা, সন্তানের ধারক, বাহক। তাই সে মাতৃরূপী। নারীই রক্ষাকর্ত্রী। তাই সে ভগিনী। নারীই পুরুষের আকাঙ্ক্ষা, তাই সে সোহাগী জায়া। নারীই কন্যা, জায়া, জননী, ভগিনী, কাকে বাদ দেবে তুমি? বুকে হাত দিয়ে বলো তো সত্যিটা। রমণী বিহীন একার সংসারে সুখে আছো তো? আর মেঘা যে কথাটা শেষে বলল, অস্বীকার করতে পারো? একজন পুরুষও পিতা, স্বামী, সন্তান। নারীও তা অস্বীকার করে না।

মেঘা:           আসতে পারি?

মুখার্জীদা:        আরে, আসুন আসুন। আলাপ করিয়ে দিই। ইনি মেঘা অধিকারী। গতকালের ডিবেট বিজেতা হিসেবে নয়, বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি, আমার বেয়ান। বসুন। আপনারা কথা বলুন, আমি ততক্ষণ গিন্নিকে খবরটা দিই। 

মেঘা:           আমি কিন্তু ‘তুমি’ সম্বোধনেই ডাকব, কারণ, তুমি আমার ছেলের বয়সি। জানি, আমার সামনে বসে তুমি অস্বস্তি বোধ করছ। স্বাভাবিক। তবু বলব, কিছু সময় না-হয় অন্যদিকে তাকিয়েই আমার কথাগুলো শোন।

অমিত:          না না, তেমন কিছু নয়। আপনি বলুন কী বলতে চান। আসলে আমার একটু তাড়া আছে, বেরতে হবে।

মেঘা:           একটা সময়ে, আমিও পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে পড়েছিলাম। বাবা, কাকা, থেকে শুরু করে নিজের স্বামীকেও সহ্য করতে পারতাম না। কারণ ছিল ভিন্ন ভিন্ন। যা কিনা বলতে মুখে বাধে, শুনতে কানে লাগে। দুনিয়াটা অনেক বড়, আমরা দেখি যৎসামান্য অংশ। যতটুকু আমাদের ইন্দ্রিয় আহরণ করে, ততটুকুই। বাকিটা পরস্পরের সাথে আলোচনায় জ্ঞাত হই মাত্র। 

অমিত:          বুঝলাম, কিন্তু আমাকে এসব কথা শোনানোর... 

মেঘা:           দরকার আছে। আমার কৈশোরে, নিজের কাকার অশালীন আচরণ আমাকে স্তব্ধ করেছিল। তারপর বাবার, মায়ের প্রতি ঔদাসীন্য আমাকে কঠোর করেছিল। মায়ের জোরাজুরিতে, বিয়ে করে এক বছরের মাথায় একমাত্র পুত্র সহ আমাকে ত্যাগ করে আমার স্বামী আর একটা বিয়ে করেছিল। একা লড়াই করে ছেলেকে বড় করেছি। ছেলে যখন জানাল, নিজের পছন্দে বিয়ে করতে চায়, মনে মনে প্রমাদ গুনেছিলাম। আরও একটা মেয়ের সর্বনাশের আশঙ্কায়। ছেলে আমাকে আদর করে বোঝাতে থাকে অনেক কিছু। তারপর রিম্পার সাথে পরিচয় করায়। 

অমিত:          রিম্পা! মানে, মুখার্জীদার মেয়ে?

মেঘা:           হ্যাঁ, মুখার্জীদার মিষ্টি মেয়ে রিম্পা তখন আমাকে আমার মায়ের মতো করে বোঝাত। ওদের এই বাড়িতে এনে ওর বাবা-মার সাথে আলাপ করিয়ে একটা সুন্দর সংসার উপহার দিয়েছে। এই মুখার্জীদার কাউন্সেলিং আমার কাছে ধন্বন্তরীর কাজ করেছে। আমার না-পাওয়া সুখ এনে দিয়েছে। আমার স্বামীকে ফিরিয়ে এনেছি আমাদের কাছে। সত্যি কথা বলতে কী, মাঝে মাঝে আমিও তোমার মতো নারী বিদ্বেষী হয়ে উঠি। আমার স্বামী যে মেয়েটির জন্য ঘর-সংসার ছাড়ল, সে যখন দেখল, হঠাৎ স্ট্রোকে উনি এক পাশ প্যারালাইজড, সেবা তো দূর, ছেড়েই চলে গেছিল। সেটা জানতে পেরেছি এই মুখার্জীদার দৌলতেই। শোনার পর, এক মুহূর্ত দেরি না করে ওনাকে সাথে করে আমার স্বামীকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা করাই। 

অমিত:          এখন বুঝতে পারছি, আপনি ঠিকই বলেছেন, দৃশ্যপটে যতটুকু আসে, সেটাই জগৎ নয়। বক্তৃতা বা বিতর্ক সভায় যা গ্রহণযোগ্য, বাস্তবে তা নয়। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের পরিপূরক। সংসার সুখের হয় পারস্পরিক সহমর্মিতায়। আমার শ্রদ্ধা জানবেন।

মুখার্জীদা

ও মেঘা:        [একসাথে] একদম তাই। এতদিনে আমাদের এই সমন্বয়-এর নাম সার্থক হল। হা হা হা...

 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)