প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, February 10, 2024

জানালা | সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

 

বাতায়ন/ছোটগল্প/১ম বর্ষ/২৯তম সংখ্যা/২৬শে মাঘ, ১৪৩০

ছোটগল্প
সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

জানালা


বাসবের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে গেটের "সুইচ অন" করলে বেল বাজে। মিনতি মানে কাজের মেয়ে যা-ই কাজ করুক না কেন, অতিথিকে দেখে তবে মালকিন মানে বাসবের বউয়ের অনুমতি নিয়ে প্রবেশের কথা বলতে হবে। তারপরও হ্যাপা আছে। গেটের পাশে পান্থপাদপের ছায়ায় শুয়ে আছে টুটুল, অ্যালসেশিয়ান। বাড়ির ছাদ থেকে পাশের বাড়ির সব টুই চালা দেখা যায়। সকাল হলেই বাসব থাকে বারান্দায়।

লোকজন আসে স্বাক্ষর পরামর্শ নিতে। সে নির্বাচিত প্রতিনিধি। দশ বছর আগে সে পড়শিদের মতো ছিল। হঠাৎ বুমেরাং হল কথাটা। সে নাকি লটারি পেয়েছে। একেবারে প্রথম পুরস্কার! কে জানে কী করে হল! তবে স্থানীয় কোনো লটারি ক্যাম্প থেকে হয়নি। শহর খোদ কলকাতা থেকে। কে দেখতে যাবে সত্যি মিথ্যা? তবে সেই টাকায় চার তলা প্রাসাদোপম বাড়ি, সিসিটিভি, এসি, মার্বেল পাথরের সব এলাহি ব্যাপার। সোনাদানায় গা ভর্তি বাসবের বউ সায়ন্তনীর। ছিল চাকরানি এখন রাজরানি। জাদুকল না হলে হয়।

যাই হোক ওর বাড়ি চৌরাস্তার মোড়ে ওখানে টিউবয়েলসহ নল বাহিত টাইম কলও আছে। সবাই স্নান করে। দুপুরে-সকালে জল নেওয়া স্নান করার জটলা তৈরি হয়। তবে ক্রমান্বয়ে নেবার রীতি মেনে জল বালতিতে ধরে পুরুষরা সরে আসে, মেয়েরাও তাই। মন্মথের মেয়ে শ্যামলী একটু বেলা গড়িয়ে আসে। সোমত্ত যুবতী মেয়ে সুশ্রী শরীরে সকলের নজর কাড়ে। অধিকাংশ লোকের উঠোনে পুকুর নেই। ডাক্তার এখন সকলকে কলের জলে স্নান করতে বলেন।

প্রত্যহ বাসব দুপুরে খেয়ে দোতলায় জানালার পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন তার বউ ডাইনিং টেবিলে রসোত্তীর্ণ খাবার খেতে দেরি করে। সেই সুযোগে শ্যামলীর স্নান করা দেখে মুগ্ধ হয়। নিষ্পলক চোখে দেখে দেখে মনে মনে মজা লুটে নেয়। শ্যামলী গলা উঁচিয়ে সাবান মাখতে গেলে চোখ পড়ে যায় তা একদিন নয় বেশ কয়েকদিন কথাটা বলবে বলবে বলেও সুযোগ হয়নি বলার। ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যাচ্ছে— "সবজি আছে চলবে নাকি গো?"

সায়ন্তনী গেটের তালা খুলে বের হয়। শ্যামলী ঠিক ওই সময়টা জানত যে দেখা পাওয়া যাবে।
- ও বউদি শোনো। একটু আড়ালে ডেকে নেয়।
- কী? আরে বল না এখানে?
- বলব বলেই ডাকছি। তোমাদের বাথরুমে স্নান করতে দেবে?
- কেন? বাথরুম করেছি কি পাড়ার লোকের জন্য?
- তোমার শরীর থাকতে তোমার গুণধর বর মানে মাননীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি বাসব দাস তাহলে দোতলার জানালার পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে কী দেখে? ঘরে কি মা-বোন নেই? অ‍্যাঁ! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভর দুপুরে ওর দেখার জন্যই কি এ পাড়ার মেয়েদের শরীর? ওপাশের জানালাগুলোয় তালা দিও। নাহলে বাড়ি বাড়ি বাথরুম বানিয়ে দিতে বলো। বুঝলে?
- তোর এই কুৎসা প্রমাণ করতে পারবি তো?
- এই দেখো। আমার ছোট বোন মোবাইলে এই গৌতম মুনির রেকর্ডিং ফটোটা তুলেছে। এটা বাসব দাস না? ওই যে পর্দা ফাঁক করে কে কী দেখছে। অ্যাঁ?
- দেখি দেখি, ও মা! সে কী?
- ফাউ পয়সা পেয়ে ঘরটা উঁচু করলে, মনটা এত নিচু কেন? শ্যামলী আর সায়ন্তনীর কথার ঝাঁজ প্রতিবেশিদের নাকে লাগল।

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)