জানালা
প্রত্যহ বাসব দুপুরে খেয়ে দোতলায় জানালার পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন তার বউ ডাইনিং টেবিলে রসোত্তীর্ণ খাবার খেতে দেরি করে। সেই সুযোগে শ্যামলীর স্নান করা দেখে মুগ্ধ হয়। নিষ্পলক চোখে দেখে দেখে মনে মনে মজা লুটে নেয়। শ্যামলী গলা উঁচিয়ে সাবান মাখতে গেলে চোখ পড়ে যায় তা একদিন নয় বেশ কয়েকদিন কথাটা বলবে বলবে বলেও সুযোগ হয়নি বলার। ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যাচ্ছে— "সবজি আছে চলবে নাকি গো?"
সায়ন্তনী গেটের তালা খুলে বের হয়। শ্যামলী ঠিক ওই সময়টা জানত যে দেখা পাওয়া যাবে।
- ও বউদি শোনো। একটু আড়ালে ডেকে নেয়।
- কী? আরে বল না এখানে?
- বলব বলেই ডাকছি। তোমাদের বাথরুমে স্নান করতে দেবে?
- কেন? বাথরুম করেছি কি পাড়ার লোকের জন্য?
- তোমার শরীর থাকতে তোমার গুণধর বর মানে মাননীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি বাসব দাস তাহলে দোতলার জানালার পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে কী দেখে? ঘরে কি মা-বোন নেই? অ্যাঁ! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভর দুপুরে ওর দেখার জন্যই কি এ পাড়ার মেয়েদের শরীর? ওপাশের জানালাগুলোয় তালা দিও। নাহলে বাড়ি বাড়ি বাথরুম বানিয়ে দিতে বলো। বুঝলে?
- তোর এই কুৎসা প্রমাণ করতে পারবি তো?
- এই দেখো। আমার ছোট বোন মোবাইলে এই গৌতম মুনির রেকর্ডিং ফটোটা তুলেছে। এটা বাসব দাস না? ওই যে পর্দা ফাঁক করে কে কী দেখছে। অ্যাঁ?
- দেখি দেখি, ও মা! সে কী?
- ফাউ পয়সা পেয়ে ঘরটা উঁচু করলে, মনটা এত নিচু কেন? শ্যামলী আর সায়ন্তনীর কথার ঝাঁজ প্রতিবেশিদের নাকে লাগল।
সমাপ্ত
No comments:
Post a Comment