প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Tuesday, January 21, 2025

ঝিঙাফুল সিরিজ— ৪ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/প্রেমের Rush-লীলা/রম্যরচনা/২য় বর্ষ/২তম সংখ্যা/০৬ই মাঘ, ১৪৩১

প্রেমের Rush-লীলা | রম্যরচনা

প্রদীপ কুমার দে

অমাবস্যায় কেলো

ঝিঙাফুল সিরিজ— ৪

"এবার আমি সুযোগ নেবো। সুতা ছাড়ছি। পিছনের গাছের পাতা দিয়ে বউয়ের পিঠে আঁচড় দিলাম। বউ কী বুঝল কে জানে। ভয়ে সিঁটিয়ে আমার কাছে চলে এল। আমি এবার সদ্ব্যবহার করব। আমি ঝিঙাফুলের ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম।"


এতদিন পর আজ বউ ঝিঙাফুল স্বীকার করে নিল,
-এই প্রথম কোন অন্ধকার তিথিতে তুমি আমার অসভ্য স্বামী হয়েও কোন দুষ্টুমি করোনি উপরন্তু আমায় পিতার মতো যত্ন নিয়ে আমাকে এই উপবাস করতে সাহায্য করেছ।
-বাপরে বাপ! স্বামী কী করে পিতা হবে? আমি ওইসবে নেই। ওইসব করতেও তো সেই…
বউ ঝাঁঝিয়ে উঠল,
-থামো থামো সব বুঝে গেছি তুমি কোন লাইনে চলেছ, একবার সুযোগ পেলেই হল আর কী! তোমায় ওইসব কাজে কে ডেকেছে? সব কথায় সেই আদিম ইঙ্গিত?
আমি একটু খেলাচ্ছি, দেখি ফুলে ফল আসে কিনা!
-আচ্ছা তুমি তো এত ঠাকুর দেবতা করো বলো তো কালী কেন তবে ন্যাংটো হল?
-ছি! ছি! এসব কী বলছ তুমি? কালী পাপ দিলে তুমি বাঁচবে?
-কেন পাপ দেবে? আমি শুধুই জানতে চাইছি। তাতেই এত দোষ?
-এত জেনে কী করবে তুমি? কই আরো কতজন ছেলে বউ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা তো জানতে চায়নি?
-কী করে জানলে তারা জানতে চায়নি। ভোররাতে কি তারা এই সব বিষয় নিয়ে সুখের সমুদ্রে ভাসে না? যদি নাই ভাসত তাহলে শুধু তাদের বউই থাকত, ছেলেমেয়ে কি হত?
ঝিঙাফুল হেরে যাচ্ছে। কটকটে চোখ মেলে চেয়ে রইল।
-ভদ্রভাবে তোমাকে ভাল বললাম আর তুমি কিনা সেই অন্ধকারের কথাই বলে চলেছ? মনে রেখো চোখেমুখেও নোংরামি বেশি হয় সেটায় আরো পাপ।
-তাহলে তো আর কেউ বিয়েই করত না, পাপের ভয়ে। যাকগে চলো তোমায় নিয়ে শ্রদ্বানন্দ পার্কে ঘুরে আসি। ভালই লাগবে।
-তাই ভাল যাই চলো। বাজে বকার থেকে অনেক ভাল।
 
দুজনায় গিয়ে পার্কে বসলাম। পিছনে অনেক গাছপালা আছে এইরকম স্থানেই বসলাম। আমার উদ্দেশ্য খারাপ সে এই সহজ-সরল মেয়েটা কী করে বুঝবে? যদিও গ্রাম থেকে এই শহরে এসেছে তাও অনেকদিন হল কিন্তু মনটা যে সেই গ্রাম্যই রয়ে গেছে, আধুনিকতা এখনও ওকে গ্রাস করতে পারেনি। এও এক দুর্লভ চরিত্র।
-দ্যাখো তোমাকে ওই লোকটা কেমন ড্যাবড্যাব করে দেখছে?
-একেবারে শয়তান। অথচ পাশে বউ আছে।
আমার বউ না দেখেও বলে দিল।
-ওটা ওর বউ নয়। পাশের বাড়ির বউ। আর ছোট ছেলেটাকে দেখেছ, আইসক্রিম খাচ্ছে? ওটা ওই বউটারই একার ছেলে, ওই লোকটার ওতে কোন শেয়ার নেই। ছেলেকে ঘোরাতে এনে মহিলা নিজেই ঘুরছে। লোকটা পরের বউয়ের আদর নেবে বলে বাচ্চাটাকে গাঁটের খরচ করে আইসক্রিম কিনে ভুলিয়ে রেখেছে।
-মা! এসব সত্যি? না তুমি মিথ্যা বলছ? তোমায় আমি মোটেও বিশ্বাস করি না কিন্তু? তুমি ডাঁহা একটা বাজে লোক।
-আচ্ছা বাবা, তোমায় বুঝিয়ে দিচ্ছি। প্রমাণ হয়েও যাবে।
-হ্যাঁ তাই ভাল। প্রমাণ করে দাও।
-আচ্ছা। দেখো তুমি আমার স্ত্রী?
-আমি তোমার নিজের বউ?
-একদম ঠিক কথা।
-আচ্ছা আমরা দুজনে বৈধ স্বামী স্ত্রী হয়েও কি কাছাকাছি বসে চটকাচটকির খেলা খেলছি?  যা খেলি ঘরে আবার অন্ধকারে লাইট অফ করে আর এরা দেখো ঘরবাড়ি ছেড়ে মাঠে লোকালয়ে একপ্রকার আর কোন উপায় না পেয়েই এইসব আদিম খেলাধুলা প্র্যাকটিস করছে।
 
ঝিঙাফুল চুপ! দেখল গতি খারাপ। ছেঁড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।
-চলো ওদিকে গিয়ে বসি।
-কোথায় পালাবে? ও পাশে চেয়ে দ্যাখো, জোড়ায় জোড়ায় বসে বসে ওই একই সুখের খেলাগুলো প্র্যাকটিস করে চলেছে।
-কী অসভ্য সব? লাজলজ্জা বলে কিছু নেই। সবচাইতে ভাল ওদের না দেখে চোখ বন্ধ করে রাখা।
-তা ভাল তবে আজ কিনা অন্ধকারে রাত, চোখ বন্ধ করা কি ঠিক হবে?
-আর কী হবে?
-ওনারা সব রেঁতেই আঁসেন।
 
এবার আমি সুযোগ নেবো। সুতা ছাড়ছি। পিছনের গাছের পাতা দিয়ে বউয়ের পিঠে আঁচড় দিলাম। বউ কী বুঝল কে জানে। ভয়ে সিঁটিয়ে আমার কাছে চলে এল। আমি এবার সদ্ব্যবহার করব। আমি ঝিঙাফুলের ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম।
-অমাবস্যার রাত নাকি বেশ ভয়ের হয় শুনেছি। আমার মেসো বলত, এদিন রাতে বাইরে না থাকাই ভাল। তা তুমি কেন আজ বের হলে? মাসি পইপই করে রহিমের ভূতে ধরার কথা বলেছিল, আর আমি তা অমান্য করছি।
আমি খুব জানি যারা ধর্মভীরু হয় তারা খুব ভীতু হয়।
-কেন তোমার ভয়ের কী আছে? আমি স্বামী তোমার সাথে আছি না?
বউ ঝিঙাফুল আমার একেবারে কাছে চলে এল। আমি ওকে আরো কাছে নিলাম। দেখলাম ও ভয় পেয়েছে।
-ওগো বাড়ি চলো না, তুমি যা বলবে তাই শুনব।
সোজা বাড়িতে চলে এলাম। অল্পকিছু খেয়ে সুখের বিছানা নিলাম। বউ ঝিঙাফুল আমার বুকে চলে এল,
-জানো? মাঠে কে যেন আমার পিঠে খোঁচা দিচ্ছিল পায়ে সুড়সুড়ি, কত ছায়া সব নড়ে নড়ে উঠছিল?
আমি খুব খুশি। বউ আজ জব্দ। বেশ মজা হচ্ছে,
-জানি তো! আমি থাকলে ওরা কিচ্ছুটি করতে পারবে না।
 
ঝিঙাফুল একেবারে আমাকে জড়িয়ে ধরলো, আমিও। বুকে মাথাটা গুঁজে দিয়ে জানালো, পাড়ার এক বৌদি আমায় তাই পইপই করে বলত, সারাদিন যত দেবদেবীর পুজোই করিস না কেন, রাতে স্বামীর পুজো অবশ্যই করবি...! না হলে কোন পুজোই নাকি সার্থক হয় না!
 

সমাপ্ত

3 comments:

  1. শুভকামনার পত্রিকা। সবাই পড়ে আনন্দ পেলে আমি খুশি হব।

    ReplyDelete
  2. দারুণ মজা পেলাম। ধন্যবাদান্তে জানাই পত্রিকার সকলজনে।

    ReplyDelete
  3. সকল লেখক কবিদের ধন্যবাদ জানাই

    ReplyDelete

গঙ্গার পাড়ে সূর্যাস্ত


Popular Top 10 (Last 7 days)