বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১৪ই কার্ত্তিক, ১৪৩২
নৃপেন চক্রবর্তী
সংখ্যা | গল্পাণু
মনোজ চ্যাটার্জী
বিকৃত
আয়নায়
"না, আমার মতো সুন্দরীকে তুমি প্রত্যাখ্যান করতে পারো না।"
একটামাত্র বড় ঘর। ছজনের বাস।
জানলায় রডে হেলানো থাকে একমাত্র আয়নাটি। সবাই হেলান পালটে ব্যবহার
করে। একমাত্র মেয়ে ইশানী। রং চাপা হলেও আয়নায় সুন্দর মুখশ্রী
দেখে গর্বিত হয়। একসময় কলেজে ভর্তি হয়। নতুন বান্ধবীরা বলে আমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে
সুন্দরী বল তো?
-ইশানী, ইশানী!
বন্ধুদের তামাশা সে বোঝে না।
ফিজিক্সের স্টার সন্দীপন হঠাৎ ডাকসাইটে সুন্দরী বন্ধু মধুরিমার প্রেমে পড়ল। তাদের
প্রেম দেখে হিংসেয় ইশানী আর থাকতে না পেরে একদিন সন্দীপনকে প্রপোজ করে।
-কী বলছ তুমি, আমি মধুরিমার সাথে
এনগেজড্।
-তা হোক, ওকে ছেড়ে দাও, আমি অনেক সুন্দরী।
-কী যা তা বলছ?
-যা তা নয়, আমার তোমাকেই চাই।
-অসম্ভব, আমরা অনেক এগিয়ে
গেছি।
-না, আমার মতো সুন্দরীকে
তুমি প্রত্যাখ্যান করতে পারো না।
সন্দীপনের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে,
-কী সুন্দরী সুন্দরী করছ,
আয়নায়
দেখেছ?
-হ্যাঁ, আমি খুবই সুন্দরী।
তিতিবিরক্ত হয়ে সন্দীপন বলে
-তুমি দাঁড়াও।
সে মধুরিমার ব্যাগ থেকে একটা
আয়না নিয়ে আসে,
-নাও দেখো নিজেকে।
একি তার মুখটা এরকম কুৎসিত
লাগছে কেন?
-তোমার আয়না ভাল না,
যাও
মুখে বললেও ইশানী অন্য
বন্ধুদের ছোট আয়নায় নিজেকে দেখে, একি সবেতেই তো কুৎসিত
লাগছে। তবে কি বাড়ির আয়নাটায় খারাপ? সে পাশের বাড়ির বড়
আয়নায় আরেকবার দেখে। বাড়ি ঢুকেই সে আছড়ে আয়নাটা ভেঙে দেয়। সংসারে এরকম কত বিকৃত
আয়না আছে কে জানে?
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment