বাতায়ন/নবান্ন/গল্পাণু/৩য়
বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন
| গল্পাণু
গোবিন্দ
সাহা
নবান্নের
প্রসাদ
"পিন্টু কোনাই জানে ভূমিহীন দিনমজুরের নবান্নের প্রসাদ মিষ্টি হয় না। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠের ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়। তাদের স্থান বাড়ির বাইরে, উঠোনের এক কোণে। যারা গঙ্গা স্নান করেও শুদ্ধ হতে পারে না।"
আজ নবান্ন। গ্রামের মোড়লের
ঘরে নেমতন্ন। তার ছেলে খুব খুশি। সকাল সকাল স্নান সেরে যেতে হবে। পিন্টু কোনাই কলা
পাতা নিয়ে আসে। মোড়লের বৌ গঙ্গা জল ছিটিয়ে ঘরে তোলে। উঠোনে এক কোণে পিন্টু আর
তার ছেলে বসে। সামনে দুটি কলা পাতার থালা। মোড়লের বৌ নবান্নের প্রসাদ দিয়ে গেল।
সঙ্গে দুটি মিষ্টি। প্রসাদে মিষ্টি নেই। তবুও কি সুস্বাদু!
নবান্নের প্রসাদ মিষ্টি না
হলেও, ছোট ছেলেটার খুব ভাল লাগে।
পিন্টু কোনাই জানে ভূমিহীন দিনমজুরের নবান্নের প্রসাদ মিষ্টি হয় না। যাদের
অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠের ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়। তাদের স্থান বাড়ির বাইরে, উঠোনের এক কোণে। যারা গঙ্গা স্নান করেও শুদ্ধ হতে পারে না।
শুদ্ধ হয় শুধু তাদের দেওয়া কলাপাতা।
~~০০~~

No comments:
Post a Comment