প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

তূয়া নূর সংখ্যা | জিরাফের গলা

বাতায়ন/ তূয়া নূর সংখ্যা/ সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/ ৪০ তম সংখ্যা/ ২৪শে মাঘ,   ১৪৩২ তূয়া নূর সংখ্যা | সম্পাদকীয়   জিরাফের গলা "সম্পূর্ণ ভাবে ...

Friday, February 6, 2026

অন্ধ কবি | আবু সাইদ কামাল

বাতায়ন/তূয়া নূর সংখ্যা/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪০তম সংখ্যা/২৪শে মাঘ, ১৪৩২
তূয়া নূর সংখ্যা | গল্পাণু
আবু সাইদ কামাল
 
অন্ধ কবি

"এক সময়ে সম্মোহনী পঙ্‌ক্তিমালায় গড়তেন কাব্যের দেহ। এখন তিনি প্রতিদিনই বসে থাাকেন এই বই বিপণিকেন্দ্রে। স্বাভাবিক মানুষের মতো খোলা থাকে আঁখি-পল্লব।"

 
সদর রাস্তায় বই বিপণিকেন্দ্রে একজন কবি বসে থাকেন। এক সময়ের চক্ষুষ্মান হিতাকাঙ্ক্ষীরা এখন দেখেও তাকে না দেখার ভান করে চলে যায়। কিংবা উপেক্ষার পথ ধরে হাঁটে। আমিও তাদের দলের একজন হয়ে সামনের দিকে যখন এগচ্ছি, তখন বিবেক তাড়া করে। ফিরে আবার কবির কাছে গিয়ে পরিচয় দিই। অনেকদিন পর সুহৃদ কারো সাক্ষাৎ পেলে আবেগ যেমন উথলে ওঠে, তেমন করে ধরে আসা গলায় তিনি কুশল জিজ্ঞেস করেন। মনে হল, কতদিনের চেনা এক আত্মীয় যেন! ক’দিন আগেও দুচোখে তাঁর আলো ছিল।
 
এক সময়ে সম্মোহনী পঙ্‌ক্তিমালায় গড়তেন কাব্যের দেহ। এখন তিনি প্রতিদিনই বসে থাাকেন এই বই বিপণিকেন্দ্রে। স্বাভাবিক মানুষের মতো খোলা থাকে আঁখি-পল্লব। তাকে দেখে মনে হবে দিঘির মতো স্বচ্ছ দুটি গভীর চোখে অনেক আলো... যেন চোখ দুটি আলোর সাগর। কিন্তু আহা! দৃষ্টিহীন সেই অবহেলিত কবি এখন অন্ধকারের হাহাকারে চুপচাপ বসে থাকেন। তাঁর ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে আড়াল হওয়া কবিসত্তার খবরটি কেউ না জানুক আমি জানি। আলোহীন ভুবনে তাঁর দুঃসহ একাকীত্বে লাস্যময়ী পঙ্‌ক্তিরা নিশ্চয় আগের মতো কাছে আসে না।
 
বিষণ্ন এই অন্ধ কবি পশ্চাৎপদ উপজেলা শহরের প্রবেশ পথে একটি বই বিপণিকেন্দ্রে করুণ এবং অপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে একা বসে থাকেন। বৃদ্ধ এই চিরকুমার কবির পাশে কোন স্বজন নেই। অন্ধকার সেই পৃথিবীতে নির্বাক তিনি কার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বসে থাকেন...!
 
~~০০~~

No comments:

Post a Comment

গঙ্গার পাড়ে সূর্যাস্ত


Popular Top 10 (Last 7 days)