বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— সন্ধান
কবি— খগেশ্বর দাস
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই
পর্যালোচনা]
জরাজীর্ণ পলেস্তারা খসে গেলে
উদ্ভাসিত আদুল শরীর
বৃথা চেষ্টা ক্ষতস্থান লুকিয়ে রাখার
নিজস্ব দৈন্যে লাগাব বিমুগ্ধ প্রলেপ।
নির্বোধ প্রচেষ্টা যদি ধরা
পড়ে যায়
টাঙিয়ে রেখেছি ভয় পাকুড় শাখায়
নিত্যদিন অসহায়
শুঁড়িপথের গোপন সহ্য করি।
আমার দুরূহ অস্তিত্ব এখন
হুডখোলা
ভোরগুলো সব রোদ পোহানোর ঘাট
আনকোরা নিবিড়ে যুক্ত করি সাঁকো
মেঘলা দিনের ভেজা ভঙ্গি আঁকি জলরঙে।
নতুন আলোতে সেজে উঠবে প্রাচীন
ছায়ারা
বাগান কাঁপানো শ্রাবণ ঝরাবে মেঘ
কোণে কোণে অবৈধ ছটার বিজ্ঞাপন
তোমার সন্ধানে বৈধ শ্বেতপথ খুঁজি।
-----------
'সন্ধান' বেশ শক্তিশালী শব্দ
এবং চিত্রকল্পে ভরা যেখানে জরাজীর্ণ দেয়াল বা শরীর যখন প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন আর লুকানোর কিছু থাকে না। এই 'আদুল শরীর' আসলে মানুষের ভেতরের
সত্য বা অসহায়ত্বের প্রতীক। জরাজীর্ণ দেয়াল থেকে শুরু করে পাকুড় গাছের ডালে ভয়কে
টাঙিয়ে রাখার রূপকগুলো মানুষের মনের গহীনের এক অদ্ভুত লড়াই।
'শুঁড়িপথের গোপন সহ্য করা' বা দৈন্যে প্রলেপ লাগানোর চেষ্টা—সব মিলিয়ে এক গভীর মানসিক টানাপোড়েনের ছবি
স্পষ্ট।
শেষের দিকে বৃষ্টির (শ্রাবণ)
মাধ্যমে যে শুদ্ধিকরণ এবং 'শ্বেতপথ' খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা অন্ধকারের পরে আলোর প্রত্যাশাকেই মনে করিয়ে দেয়।
কিছু বিশেষ অংশ যা বেশ ভালো
লেগেছে:
"টাঙিয়ে রেখেছি ভয় পাকুড় শাখায়"
ভয়কে নিজের ভেতর থেকে বের করে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করার এই ধারণাটি বেশ ইউনিক।
"মেঘলা দিনের ভেজা ভঙ্গি আঁকি জলরঙে"
এই লাইনটি কবিতার মেজাজকে এক মুহূর্তেই বিষণ্ণ অথচ শৈল্পিক করে তুলেছে।
কবিতার বিপক্ষে জানাই দ্বিতীয়
স্তবকের "শুঁড়িপথের গোপন সহ্য করি" অংশটি কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করে।
গোপন বিষয় আরেকটু ইঙ্গিতবহ হলে ভাল হত।
"কোণে কোণে অবৈধ ছটার বিজ্ঞাপন"—এখানে 'অবৈধ ছটা' বলতে ঠিক কী বোঝাতে
চেয়েছেন তা সাধারণ পাঠকের কাছে কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। আধুনিক কবিতায়
বিমূর্ততা ভাল, তবে রূপকগুলো অনেক সময় মূল
আবেগ থেকে পাঠককে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
কবিতাটি মূলত গদ্যছন্দে লেখা।
তবে কিছু জায়গায় শব্দের বিন্যাস আরও কিছুটা সংহত হলে শ্রুতিমধুর হত।
ক্ষণিকের অতিথি | পর্যালোচনা
কবিতা— সন্ধান
কবি— খগেশ্বর দাস
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
"কবিতার বিপক্ষে জানাই দ্বিতীয় স্তবকের "শুঁড়িপথের গোপন সহ্য করি" অংশটি কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করে। গোপন বিষয় আরেকটু ইঙ্গিতবহ হলে ভাল হত।"
উদ্ভাসিত আদুল শরীর
বৃথা চেষ্টা ক্ষতস্থান লুকিয়ে রাখার
নিজস্ব দৈন্যে লাগাব বিমুগ্ধ প্রলেপ।
টাঙিয়ে রেখেছি ভয় পাকুড় শাখায়
নিত্যদিন অসহায়
শুঁড়িপথের গোপন সহ্য করি।
ভোরগুলো সব রোদ পোহানোর ঘাট
আনকোরা নিবিড়ে যুক্ত করি সাঁকো
মেঘলা দিনের ভেজা ভঙ্গি আঁকি জলরঙে।
বাগান কাঁপানো শ্রাবণ ঝরাবে মেঘ
কোণে কোণে অবৈধ ছটার বিজ্ঞাপন
তোমার সন্ধানে বৈধ শ্বেতপথ খুঁজি।
-----------
"টাঙিয়ে রেখেছি ভয় পাকুড় শাখায়"
ভয়কে নিজের ভেতর থেকে বের করে প্রকৃতির কাছে সমর্পণ করার এই ধারণাটি বেশ ইউনিক।
এই লাইনটি কবিতার মেজাজকে এক মুহূর্তেই বিষণ্ণ অথচ শৈল্পিক করে তুলেছে।

No comments:
Post a Comment