বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/পর্যালোচনা/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| পর্যালোচনা
কবিতা— লাল কৃষ্ণ
পলাশের পিত্ত ওঠা মানুষ ও কিছু দীর্ঘ তন্ত্র ঘোড়া
কবি— নিমাই জানা
পর্যালোচক— খগেশ্বর দাস
"আঙ্গিক সর্বস্ব দুর্বল কবিতা পাঠকের মনে কোনো অভিঘাত সৃষ্টি করে না। আঙ্গিক, অভিধায়, ভাব ও ব্যঞ্জনায় কবিতা হবে প্রাজ্ঞ, মেধাবী। শব্দের উল্লম্ফন নয়, কবিতা হবে শব্দের সুগন্ধে ও অর্থে প্রাণবন্ত।"
[কবির নাম না-জেনে
শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
কৃষ্ণ পলাশী থেকে হেঁটে আসা
একটা পুরুষ লাল আগুনের চারপাশে বসে থেকে ক্রমশ ক্ষুধার্ত হয়ে যাচ্ছে মধ্য দুপুর
প্রহরের নন কিউরেবল গনোরিয়া আক্রান্ত লাল অপরাজিতার ধ্বজভঙ্গ যোনিছিদ্রের মতো
মারকিউরাস নাইট্রেটের মতো
রক্ত ওঠা পিত্তথলির ভেতরে জমে থাকা পাথরের শিথিল পাগুলো নিউক্লিওলাসের ভেতরে
চিৎকার ওঠা শ্মশানের ক্রন্দনভূমি ছেড়ে যারা নীল দ্রাঘিমার দিকে মুখ করে সংক্ষিপ্ত
জলে ডুবে উলঙ্গ স্নান করে তাদের আর কোনো শবাসন চিহ্ন নেই
রাতেই শুধু সকলের ধমনীর
রক্তের নীল ঘোড়াগুলো দৌড় থামিয়ে দিলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়, আমি পৃথিবীর
মতো এক তৃতীয়াংশ আস্তিক্য মুনিদের এক একটা জরা চিহ্ন ভেদ করে নীল ব্রহ্মাসন রোপন
করি নিজেদের বিষাক্ত হোম কুণ্ডলী থেকে উদ্গত ধোঁয়ার ভেতর
আমাদের আর কোন বিষাক্ত দাঁত
নেই যা দিয়ে নিজের হিমাদ্রির মতো ফুটে ওঠা স্তনগ্রন্থিগুলো কেটে কেটে ল্যাক্টেশান
নারীর চারপাশে পিঁপড়েদের মহাভোজ বসিয়ে দেয়, মাথায় জমে থাকা অদৃশ্য
স্নায়ুতন্ত্রের পাললিক খনিজ খুঁড়ে খুঁড়ে দুটো সাদা নয়নতারার চারা লাগাই কফ
ওষুধের মতো
একটা নারী অসংখ্য কুচু কুচু
মাংস খণ্ড টমেটো বীজ আর ডিমের ভেতরে থাকা অন্তক্ষরার পাকস্থলী বমি উগরে দেওয়া
একটা কাগজ ফুলের মতো স্বচ্ছ অথচ অবৈধ এগরোল জড়িয়ে দিচ্ছে সঙ্গম সেরে আসা আঁশটে
মৎস্যজীবীদের, সালফিউরাস জলে ডোবা আমার দুই হাতে বেনজিন দাঁতের মতো বিষাক্ত আগুন প্রহরের
নীল আগুনে হত্যা করছি কালো স্তনের ময়ূরীদের
কবিতার মতো কিন্তু—
বাংলা সাহিত্যে এখন সহস্র
রচনা আপাত কবিতার মতো, কবিতার বিভ্রম
ছড়িয়ে মনোজগৎ তছনছ করতে চায়। হাসায়,
কাঁদায়
ঘিনঘিন রসাতলে টেনে নিয়ে যায়। যেহেতু কবিতা ভালবাসি, কবিতা পড়তে চাই,
বুঝতে চাই, খুলতে চাই কবিতার রহস্য জানালা। সব কি খুলতে পারা যায়, না কি খুলতে দেওয়া হয়? কিছু কিছু কবিতায় খোলামেলা যৌন শব্দ,
কিছু
কিছু শব্দবন্ধ নর্দমার পুতিগন্ধ মাখা।
আঙ্গিক সর্বস্ব দুর্বল কবিতা
পাঠকের মনে কোনো অভিঘাত সৃষ্টি করে না। আঙ্গিক, অভিধায়, ভাব ও ব্যঞ্জনায় কবিতা হবে
প্রাজ্ঞ, মেধাবী। শব্দের উল্লম্ফন নয়, কবিতা হবে শব্দের সুগন্ধে ও অর্থে প্রাণবন্ত।
বাতায়নের সম্পাদক আমাকে
কবিতা পাঠিয়েছেন আলোচনার জন্য। আমি আলোচক নই। সামান্য কবিতা শ্রমিক। আমার
ব্যক্তিগত ভাল লাগা, খারাপ লাগা জানাতে
পারি শুধু।
কবিতার নামকরণ অর্থহীন
অপরিচ্ছন্ন "লাল কৃষ্ণ পলাশের পিত্ত ওঠা মানুষ ও কিছু দীর্ঘ তন্ত্র
ঘোড়া" এমন হেঁয়ালি পূর্ণ শব্দবন্ধে কিম্ভূত রহস্য নির্মাণের চেষ্টা। যে
অপরিচ্ছন্ন বিকৃত রুচির পদবন্ধে, চার স্তবকে সাজানো
কবিতার মতো শব্দ শরীর থেকে প্রলাপ আর দুর্গন্ধ, শ্লেষ ও বিরাগ ছাড়া নান্দনিক বা বৈপ্লবিক কোন চিহ্ন খুঁজে পাইনি আমি।
এরকম কবিতার সঙ্গে বাংলা সহিত্যের
পরিচয় ঘটেছিল হাংরীর কিছু উদ্ধত উশৃঙ্খল যুবকের হাত ধরে এই কবিতা সেই অবনমনের
চিহ্ন বহন করে।
অপরিচ্ছন্ন হলেও, বিকৃতি নির্মাণের একধরনের স্মার্ট ভাষা রপ্ত আছে কবির।
সমাজে অস্বচ্ছ চেতনার ইন্ধন
যোগাতে এধরনের কবিতা সহায়ক হবে। কারো কারো কাছে আদরিনীও হতে পারে বলে আমার
বিশ্বাস।
No comments:
Post a Comment