বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
অর্পিতা দাস
ক্ষণিকের
অতিথি
"কেমন যেন মায়া পড়ে যায় সুমন্তর। অলিখিত ভাবে জুড়ে যায় কেয়ার সাথে।"
আপাদমস্তক ভেজা শরীরে ব্যাগ
হাতে দরজায় দাঁড়ায় সুমন্ত। ভেতরের ঘর থেকে অন্যরকম একটা গলার আওয়াজ আসছে। কেয়া
রান্নাঘরে একমনে রান্না করছে। সুমন্ত দরজায় হেলান দিয়ে,
-কেউ এসেছে নাকি?
কেয়া খুন্তি নাড়তে নাড়তে,
-সোম এসেছে।
সুমন্তর সারা গায়ে যেন
বিদ্যুৎ খেলে গেল। কেয়া চা-এর কাপ সাজিয়ে ভিতরের ঘরে যেতে যেতে,
-তুমি খাবে চা?
সুমন্ত মাথা নাড়ে।
কদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি
চলছে। তবুও আজ যেহেতু ছুটির দিন সক্কাল-সক্কাল বাজারে যায়। ছুটির দিন মানেই জমিয়ে
খাওয়াদাওয়া, জ্ঞান হওয়া অবধি এই
কথাটাই জেনে এসেছে তিতলি। সেই ছন্দেই বাঁধা পড়েছে সুমন্তর জীবন। বন্ধুরা অনেক
বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।
তিনকুলে কেউ নেই ছেলেটার। তাই
আপন ভেবে কেউ কিছু বললেই তাকে আঁকড়ে ধরে। আড়াই মাসের বাচ্চা কোলে শ্বশুরবাড়ি
থেকে ফিরে এসেছে কেয়া। টানাটানির সংসারে বাপের ঘরেও ফেলনার মতো।
পাশেই ইলেকট্রনিক্স-এর দোকান
সুমন্তর। কেয়া মাঝে মাঝে দোকানে এসে বসে। দুঃখের কথা বলে। কেমন যেন মায়া পড়ে যায়
সুমন্তর। অলিখিত ভাবে জুড়ে যায় কেয়ার সাথে। সুমন্তর হাত ধরে সংসারের টানাটানিও
ফুরিয়ে আসে। সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিতলিও বড় হয়ে ওঠে।
ফিরে আসে কেয়া। সুমন্তর দিকে
তাকিয়ে, মানুষটা একদম ভাল নেই, শরীরটাও ভেঙে পড়েছে। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, সুমন্তর ভেতরেও তুমুল ঝড়বাদল। পড়ার ঘর থেকে ছুটে
এসে তিতলি,
-নতুনকাকু, মা বলেছে আমরা চলে
যাব। বাবা আমাদের নিতে এসেছে।
সুমন্ত কোনো কথা না বলে
বেরিয়ে আসে। বৃষ্টিধারার সাথে পথ চলতে চলতে ঝাপসা হয়ে আসে সমস্ত পৃথিবী।
~~000~~

No comments:
Post a Comment