বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/নাটক/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | নাটক
মোহাম্মদ
বিন এমদাদ
পান্তা-ইলিশের
বাইরে
"ঠিক বলেছিস তপু। আজ মেলা থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। আব্বা, আজ আমরা ঘরের রান্না করা খাবারই খাব। পান্তা-ইলিশের চেয়ে এই শান্তি অনেক বেশি।"
চরিত্র:
১. জাকির: অবসরপ্রাপ্ত স্কুল
শিক্ষক।
২. রনি: জাকির সাহেবের ছেলে, কর্পোরেট চাকরিজীবী।
৩. তপু: জাকির সাহেবের নাতি।
(চৈত্র মাসের শেষ বিকেল। গ্রামের বাড়ির বারান্দা। চারদিকে
উদাস করা বাতাস বইছে। জাকির সাহেব ইজি চেয়ারে বসে আছেন। রনি ঢাকা থেকে এসেছে
নববর্ষ পালন করতে। তপু ফোনে গেম খেলছে।)
জাকির: (লম্বা শ্বাস নিয়ে)
শুনছিস রনি? এই বাতাসের নামই হলো চৈতি
হাওয়া। গা জুড়িয়ে যায় একেবারে।
রনি: (ফোনের দিকে তাকিয়ে)
আব্বা, এসব তো রোমান্টিক কবিদের কথা।
ঢাকা থাকলে বুঝতেন বাতাস কত প্রকার! ওখানে এখন প্রচণ্ড ধুলো আর গরম।
আমরা ভাবছি কাল সকালেই তপুকে নিয়ে কোনো একটা মেলায় যাব। ও পান্তা-ইলিশ খেতে
চেয়েছিল।
জাকির: নববর্ষ মানে কি শুধু
খাবার আর মেলা রে? আমাদের সময় চৈত্র
সংক্রান্তিতে কি হতো জানিস? বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার
করা, তেতো শাক খাওয়া, মানুষের সাথে কোলাকুলি...।
দৃশ্য: ২
(পরদিন নববর্ষের সকাল। তপু পাঞ্জাবি পরে তৈরি। রনি ব্যাগ
গুছাচ্ছে মেলায় যাওয়ার জন্য। জাকির সাহেব বারান্দায় এক কোণে একটা মাটির সানকিতে
পানি নিয়ে বসে আছেন।)
তপু: দাদু, তুমি যাবে না আমাদের সাথে? মেলায় নাকি অনেক রাইড আছে!
জাকির: না রে দাদু ভাই, তোরা যা। আমার মেলা এই বারান্দাতেই। তবে যাওয়ার আগে আমার
সাথে এক মগ শরবত খেয়ে যা।
রনি: আব্বা, মেলায় কত ড্রিঙ্কস পাওয়া যাবে। আপনি কষ্ট করছেন কেন?
জাকির: এটা গুড় আর বেলের
শরবত। আগেকার দিনে নববর্ষে শরবত খাওয়ানোর একটা রীতি ছিল। এটা কেবল তৃষ্ণা মেটানোর
জন্য নয়, এটা হলো সম্পর্কের মিষ্টতা
বাড়ানোর উৎসব।
দৃশ্য: ৩
(রনি আর তপু শরবতের গ্লাস হাতে নিল। চুমুক দিতেই রনির
চেহারায় একটা পুরনো স্মৃতির রেখা ফুটে উঠল।)
রনি: (অবাক হয়ে) আব্বা! এই
স্বাদটা একদম মা যেমন বানাতেন তেমন হয়েছে। কত বছর পর এমন শরবত খেলাম!
জাকির: (হেসে) উৎসব মানে নতুন
বছরকে বরণ করা ঠিক আছে, কিন্তু উৎসবের আসল
প্রাণ হলো শিকড়কে মনে রাখা। এই যে তুই আজ শহর থেকে গ্রামে আসলি, এটাই নববর্ষের সার্থকতা। খাবারদাবার তো উপলক্ষ্য মাত্র।
তপু: দাদু, আমি মেলায় গিয়ে তোমার জন্য একটা মাটির বাঁশি কিনে আনব। আমরা
বিকেলে সবাই মিলে এই বারান্দায় বসে তোমার সেই সব পুরনো দিনের গল্প শুনব।
রনি: (আবেগপ্রবণ হয়ে) ঠিক
বলেছিস তপু। আজ মেলা থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। আব্বা, আজ আমরা ঘরের রান্না করা খাবারই খাব। পান্তা-ইলিশের চেয়ে এই শান্তি অনেক বেশি।
(বাইরে নববর্ষের গান শোনা যাচ্ছে। চৈতি হাওয়া এসে বারান্দার
পর্দা দোলাচ্ছে। তিন প্রজন্ম মিলে হাসিমুখে একে অপরের হাত ধরে আছে।)
যবনিকা

No comments:
Post a Comment